কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের পরিবেশগত স্থায়িত্ব প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ অর্থবছরে তাদের কার্বন নিঃসরণ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে এআই ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুতের চাহিদাকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিকওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান মাইক্রোসফটের মূল পরিবেশগত লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দেয়, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা ‘কার্বন নেগেটিভ’ হবে। অর্থাৎ তারা যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন করবে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডল থেকে সরিয়ে নেবে। এই লক্ষ্য পূরণে আর মাত্র চার বছর বাকি থাকলেও এআইয়ের কারণে জ্বালানি, পানি ও ভূমির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেকসই সমাধানের প্রসার ঘটছে না।
তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখেও নিজেদের পরিবেশগত লক্ষ্য থেকে সরে আসতে রাজি নয় মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির চিফ সাস্টেইনেবিলিটি অফিসার মেলানি নাকাগাওয়া জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে তারা আগের মতো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে কার্বন নিঃসরণ বাড়ার পেছনে আরেকটি কাঠামোগত কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। মাইক্রোসফট সম্প্রতি ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি সনদ’ কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এর বদলে তারা সরাসরি কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, কৌশলগত এই পরিবর্তনের কারণে সাময়িকভাবে নিঃসরণ বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা পরিবেশের জন্য বেশি সুফল বয়ে আনবে।
নিঃসরণ বাড়লেও ২০২৫ অর্থবছরে বেশকিছু সফলতার কথাও জানিয়েছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, বিশ্বজুড়ে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের শতভাগ এখন নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি পানি শোধন করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছে তারা। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য অর্জনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল প্রযুক্তি জায়ান্টটি।