শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের ২নং গেট এলাকায় কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল সোয়া ৫টা) তারা সড়কের মাঝখানে অবস্থান করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এ সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা- ‘তুমি কে আমি কে, ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’- সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এরআগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পরীক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করেছেন। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু বুধবার বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা জানান, তাদের ছয় দফা দাবি মানা হয়নি। বরং ঢাকায় পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। এখন তাদের একটাই দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে জানান তারা।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়ালিদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আমরা ছয় দফা দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো না মেনে উল্টো আচরণ করা হচ্ছে। আমাদের এখন একটাই দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বিকেলে তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের একটি গেট খুলে সড়কে ফেলে দিলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্মসূচি শেষ হয়।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
১) দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
২) যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩) প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।
৪) চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫) পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।
৬) পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।
রিফাত/