বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আজ (১৫ জুলাই) রাতে ডালাসে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী দল নিশ্চিত করবে ফাইনালের টিকিট। পৌঁছে যাবে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ের শেষ ধাপে। এমন মহারণের আগে আত্মবিশ্বাস, সতর্কতা এবং শিরোপার স্বপ্ন– এই তিন বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা শিবিরের প্রতিটি কণ্ঠে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে দারুণ ছন্দে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে ইংল্যান্ডকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন কোচ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা।
দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘এখনো আমাদের কাজ শেষ হয়নি। সেমিফাইনালে ওঠা অবশ্যই বড় অর্জন, কিন্তু দলের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। আমরা কঠিন পথ পেরিয়ে এখানে এসেছি। ইংল্যান্ড অসাধারণ একটি দল। তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে। খেলোয়াড়রা দারুণ মনোভাব দেখিয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের কাজ শেষ হয়নি।’ স্কালোনি আরও বলেন, ‘নকআউট পর্বে ছোট ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাই দলকে মানসিকভাবে শান্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে হবে।’
দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই এখন একটি ফাইনাল।’ তিনি কোয়ার্টার ফাইনালের পরই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে কোনো প্রতিপক্ষকে সহজ ভাবার সুযোগ নেই। মেসি বলেন, ‘এই দলের অর্জনগুলো স্বাভাবিক নয়। আমরা অনেক বছর ধরে একসঙ্গে লড়াই করছি। এখন প্রতিটি ম্যাচই একটি ফাইনালের মতো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের ধৈর্য ধরে খেলতে হবে এবং নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা মেসি আরও বলেন, ‘এই জার্সি পরে মাঠে নামা সব সময়ই বিশেষ অনুভূতি। আমরা দেশের মানুষকে আরেকটি আনন্দ দিতে চাই।’ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের মতে, আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। তার বিশ্বাস, নকআউট ম্যাচে আত্মবিশ্বাসই পার্থক্য গড়ে দেয়, ‘আমরা জানি ইংল্যান্ড কতটা শক্তিশালী। কিন্তু আমরাও নিজেদের সামর্থ্য জানি। পুরো দল একে অপরের জন্য লড়ছে। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রিগো দি পল বলেন, ‘লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ বারবার আসে না। আমরা জানি কী ধরনের ম্যাচ আমাদের অপেক্ষায় আছে। মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেব।’
আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জুলিয়ান আলভারেজ বলেন, সুযোগ পেলেই আঘাত করতে হবে। ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে খুব বেশি সুযোগ পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে এক বা দুটি সুযোগই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। তাই সুযোগ তৈরি করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেটিকে গোলে পরিণত করাও জরুরি।’
এনজো ফার্নান্দেজ বলেন, মাঝমাঠের লড়াই হবে ম্যাচের নির্ণায়ক। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে মাঝমাঠের ওপর। যে দল মাঝমাঠে আধিপত্য করবে, তারাই ম্যাচে এগিয়ে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিজেদের ছন্দে খেলা।’
ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা বলেন, ‘সবার লক্ষ্য এক। আমাদের দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের দুর্দান্ত সমন্বয় রয়েছে। সবাই জানে দায়িত্ব কী। এখন একটাই লক্ষ্য– ফাইনালে ওঠা।’
সব মিলিয়ে, আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন একটাই বিশ্বাস– বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন এখনো জীবন্ত। কোচ স্কালোনি কৌশলগত শৃঙ্খলার কথা বলছেন, অধিনায়ক মেসি বলছেন ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার কথা, আর সতীর্থরা বারবার তুলে ধরছেন দলীয় ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বহু স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী আর্জেন্টিনা। সেই ইতিহাসে নতুন একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করার লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।