বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় লেখা হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ডালাসের এই মহারণকে ঘিরে দুই শিবিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। ইংল্যান্ড শিবিরে ভয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কোচ, অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়দের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে একই বার্তা– ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না থ্রি লায়ন্স।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ে জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত গোলে নিশ্চিত হয় তাদের সেমিফাইনাল। এবার সামনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল জানান, বড় ম্যাচ জিততেই আমরা এখানে এসেছি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে আমরাও এখানে শুধু সেমিফাইনাল খেলতে আসিনি। বড় ম্যাচ জিততে হবে, আর সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
টুখেলের মতে, ম্যাচের ফল নির্ধারণ করবে ছোট ছোট মুহূর্ত, তাই শৃঙ্খলা ও মনোযোগ ধরে রাখাই হবে দলের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেন, ‘ইতিহাস বদলানোর সুযোগ এখন। ইংল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার বিরল সুযোগ এসেছে। আমরা জানি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা কঠিন হবে। কিন্তু এই ধরনের ম্যাচ খেলতেই একজন ফুটবলার স্বপ্ন দেখে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দল ফাইনালে ওঠার সামর্থ্য রাখে। বিশ্বকাপ জিততে হলে সেরাদেরই হারাতে হবে। তাই এই চ্যালেঞ্জকে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’
জুড বেলিংহ্যাম ভয়ের কোনো দেখছেন না। কোয়ার্টার ফাইনালে জয়সূচক গোল করা ইংলিশ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘বড় দলের বিপক্ষে খেলতে ইংল্যান্ড প্রস্তুত। আর্জেন্টিনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা নিজেদের ফুটবলে বিশ্বাস করি। যদি নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তা হলে যে কাউকে হারানো সম্ভব।’
উইঙ্গার বুকায়ো সাকা বলেন, ‘সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সেমিফাইনালে সুযোগ খুব কম আসে। এ ধরনের ম্যাচে এক-দুটি সুযোগই পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই আক্রমণে যতটা কার্যকর হওয়া যায়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসের বিশ্বাস, ‘মাঝমাঠের লড়াই নির্ধারণ করবে ম্যাচ। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের জায়গা দেওয়া যাবে না। আমাদের শুরু থেকেই ছন্দ ধরে রাখতে হবে।’
ফিল ফোডেনের মতে, প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, নিজেদের ফুটবল থেকে সরে গেলে চলবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি, তা হলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ অবশ্যই থাকবে। অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বলেন, ‘রক্ষণে শতভাগ মনোযোগ রাখতে হবে। নকআউট ম্যাচে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় আছে। তাই পুরো দলকে একসঙ্গে রক্ষণে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই প্রস্তুত।’ অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জন স্টোনস মনে করেন, আর্জেন্টিনাকে শুধু লিওনেল মেসির দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, ‘মেসি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। কিন্তু আর্জেন্টিনার শক্তি শুধু একজন খেলোয়াড় নন। পুরো দলই দুর্দান্ত। তাই আমাদেরও দলগতভাবেই খেলতে হবে।’
ইংল্যান্ড শিবিরে এখন একটাই স্বপ্ন– ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপার আরও একধাপ কাছে পৌঁছানো। কোচ টুখেলের কৌশল, হ্যারি কেইনের নেতৃত্ব, বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত ফর্ম এবং তরুণ-অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে আত্মবিশ্বাসী থ্রি লায়ন্স। তাদের বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে বিশ্বকাপ ট্রফির পথও অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে যাবে।