ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া, দ্রুত আবেদন করুন ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে  ৩৯১ সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী: আসক হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক ইউনিট-২-এর যাত্রা শুরু ২৬ ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কমিটির সুপারিশ ডব্লিউইউবি-তে বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন নীল-সাদা জার্সির ভাঁজে সময় কুকুরের আতঙ্কে ইবির শিক্ষার্থীরা বহিষ্কারের মুখে আর্জেন্টিনা? ৭৮ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ রাস্তা কেন ভাগাড় হবে উচ্চশিক্ষার বিতর্কে করণীয় কী বাংলাদেশকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সড়ক অবরোধ পরীক্ষা না আন্দোলন: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত ২০০৫২ পরীক্ষার্থী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার নিয়ম উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা দল ‘ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের সেবায় রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং সেবা চালু হচ্ছে’ ভারতীয় রুপির চাহিদা ও বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক নির্ভরশীলতা একদিনে হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র চট্টগ্রামে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ বজ্রপাতের বিশ্বকাপ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, এবার ৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীরা গ্রাইন্ডারে কাটা হলো দরজা, প্রবাসীর বাড়িতে দুঃসাহসিক লুটপাট র‌্যাংগসএক্স ও ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশে নিয়ে এল ১৮ ইলেকট্রিক কার্গো ভ্যান জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজনে ঢাকা রিজেন্সির এক্সক্লুসিভ অফার রাকাবের মাধ্যমে ঋণমুক্ত ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবার পরশুরামে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ জলাবদ্ধতায় কেন্দ্র পরিবর্তন, বিকল্প কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা খাল খনন করে চট্টগ্রামবাসীকে বন্যামুক্ত করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

ভাঙনের নির্মম শিকার কাদের মিয়া, দোকানই এখন ঘর-সংসার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ভাঙনের নির্মম শিকার কাদের মিয়া, দোকানই এখন ঘর-সংসার
অসহায় কাদের মিয়া। ছবি: খবরের কাগজ

যমুনার ভাঙন শুধু জমি বা ঘরই কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় মানুষের নিরাপত্তা আর স্বপ্নও। সেই বাস্তবতারই এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি সিরাজগঞ্জের বেলকুচির কাদের মিয়া। নদীগর্ভে হারিয়েছেন বসতভিটা, জীবনের নানা প্রতিকূলতায় হারিয়েছেন স্বাভাবিক জীবনও। এখন বাজারের একটি ছোট চালের দোকানই তার জীবিকা, আবার সেটিই তার রাত কাটানোর একমাত্র আশ্রয়।

জানা গেছে, নদীভাঙনে নিজস্ব বসতভিটা হারানোর পর নতুন করে জীবন গড়ার আশায় শালদাইড় গ্রামে আশ্রয় নেন কাদের মিয়া। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ছেলে মালেককে বিদেশে পাঠান। কিন্তু অসুস্থ হয়ে ছেলে কোনো উপার্জন ছাড়াই দেশে ফিরে আসলে ঋণের বোঝা সামলাতে শেষ সম্বল বসতভিটাও বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। এর কিছুদিন পরই মারা যান তার সহধর্মিণী। এরপর থেকেই আরও অসহায় হয়ে পড়েন কাদের।

বর্তমানে সামান্য পুঁজিতে অন্যের কাছ থেকে এক-দুই বস্তা চাল এনে খুচরা বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দোকানে পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় ব্যবসাও বড় করতে পারছেন না। দিন শেষে সেই ছোট্ট দোকানই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাদের মিয়া বলেন, “নদী আমার ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে, ঋণের বোঝা শেষ সম্বলটুকুও নিয়ে গেছে। ছেলে অসুস্থ, স্ত্রীও আর নেই। এখন এই ছোট্ট দোকানেই দিন কাটাই, রাতেও এখানেই ঘুমাই। শেষ বয়সে শুধু মাথা গোঁজার মতো একটি স্থায়ী আশ্রয় চাই।”

স্থানীয়রা জানান, কাদের মিয়া একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঋণের বোঝা এবং পারিবারিক বিপর্যয়ে আজ তিনি অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে কাদের মিয়ার জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেষ বয়সে একটু নিরাপদ আশ্রয় আর শান্তিতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিটি দিন পার করছেন কাদের মিয়া। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো জীবনের শেষ অধ্যায়টি কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন এই অসহায় বৃদ্ধ।

আল-আমিন হোসেন/এসএন

বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সড়ক অবরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। 

বুধবার (১৫ জুলাই) পরীক্ষা শেষে নগরের নথুল্লাবাদ এলাকায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন। 

দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে বরিশালের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতাধিক পরীক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা ‘মিলন ভুয়া’, ‘এক দফা, এক দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে ফার্মের মুরগি’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম সংগ্রাম, সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

খবর পেয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তাদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়াননি।

অবরোধের কারণে বরিশালের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নে ভুল থাকা এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র আগের বছরের তুলনায় কঠিন হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষা নিতে হবে এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো স্থগিত রাখতে হবে।

সবুজ/রিফাত/

উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা দল

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা দল
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান মি. এলি মুডি-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। 

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, কিং সালমান রিলিফের কর্মসংস্থান ও জীবিকায়ন কর্মসূচির প্রধান মি. আদেল রহমান আল-মুতাহারি, সৌদি আরব ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি মি. করিম হাসান, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মি. মোস্তাফিজ আহমেদ।

দলটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫-এর ই/০৬ ব্লকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) অর্থায়নে পরিচালিত Fresh Food Valley Agriculture Project পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আধুনিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, সবজি চাষ, সেচ, বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত হন।

পরিদর্শনকালে তারা প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উপকারভোগীরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, আয় বৃদ্ধি, কৃষি দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রতিনিধি দল প্রকল্প বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষিভিত্তিক ও পুষ্টিনির্ভর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-২০ (বর্ধিত)-এর S2B2 ব্লকে UKaid-এর অর্থায়নে WFP পরিচালিত Community Aqua Culture প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে মাছ চাষ, সবজি উৎপাদন ও পোলট্রি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরে দুপুর ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তারা ক্যাম্প-২০ (বর্ধিত)-এর S3B1 ব্লকে IOM-এর অর্থায়নে কারিতাস বাংলাদেশ পরিচালিত Decentralized Wastewater Treatment System পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

দুপুর ২টা ৫ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত)-এর সিআইসি অফিসসংলগ্ন দরবার হলে সৌদি বাদশাহ কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের অর্থায়নে আইএসডিই (ISDE), বাংলাদেশ কর্তৃক এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দলটি দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সোহাগ/নাঈম

গ্রাইন্ডারে কাটা হলো দরজা, প্রবাসীর বাড়িতে দুঃসাহসিক লুটপাট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
গ্রাইন্ডারে কাটা হলো দরজা, প্রবাসীর বাড়িতে দুঃসাহসিক লুটপাট
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নে এক দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে ভোররাতে গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে দরজা কেটে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে একটি সংঘবদ্ধ দল। এ সময় ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ দুই নারী ৯৯৯-এ কল করলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
 
বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ইউনিয়নের ছাদেক নগর গ্রামের মোয়াজ্জেম কাজীর বাড়িতে প্রবাসী রিদুয়ানের ঘরে এই ঘটনা ঘটে।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোরে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের অধিকাংশেরই মাথায় হেলমেট পরা ছিল। তারা বাড়িতে ঢুকে প্রতিবেশীরা যাতে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য চারপাশের অন্য ঘরগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয়। এরপর তারা আধুনিক গ্রাইন্ডার মেশিন দিয়ে প্রবাসী রিদুয়ানের ঘরের দরজা ও জানালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
 
ঘরে থাকা প্রবাসীর মা রেনু আকতার এবং তার স্ত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। প্রাণভয়ে তারা পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। সেখান থেকেই তারা কৌশলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
 
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা রেনু আকতার বলেন, "তারা এসেই আমাদের মোবাইল কেড়ে নেয় এবং আশেপাশের সব ঘরে তালা মেরে আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। তারা আঘাত করতে এলে আমরা পাশের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করেছে। হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণ ও দামী জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে এবং ঘরের ইটের দেয়ালের দু'পাশ ভেঙে ফেলেছে।"
 
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, "ভোররাতে ৯৯৯ থেকে তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ নারীদের উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
 
নাজমুল আলম/এসএন
 

রাকাবের মাধ্যমে ঋণমুক্ত ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
রাকাবের মাধ্যমে ঋণমুক্ত ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবার
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মাধ্যমে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারকে ঋণমুক্ত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে রাকাব।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০টি কৃষক পরিবারের ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করেছে।

এর মধ্যে রংপুর বিভাগের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি কৃষক পরিবারের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার এবং রাজশাহী বিভাগের ৫০ হাজার ৬৫৫টি কৃষক পরিবারের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা নতুন করে কৃষিকাজে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।

রাকাব কর্তৃপক্ষ কৃষকদের জন্য এ বিশেষ সুবিধা প্রদানে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।

রিফাত/

পরশুরামে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
পরশুরামে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীর পরশুরামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বন্যার আগাম প্রস্তুতিমূলক সচেতনতা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার পরশুরাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

এই ক্যাম্পেইনে সীমান্তবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে তৈরি করা ৮টি বিশেষ বুথে মেডিসিন, গাইনি, চক্ষু ও চর্ম রোগসহ বিভিন্ন বিষয়ের ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের পরামর্শ দেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ব্লাড টেস্ট, চোখের পরীক্ষা করা হয়।

​পরে সকাল বেলা ১১ টায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় একটি আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।

সভায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

​এরপর দুপুর ১২টায় এলাকার প্রায় ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাতা-কলম বিতরণ করা হয়।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী বিজিবির সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন ভূঁইয়া, বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি যেভাবে মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও এই মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তোফায়েল/এএফ