মায়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চিকে নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তিনি আদৌ জীবিত কি না–সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। পরিবার, কূটনীতিক ও আঞ্চলিক নেতারা জান্তা সরকারের কাছে সু চির ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ দাবি করছেন।
৮১ বছর বয়সী সু চিকে সর্বশেষ ২০২২ সালের শেষ দিকে সামরিক আদালতে বিচারের সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে আটক করা হয় এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে তার আইনজীবীদেরও দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ এ দাবি উপস্থাপন করেছেন সু চির ছোট ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তারা জান্তা শাসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সু চির জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশ করতে বাধ্য করেন।
লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে অ্যারিস বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো তার মা কার্যত জনসাধারণ থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরে গেছেন।
গত মাসে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মায়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সু চির বিষয়টি উত্থাপন করেন। মে মাসে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপও জান্তা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানান। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি–সু চির নাম উঠলেই মিন অং হ্লাইং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
১২ জুলাই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সু চির নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কূটনীতিকদের মতে, সু চির অবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা বা তাকে দেখতে দেওয়ার মাধ্যমে মায়ানমার আসিয়ান ও জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে।
এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কাউকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সরকারের দাবি, তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু প্রমাণ হিসেবে তারা শুধু একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে একটি অজ্ঞাত ভবনের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
কিম অ্যারিস ছবিটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, এটি সাম্প্রতিক ছবি–এমন কোনো প্রমাণ নেই। এ ছাড়া যদি সত্যিই তাকে গৃহবন্দি করা হয়ে থাকে, তবে তিনি ইয়াঙ্গুনের পুরোনো বাসভবনে নেই। আর নেপিদোর বাসভবনটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করতে না পারায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কূটনীতিকের আশঙ্কা–মিন অং হ্লাইংয়ের ‘বেঁচে থাকার প্রমাণ’ দিতে অনীহা হয়তো ইঙ্গিত করছে যে, সু চি মারা গেছেন অথবা গুরুতর অসুস্থ। তবে সবাই এ ধারণার সঙ্গে একমত নন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া