আবহাওয়া অনুকূলে আসায় সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। পাশাপাশি বেড়েছে কনটেইনার ডেলিভারি।
গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। চলে ১২ জুলাই পর্যন্ত। সাগরের পরিস্থিতি ভাল না থাকায় গত ৬ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায় লাইটার জাহাজ চলাচল। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থমকে পড়ে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম। অপরদিকে বন্দরের জেটিও তলিয়ে যায় পানিতে। সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যবাহী পরিবহন। ফলে কনটেইনার ডেলিভারিসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বৈরি আবহাওয়ার কারণে বাধাগ্রস্থ হয়। বর্তমানে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিতে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ৯৫টি জাহাজ রয়েছে। এরমধ্যে ৬৭টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে বন্দরের ইয়ার্ডে ৪৬ হাজার ৩০২টি কনটেইনার রয়েছে। অপরদিকে ১৩ জুলাই বন্দর থেকে ২ হাজার ৬৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ১৪ জুলাই বেড়ে ৩ হাজার ৭১৩টি কনটেইনার বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে।
শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার হোসেন সাগর জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা পুরোদমে শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। এখন জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হচ্ছে। এসব জাহাজে আমদানিকৃত গম, অপরিশোধিত চিনি, সয়াবিন তেল তৈরীর কাঁচামাল, সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, রবিবার (১২ জুলাই) থেকেই লাইটার জাহাজগুলো কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেয়। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। যা চট্টগ্রামের ইতিহাসে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। নষ্ট হয়েছে নিচু এলাকার বাসাবাড়ির আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সব ধরণের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে। বর্তমানে আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে।
এসএন/