কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগের প্রধান মি. এলি মুডি-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, কিং সালমান রিলিফের কর্মসংস্থান ও জীবিকায়ন কর্মসূচির প্রধান মি. আদেল রহমান আল-মুতাহারি, সৌদি আরব ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি মি. করিম হাসান, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মি. মোস্তাফিজ আহমেদ।
দলটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫-এর ই/০৬ ব্লকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) অর্থায়নে পরিচালিত Fresh Food Valley Agriculture Project পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা আধুনিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, সবজি চাষ, সেচ, বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় প্রকল্পটির ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে তারা প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উপকারভোগীরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, আয় বৃদ্ধি, কৃষি দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা অর্জনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রতিনিধি দল প্রকল্প বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষিভিত্তিক ও পুষ্টিনির্ভর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-২০ (বর্ধিত)-এর S2B2 ব্লকে UKaid-এর অর্থায়নে WFP পরিচালিত Community Aqua Culture প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে মাছ চাষ, সবজি উৎপাদন ও পোলট্রি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
পরে দুপুর ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তারা ক্যাম্প-২০ (বর্ধিত)-এর S3B1 ব্লকে IOM-এর অর্থায়নে কারিতাস বাংলাদেশ পরিচালিত Decentralized Wastewater Treatment System পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
দুপুর ২টা ৫ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৪ (বর্ধিত)-এর সিআইসি অফিসসংলগ্ন দরবার হলে সৌদি বাদশাহ কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের অর্থায়নে আইএসডিই (ISDE), বাংলাদেশ কর্তৃক এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনি ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে দলটি দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সোহাগ/নাঈম
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মাধ্যমে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কৃষক পরিবারকে ঋণমুক্ত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে রাকাব।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০টি কৃষক পরিবারের ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করেছে।
এর মধ্যে রংপুর বিভাগের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি কৃষক পরিবারের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার এবং রাজশাহী বিভাগের ৫০ হাজার ৬৫৫টি কৃষক পরিবারের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা নতুন করে কৃষিকাজে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
রাকাব কর্তৃপক্ষ কৃষকদের জন্য এ বিশেষ সুবিধা প্রদানে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।
রিফাত/
ফেনীর পরশুরামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বন্যার আগাম প্রস্তুতিমূলক সচেতনতা সভা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার পরশুরাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।
এই ক্যাম্পেইনে সীমান্তবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে তৈরি করা ৮টি বিশেষ বুথে মেডিসিন, গাইনি, চক্ষু ও চর্ম রোগসহ বিভিন্ন বিষয়ের ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের পরামর্শ দেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ব্লাড টেস্ট, চোখের পরীক্ষা করা হয়।
পরে সকাল বেলা ১১ টায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় একটি আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার।
সভায় সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এরপর দুপুর ১২টায় এলাকার প্রায় ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খাতা-কলম বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী বিজিবির সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন ভূঁইয়া, বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি যেভাবে মানুষের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও এই মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তোফায়েল/এএফ
কুমিল্লায় ভারী বর্ষণের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া কুমিল্লার সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০ টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ৯৮৭ জন শিক্ষার্থী এ কেন্দ্রে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টা আগে থেকেই নগরীর এ মহাবিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এবং পরীক্ষা শেষে সারিবদ্ধ ভাবে তারা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে গেছেন।
এর আগে, সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের কোমর পানি মাড়িয়ে পরীক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ায় দেশজুড়ে আলোচনা হয়। যে কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র পরিবর্তন করে ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তর করে ।
অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, এই কেন্দ্রে কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজ, কুমিল্লা কমার্স কলেজ, বামইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাউজিং এস্টেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিবির বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫৭৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থী আগে থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে। নতুন করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ৯৮৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কলেজের শিক্ষক এবং স্কাউট টিম বাহিরে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়াও কুমিল্লা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসন আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেখে আমরা সন্তুষ্ট। বৈরী আবহাওয়া হলে আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিলে হয়তো সোমবার হয়রানি হতে হতো না। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেখেছি এজন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড আরো সতর্ক ও সচেষ্ট থাকবে ।
জহির শান্ত/এসএন