বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ বাতিল করে নতুন নামে বগুড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
নতুন আইনে বগুড়া জেলায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সমাজবিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাশাপাশি এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা ও দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া শিল্প, বাণিজ্য, সমাজ ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স চালুর সুযোগ থাকবে। অনলাইন দূরশিক্ষণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়েও এসব কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে কমিটির সুপারিশসহ মঙ্গলবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ ওই বছরের ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি চলমান থাকায় আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং এ অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এলিস/রিফাত/