জুলাইকে সম্মান জানিয়ে ও শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুভূতিকে ধারণ করে “ইবির প্রধান ফটকে যা আছে তাই থাকবে” বলে নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপাচার্য বলেন, “একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক ইস্যু, অন্যদিকে বিষয়টা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুভূতিকে ধারণ করে প্রধান ফটকে জুলাই গ্রাফিতি যেভাবে আছে সেইভাবে অক্ষুণ্ন থাকবে। এর কোনো ধরনের পরিবর্তন হবে না।”
এর আগে, শিক্ষামন্ত্রীর আগমন ও ২০২৫-২৬ বর্ষের নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নতুন করে রং করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে দুই দফায় ছাত্রসংগঠন গুলোকে নিয়ে মিটিং করেন প্রক্টরিয়াল বডি। এদিকে রং করাকে কেন্দ্র করে জুলাই স্মৃতি মুছে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে গৃহীত সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে প্রশাসন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আন্দোলন শুধু সময়ের ঘটনাই নয়; এটি ছিল বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের এবং মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দলিল। সেই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং গণমানুষের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিশ্বাস, জুলাই কেবল একটি আবেগের নাম নয়; এটি গণমানুষের আত্মত্যাগের স্মারক এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক।
নিয়ামতুল্লাহ/নাঈম