টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নগরীর চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলীর বিভিন্ন আড়ত, গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা ও পণ্যবাহী যান চলাচল কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রি হ্রাস পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া তুলনামূলক ভালো থাকলেও আশানুরূপ বেচাবিক্রি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে শিগগিরই পণ্যের সরবরাহ আরও বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায় গতি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই ও পাহাড়তলী বাজারের বিভিন্ন আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ৯ দিনের ভারী বর্ষণে এই পাইকারি বাজাগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। এসব এলাকার দোকাগুলোতে পানি প্রবেশ না করায় মালামালের ক্ষতি না হলেও ভারী বর্ষণে ক্রেতার আনাগোনা কম। যার কারণে অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। বেচাবিক্রি না হওয়ায় এসব পাইকারি বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়েনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় চাক্তাই, খাতুনগঞ্জে দেখা গেছে ট্রাকের সারি। আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্য। শ্রমিকরা গাড়ি থেকে পণ্য নামিয়ে আড়তে রাখছেন। ব্যবসায়ীরাও পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহে রেখেছেন। তবে ক্রেতার আনাগোনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম থাকায় এখনো বেচাবিক্রি জমে ওঠেনি।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আদা, রসুন ও পেঁয়াজের সরবরাহও একটু কম। তবে বেচাবিক্রি কম থাকায় এসব পণ্যের দামও বাড়েনি।
তবে নগরীর চাক্তাই এলাকার লবণ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান লাল মিয়া সল্টের স্বত্বাধিকারী মো. আসাদ আসিফ খবরের কাগজকে বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে বেচাবিক্রি তুলনামূলক কম হয়েছে। এখন আবহাওয়া পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। দেখা যাক কী হয়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতা হয়নি। ভোগ্যপণ্যও নষ্ট হয়নি। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় বেচাকেনা একেবারেই হয়নি। বর্তমানে সরবরাহও পর্যাপ্ত রয়েছে। ভোগ্যপণ্যের দামও বাড়েনি। আজকে থেকে আবহাওয়া ভালো দেখা যাচ্ছে। ভারী বর্ষণ নেই। আশা করছি ক্রেতা সমাগম বাড়বে।’
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রেজা খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাহাড়তলী বাজারটি উঁচু জায়গায় হওয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। কিন্তু খারাপ পরিস্থিতির কারণে বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়েছিল। এখনো তাই। তবে আজ থেকে যেহেতু পরিস্থিতি ভালো দেখা যাচ্ছে, আশা করছি, আস্তে আস্তে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে। পণ্যের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।’