ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ উদ্বোধন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন ডে-কেয়ার নয়, শিশুদের সময় দিন ইবিতে প্রধান ফটকের সামনে স্পিডব্রেকার প্রয়োজন তৃতীয় বিয়ে করলেন ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার ডায়েরিজ’ তারকা পল ওয়েসলি দুর্নীতির প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের হিসাব-নিকাশ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও হেফাজতের আবির্ভাব আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল যমুনা ইলেকট্রনিক্স বিস্কুট খাওয়ানোর প্রলোভনে দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অভিনয় শিল্পী সংঘের মধ্যে স্বাস্থ্যচুক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলেন শিক্ষার্থীরা শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন শুক্রবার তিন দফা দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল সব কেড়ে নিয়ে রেখে গেল শুধু ক্ষত অনলাইনে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণরা ইউক্রেনে ৩ টন ওজনের বোমা ফেলল রাশিয়া, ভাইরাল ভিডিও বন্যায় সবচেয়ে বেশি জরুরি শিশু সুরক্ষা সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই সাধারণ নয়: ম্যারাডোনা জুনিয়র হামে আরও ৭ প্রাণহানি, উদ্বেগ বাড়ছে মেসির শতভাগ জয়ের রেফারি এবার ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর কানসাসকে ধন্যবাদ জানালো মেসি জুলাই আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত, নতুন গণআন্দোলনের ইঙ্গিত জিএম কাদেরের

বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম
আহত মাদরাসাছাত্র আল-রাফি। ছবি: খবরের কাগজ

সাত বছরের ছোট্ট আল-রাফির জীবনে মায়ের স্নেহ নেই। সেই শূন্যতা নিয়েই বাবার হাত ধরে তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় বাবা তাকে ভর্তি করেছিলেন স্থানীয় এক মাদরাসায়। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে আদর, শিক্ষা আর মানবিকতা পাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই সে ফিরে এল কান্না, ফুলে যাওয়া হাত আর ভয়াবহ মানসিক আতঙ্ক নিয়ে।

অভিযোগ উঠেছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। বেত্রাঘাতে আল-রাফির (৭) বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে তারই বেতের আঘাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে। ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আল-রাফির বাবা মো. মিজানুর রহমান।

শিশুটির বাবা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও ছেলে মাদরাসায় গিয়েছিল। কিন্তু সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। আর এসেই বলে আমি আর জীবনে মাদরাসায় যাবো না। পরে ছেলে আমাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে দেখি ছেলের বাম হাত ফুলে গেছে, সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। আর পিঠে বেতের আঘাতে দাগ হয়ে গেছে। পরে দ্রুত মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।

আল-রাফি জানায়, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন এবং গালে একটি থাপ্পড় দেন। ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে বলা হয়, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের আগে সেটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও মারধর করা হবে।

এ ঘটনার পর শিশুটি শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে বলে জানান তার বাবা। এখন মাদরাসার নাম শুনলেই সে ভয় পায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

আল রাফির দাদা ও দাদির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমার নাতিটি মা-হারা। পড়া না পারায় তাকে এমনভাবে পিটিয়েছে যে হাতের হাড় ফেটে গেছে। মারধরের পর যাতে সে কান্না করতে না পারে, সেজন্য মুখে কলম গুঁজে দিয়েছিল। এলাকার মুরুব্বি ও মাদরাসার কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষককে পালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। আর কোনো শিশুকে যেন এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। ওর দিকে তাকালেই কান্নায় বুকটা ফেটে যায়।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলেটি পড়ার সময় অমনোযোগী ছিল। তাই তাকে দুটি বাড়ি দিয়েছি। একটি হাতে লেগেছে, আরেকটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লেগেছে। তখন বুঝতে পারিনি, পরে শুনেছি হাতের হাড় ফেটে গেছে। এটা আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক ঘটনাটিকে অন্যায় স্বীকার করে বলেন, ‘আব্দুল্লাহ হুজুর নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। আগামী শুক্রবার বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। বিচার শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মামলা করার জন্য তাদেরকে আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনও আসেনি। তারা আসলে মামলা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আসাদ/নাঈম

বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর...

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
বোদায় বিস্কুটের প্রলোভনে দুই শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ, তারপর...
আটক আসামি মো. আমিনুল। ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুটি শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আমিনুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত আমিনুলকে গ্রেপ্তার করেছে বোদা থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী দুই শিশু তার প্রতিবেশী ছিল। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুরা অভিযুক্ত আমিনুলকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। এই সুবাদে তারা মাঝেমধ্যে আমিনুলের বাড়িতে খেলতে যেত। বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা কেউ না থাকার সুযোগে আমিনুল কৌশলে বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুদের বিভিন্ন সময়ে নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করতেন এবং ঘটনার পর শিশুদের কান্না করতে নিষেধ করতেন। শিশুরা যদি এ ঘটনা কাউকে জানায় তাহলে শিশুদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন।

গত শুক্রবার ও শনিবার ৬ বছর বয়সী শিশুকে এবং রবিবার একইভাবে ৫ বছর বয়সী অন্য শিশুকে ধর্ষণ করেন আমিনুল।

ভুক্তভোগী এক শিশুর বড় আম্মা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, শিশু দুটিকে অস্বাভাবিক কান্না করতে দেখে তিনি কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তখন ৬ বছর বয়সী শিশুটি ভয়ে কিছুই বলতে না পেরে শুধু কাঁদছিল। এরপর পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানো হয় এবং পরে তাদের চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাছুদ হাসান বলেন, গত রাতে দুটি শিশুকে তাদের পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক পরীক্ষার সময় শিশুদের শরীরে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। শিশু দুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলামকে আটক করেছি। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলার এজহার দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

রনি/নাঈম

দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
দাউদকান্দিতে হত্যা মামলার  ৪ আসামি গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার চারজন/ খবরের কাগজ

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মকবুল হোসেন ( ৫৪) হত্যা মামলার চার আসামিকে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম  থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল সোমবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), মো. বাবু মিয়া (২২), মোছাম্মৎ শাহানারা বেগম (৩৮),  মো. হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২৩ জুন সকালে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কুশিয়ারা গ্রামের মো. ইকবাল হোসেনের বসত ঘরের সামনে জায়গা জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. মকবুল হোসেনকে বিবাদীরা মারধর করেন। গুরুতর জখম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মকবুল হোসেন মারা যান।

এর পরে ২৭ জুন মকবুল হোসেনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন।

লিটন সরকার/তামান্না রুপা/

বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
বরগুনায় নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার
নিহত শিপন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধারের সময় স্থানীয়দের ভীড়/ খবরের কাগজ

বরগুনায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে শিপন হাওলাদার (২৫) নামে এক যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের আমড়াঝুড়ি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শিপন হাওলাদারের বাড়ির দক্ষিণ দিকের বেতঝোপে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। কাছে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিপন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।

মহিউদ্দিন অপু/তামান্না রুপা/

‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ এএম
‎সাঁথিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে রফাদফা
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার সাঁথিয়ায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ধর্ষক মহব্বত আলী খাঁকে (৫৫) ২০ ঘা জুতার বাড়ি দিয়ে অব্যাহতি দিয়েছেন গ্রামের প্রধানরা।  

‎স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর ২টার দিকে  প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মহব্বত আলী ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মহব্বতকে হাতেনাতে ধরেন।

রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম এলাকার হাঁড়িয়াকাহন এলাকার বাসিন্দা। 

প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ২০ ঘা জুতা পেটানোর শাস্তি দিয়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি  আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সন্ধার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়।

একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ধরনের বিরোধে না জড়ানোর নির্দেশ দিয়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

অভিযুক্ত মহব্বত আলীকে গুনে গুনে জুতার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সালিশকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। ‎তবে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে থানায় মামলা না করে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ’ঘটনাটি নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আমিনুল জুয়েল/খাদিজা রুমি/

সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম
সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ
ধর্ষক

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ।

শিশুটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি আছে। 

অভিযুক্ত কিশোর আহসান উল্লাহ পলাতক। সে একই এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুলাই বিকেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করার পর শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির খোঁজখবর ও তথ্য নিতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ সময় জানানো হয়, পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢোকা নিষেধ। তবে হাসপাতালের পরিচালকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহাকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি না দিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

হাসপাতাল প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় উপস্থিত মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের ভয়াবহতার তথ্য লুকাতেই কর্তৃপক্ষ এমন লুকোচুরি ও পেশাগত দায়িত্বে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​অন্যদিকে, গুরুতর আহত সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারের আশায় সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় হাজির হয় শিশুটির মা। এ সময় অভিযুক্ত আহসান উল্লাহকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা, চাচা ও প্রতিবেশীরাও থানার সামনে অবস্থান নেয়।

​ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'স্বদেশ'। সংগঠনের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ’গতকাল ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা পরিবারটির খোঁজখবর রাখছি। শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে। আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

নাজমুল জাকির/খাদিজা রুমি/