ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল পাস শাবিপ্রবির আশরাফুলের জন্য চ্যারিটি রান আখাউড়ায় নতুন বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে খুনসুটি, বদলি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য, শিশুর পা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার ‘নকল ডিম-চাল ও কেমিক্যালে পাকানো ফল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ’ সোনারগাঁয়ে ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ফল উৎসব অনুষ্ঠিত ইবির প্রধান ফটকে জুলাইয়ের স্মৃতি যা আছে তাই থাকবে: ইবি ভিসি সাতকানিয়ায় সুপারি গাছ থেকে অজগর ও ঘর থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার এআইয়ের প্রভাবে বাড়ল মাইক্রোসফটের কার্বন নিঃসরণ রাজশাহীতে বাস চলাচল স্বাভাবিক, স্বস্তি যাত্রীদের রাজারহাটে সরকারি রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল জিন্নাত আলীর জলাবদ্ধ রাস্তায় গাড়ি-বাইক চালাবেন যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে কেউ ইট নিক্ষেপ করেনি: মাদারীপুর পুলিশ সুপার ভেজাল খাদ্য শনাক্তে জেলাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ল্যাবভ্যান চালু হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে কী করবেন ঢাবি অ্যালামনাই ১৯৯৯ থেকে ২০০০-এর রজত জয়ন্তীর প্রস্তুতি শুরু এনভিডিয়া উন্মোচন করল জিফোর্স ট্রেডিং কার্ডস পূর্বাচল ভ্যালিতে দ্বিতীয় ধাপের প্লট হস্তান্তর সম্পন্ন, আস্থার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন স্থগিত পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর দেশে বিওয়াইডির ১ হাজারের বেশি নিউ এনার্জি ভেহিকেল বিক্রির মাইলফলক খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘হেলথ ফেস্ট ২০২৬’ উদ্বোধন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেতের আঘাতে ফেটে গেল শিশুর হাত, কান্না থামাতে মুখে কলম বন্যাদুর্গত এলাকায় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য উপদেষ্টা এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫জন ডে-কেয়ার নয়, শিশুদের সময় দিন

‘নকল ডিম-চাল ও কেমিক্যালে পাকানো ফল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ’

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
‘নকল ডিম-চাল ও কেমিক্যালে পাকানো ফল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ’
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল, কেমিক্যালে পাকানো ফল এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো খাদ্যপণ্যের বিস্তার নিয়ে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে তিনি খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, শাকসবজি ও শিশুখাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক, ফরমালিন ও ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার মহামারি আকার ধারণ করেছে।’

বাজারে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল এবং কেমিক্যালে পাকানো ফলও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘এসব ভেজাল খাদ্যের কারণে ক্যানসার, কিডনি বিকল ও লিভারের মতো জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আইন থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দেওয়া আর মানুষকে নীরবে হত্যা করা একই কথা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি দেশব্যাপী খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের জরুরি কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সংসদে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি।’

এলিস/রিফাত/

কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আছিয়া আক্তার মিম (২৫) নামে এক শিক্ষার্থী (গৃহবধূ) আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বামী ইমামুল ইসলাম জানান, আমাদের এক মাস আগে বিয়ে হয়েছে। মিমদের নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছিল। আমি সেখানে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। বিকেলে কাজ শেষে বাসায় ফিরে তার মায়ের কাছে মিমের কথা জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, মিম খাবার খেয়ে রুমে গেছে। এরপর আমি বাসার দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে মিমকে কোথাও দেখতে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করি। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখি রুমটি ভেতর থেকে লক করা। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় সেটি ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি, মিম সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নিহত আছিয়া আক্তার মিম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত মনিরুজ্জামান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

আজিজুল হাকিম/রিফাত/

‘নকল ডিম-চাল ও কেমিক্যালে পাকানো ফল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ’

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
‘নকল ডিম-চাল ও কেমিক্যালে পাকানো ফল নিয়ে সংসদে উদ্বেগ’
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল, কেমিক্যালে পাকানো ফল এবং বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো খাদ্যপণ্যের বিস্তার নিয়ে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে তিনি খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, শাকসবজি ও শিশুখাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক, ফরমালিন ও ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার মহামারি আকার ধারণ করেছে।’

বাজারে নকল ডিম, প্লাস্টিকের চাল এবং কেমিক্যালে পাকানো ফলও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘এসব ভেজাল খাদ্যের কারণে ক্যানসার, কিডনি বিকল ও লিভারের মতো জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আইন থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দেওয়া আর মানুষকে নীরবে হত্যা করা একই কথা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন, ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত এবং একটি শক্তিশালী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি দেশব্যাপী খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের জরুরি কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সংসদে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি।’

এলিস/রিফাত/

ভেজাল খাদ্য শনাক্তে জেলাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ল্যাবভ্যান চালু হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ভেজাল খাদ্য শনাক্তে জেলাভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ ল্যাবভ্যান চালু হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
সংসদে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী ভেজাল খাদ্য শনাক্ত এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ৬৪টি জেলায় ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভ্যানে আধুনিক মিনি ল্যাবরেটরি থাকবে, যার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, কৃষি, মৎস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৬৪ জেলা ও আট বিভাগীয় কার্যালয়ে ৭২টি মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। গত পাঁচ মাসে এসব ল্যাবে ৬ হাজার ৭৯৫টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চলতি বছরে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০টি নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আট বিভাগীয় শহরে আটটি মোবাইল ল্যাব ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে তাৎক্ষণিক ভেজাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রতিটি জেলার জন্য নতুন ৬৪টি ভ্রাম্যমাণ ল্যাব ভ্যান কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি বিভাগীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, মোংলা ও বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের বাধ্যতামূলক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

এলিস/এসএন

স্থগিত পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
স্থগিত পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষাগুলো নতুন প্রশ্নপত্র সেটে পুনরায় গ্রহণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে সম্প্রতি নিজের একটি ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে বন্যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং এ পরীক্ষাগুলো পুনরায় নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবি ও অভিযোগ জানালেও মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করার জন্য আমি কোনো কথা বলেননি। এই ব্যক্তিগত মন্তব্যে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন বা আহত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি।’

এসএন/

খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃৃহীত

দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত খেলার স্থান সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী। এই শক্তিশালী কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো বিদ্যমান খেলার মাঠ নেই, সেখানে ভবিষ্যতে মাঠ প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত কোনোভাবেই কৃষি জমি বিপন্ন করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বা গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি হতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে যুগান্তকারী অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আলী/রিফাত/