যমুনার ভাঙন শুধু জমি বা ঘরই কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় মানুষের নিরাপত্তা আর স্বপ্নও। সেই বাস্তবতারই এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি সিরাজগঞ্জের বেলকুচির কাদের মিয়া। নদীগর্ভে হারিয়েছেন বসতভিটা, জীবনের নানা প্রতিকূলতায় হারিয়েছেন স্বাভাবিক জীবনও। এখন বাজারের একটি ছোট চালের দোকানই তার জীবিকা, আবার সেটিই তার রাত কাটানোর একমাত্র আশ্রয়।
জানা গেছে, নদীভাঙনে নিজস্ব বসতভিটা হারানোর পর নতুন করে জীবন গড়ার আশায় শালদাইড় গ্রামে আশ্রয় নেন কাদের মিয়া। পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ছেলে মালেককে বিদেশে পাঠান। কিন্তু অসুস্থ হয়ে ছেলে কোনো উপার্জন ছাড়াই দেশে ফিরে আসলে ঋণের বোঝা সামলাতে শেষ সম্বল বসতভিটাও বিক্রি করতে বাধ্য হন তিনি। এর কিছুদিন পরই মারা যান তার সহধর্মিণী। এরপর থেকেই আরও অসহায় হয়ে পড়েন কাদের।
বর্তমানে সামান্য পুঁজিতে অন্যের কাছ থেকে এক-দুই বস্তা চাল এনে খুচরা বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দোকানে পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় ব্যবসাও বড় করতে পারছেন না। দিন শেষে সেই ছোট্ট দোকানই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাদের মিয়া বলেন, “নদী আমার ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে, ঋণের বোঝা শেষ সম্বলটুকুও নিয়ে গেছে। ছেলে অসুস্থ, স্ত্রীও আর নেই। এখন এই ছোট্ট দোকানেই দিন কাটাই, রাতেও এখানেই ঘুমাই। শেষ বয়সে শুধু মাথা গোঁজার মতো একটি স্থায়ী আশ্রয় চাই।”
স্থানীয়রা জানান, কাদের মিয়া একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঋণের বোঝা এবং পারিবারিক বিপর্যয়ে আজ তিনি অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে কাদের মিয়ার জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেষ বয়সে একটু নিরাপদ আশ্রয় আর শান্তিতে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিটি দিন পার করছেন কাদের মিয়া। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো জীবনের শেষ অধ্যায়টি কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন এই অসহায় বৃদ্ধ।
আল-আমিন হোসেন/এসএন