রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী নড়াই নদীর অস্তিত্ব জানান দেওয়া নামফলকটি চুরি হওয়ার ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পরিবেশ ও নদী রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় নোঙর বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সুমন শামস এ সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডির পর রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ কুমার ঘোষকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেন।
নামফলকটি চুরি করে নদী ও পরিবেশের ওপর পরিকল্পিত আঘাত করা হয়েছে। এটি দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘নোঙর বাংলাদেশ’।
২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে মানববন্ধন ও নৌ-র্যালি করা হয়েছিল। তখন দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও নদীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে এই নামফলকটি স্থাপন করা হয়, যা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নদী রক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে ছিল। কিন্তু গত ২৬ জুন সকাল ১০টার পর থেকে সাইনবোর্ডটি আর নির্দিষ্ট স্থানে দেখা যাচ্ছে না।
পরিবেশবাদীদের ধারণা, নড়াই নদীর অস্তিত্ব মুছে ফেলা এবং নদী দখলের হীন উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি নদীর নামফলক উপড়ে ফেলার অর্থ হলো- নদীটির নাম ও ইতিহাসকে সমাজ থেকে আড়াল করে দেওয়া, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি জরুরি আহ্বান ও নড়াই নদী রক্ষায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, ‘নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরি নয়, এটি আমাদের নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। নদীখেকো চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই চুরির নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করা হোক এবং নদীর সীমানা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
খাদিজা রুমি/