বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান বলেছেন, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার করে ভ্যাট ও কর পরিশোধের মাধ্যমে আমরা রাজস্ব খাতে আরও বেশি অবদান রাখতে চাই। পাশাপাশি, জাতীয় অর্থনীতিতে স্বর্ণশিল্পকে একটি শক্তিশালী শিল্পখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করে বাজুস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখন থেকে বিদেশ থেকে হ্যান্ড ব্যাগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত স্বর্ণ দেশে আনা যাবে। একইভাবে, হ্যান্ড ব্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে স্বর্ণ রপ্তানিও করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা এই বাজেটে যা পেয়েছি, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই। আশা করছি এই মাসের মধ্যেই আমদানি ও রপ্তানির ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের একটি সুখবর দিতে পারব। আমরা সরকারকে অঙ্গীকার করেছি ; আমরা ভ্যাট দেব, আমরা ট্যাক্স দেব।’
চোরাচালান ও কালোবাজারি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনামুল হক খান বলেন, ‘স্বর্ণ কখনো স্মাগলিংয়ের পণ্য হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অসাধু কর্মকর্তা মিলে এখানে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সেটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।’
তিনি জানান, হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার মন্ত্রী পর্যায়ের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ খাতের উন্নয়নে বাজুসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
দেশের স্বর্ণশিল্পকে বিকশিত করে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাজুস কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বর্ণশিল্পের নতুন উদ্যোক্তারা যাতে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অনেকেই বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে বাজুসের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রনজিৎ ঘোষ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সমিত ঘোষ অপু, পরিচালক সুমন চন্দ্র দে, পরিচালক আলী হোসেন, পরিচালক আবদুল্লাহসহ সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় তিন শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও জুয়েলারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম সরকার/এএফ