ছবি: সংগৃহীত
বিরতি থেকে ফিরে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। তবে গোল হজমের পর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে অবশেষে জালের দেখা পায় তারা। এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ব্যবধান ২-১ করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধে খেলার চেয়ে যেন শারীরিক লড়াই-ই বেশি দেখা যায়। দুই দল মিলে করে ১৯টি ফাউল। অথচ গোলমুখে মাত্র চারটি শট নিতে পেরেছে তারা। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল কেবল একটি। তবে কোনো গোলের দেখা না পাওয়ায় প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ সমতায়।
বিরতি থেকে ফিরেই গোলরক্ষকের লম্বা কিক থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় সুযোগ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শট নেন আলভারেজ। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
ফিরে আসা বলে নেওয়া পরের প্রচেষ্টা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সাইড নেটে লাগে। তবে কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আক্রমণে উঠে প্রথম সাফল্য পায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্স নিখুঁত একটি ক্রস পাঠান বক্সে। দুর্দান্ত গতিতে দৌড়ে সেই বলের নাগাল পান অ্যান্থনি গর্ডন। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে নিচের কোণায় বল পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ৬১ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়।
এরপর বদলি নামা নিকোলাস গনজালেস দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু জন স্টোনস সেই সুযোগ নষ্ট করে দেন। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে গোলের বড় সুযোগটি আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ডান দিক থেকে লিওনেল মেসির পাঠানো ক্রস খুব কাছ থেকে হেড করেন গনসালেস। তবে ডান দিকে নিচের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসাধারণ দক্ষতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায় থ্রি-লায়ন্সরা।
এরপর আর্জেন্টিনার আরও একটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। রদ্রিগো ডি পলের ক্রস থেকে হেড নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তবে তার হেড ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। পরে অ্যালিস্টারের আরও একটি হেড পিকফোর্ডকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তাতে বড় সুযোগ হাতছাড়া হলে হতাশ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো। কর্নার থেকে আক্রমণে উঠে বক্সের ঠিক বাইরে বল পান তিনি। এরপর জোরালো শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। তাতে ১-১ সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনা।
এরপর যোগ করা সময়ে (৯০+২ মিনিট) আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। মেসির ক্রস খুব কাছে পেয়ে হেডে গোলটি করেন তিনি। তাতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এসজি/