চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্ল্যাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করে আগামী ২১ ও ২২ জুলাই ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ জুয়েলের সভাপতিত্বে এবং অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ খুরশেদ আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, কার্যনির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার, সহ-সভাপতি মোরশেদ হোসেন নিজামী, সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রাজু, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান মুরাদ বাদশা, বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুস আজাদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মুকুল এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ জামাল, মোহাম্মদ সেলিম ও আবু আহমেদ আলাউদ্দীন শিবলুসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা সরকারের প্রাইম মুভার ট্রেইলার, ফ্ল্যাটবেড, লো-বেড, সেমি লো-বেড, ক্রেন ও অন্যান্য হেভি ইকুইপমেন্ট পরিবহনের ওপর অগ্রিম আয়কর ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
২০২৪ সাল থেকে এই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বলে জানান তারা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, প্রাইম মুভার ট্রেইলার খাত দীর্ঘদিন ধরে অযৌক্তিক কর, পুলিশি হয়রানি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার শিকার। এর মধ্যে অগ্রিম আয়কর ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ পরিবহন মালিকদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন ও চিঠিপত্র দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ জুয়েল বলেন, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী ২১ ও ২২ জুলাই চট্টগ্রামে প্রাইম মুভার, ফ্ল্যাটবেড, লো-বেড, সেমি লো-বেড, ক্রেন ও হেভি ইকুইপমেন্ট পরিবহন মালিকরা ৪৮ ঘণ্টার লগআউট (বন্ধ) পালন করবেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
১১ দফা দাবি হলো-
১) উচ্চবিলাসী ও গণবিরোধী সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাতিল করতে হবে নতুবা মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বিধান রাখায় দুর্নীতির সুযোগ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে সাংঘর্ষিক ধারা ও উপধারাগুলো সংশোধন করতে হবে।
২) প্রাইম মুভার ট্রেইলার ও ফ্লাটবেড গাড়ির ওজন ও মাইলের ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করে সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৩) পূর্বের রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রাইম মুভার ট্রেইলার বিআরটিএ কর্তৃক একই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে এবং কন্টেইনারবাহী ২০ ফুট গাড়ির ফ্লাটবেড নামকরণ উল্লেখ করতে হবে।
৪) অতিরিক্ত চাকা সংযোজন, লো-বেড, সেমি লো-বেড ও কন্টেইনারবাহী ২০ ফুট গাড়ির ধরন পরিবর্তনের নামে মামলা ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৫) ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন করের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও অন্যান্য ফি প্রত্যাহার করে একক ডকুমেন্টের আওতায় আনতে হবে।
৬) ভাড়ায় চালিত গাড়ির অগ্রিম আয়কর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে হবে এবং ট্যাক্স টোকেন ফি অর্ধেক করতে হবে।
৭) বিআরটিএ কর্তৃক চালকদের একবারেই পেশাদারী লাইসেন্স দিতে হবে।
৮) দেশের বিভিন্ন স্কেল লোড একই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করা ও ব্রিজে লোড কন্ট্রোল নীতিমালার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
৯) চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় প্রাইম মুভার ট্রেইলার টার্মিনাল দিতে হবে এবং বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য বোঝাইকৃত গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে অন্যান্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।
১০) বাংলাদেশ শ্রম আইনের সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইনের সাংঘর্ষিক ধারা-উপধারাসমূহ বাতিল করে সংস্কার করতে হবে।
১১) সমগ্র বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত সব পণ্য পরিবহন থেকে মালামাল চুরি, ডাকাতি এবং ড্রাইভার/হেলপারদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক মাহমুদ/অমিয়/