ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা কু‌ড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে ২৫ ঘর সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি ঈশ্বরগঞ্জে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা ১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ইংল্যান্ডকে হারানোর পরই ধাক্কা, ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার থেকে নায়ক আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি মাঠের বাইরেও ‘ভিএআর’ প্রয়োজন? ‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’ বিশ্বকাপে আবার ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ কবে-কখন? বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর্জেন্টিনার ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন হ্যারি কেইন শেষ বাঁশির পর মাঠেই হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্কালোনি, ইতিহাসে সপ্তম অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল

১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ এএম
১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া
এনরিকে ম্যাকাইয়া মার্কেস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ এলেই সাংবাদিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে এবারের বিশ্বকাপে একজন সাংবাদিককে ঘিরে আগ্রহটা একটু অন্যরকম। সংবাদ সম্মেলন শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে থেমে যান। কারণ তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই এক জীবন্ত সাক্ষী।

তিনি এনরিকে ম্যাকাইয়া মার্কেস। সবার কাছে পরিচিত শুধু ম্যাকাইয়া নামে। বয়স এখন ৯১। প্রায় সাত দশক ধরে বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করছেন তিনি। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু। তারপর থেকে টানা ১৮টি পুরুষ বিশ্বকাপে মাঠে উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন এই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক। এমন কীর্তি আর কারও নেই।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে তাঁকে প্রথমবারের মতো সুইডেন বিশ্বকাপ কভার করতে পাঠানো হয়েছিল। সেই বিশ্বকাপেই ফুটবল বিশ্ব প্রথম দেখেছিল ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে; পেলে। ম্যাকাইয়ার প্রথম দায়িত্বগুলোর একটি ছিল ব্রাজিল-অস্ট্রিয়া ম্যাচ কভার করা। তবে তাঁর সবচেয়ে স্পষ্ট স্মৃতি অন্য একটি ম্যাচের। সেটি আর্জেন্টিনার ৬-১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে হারের ম্যাচ। আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে যা পরে পরিচিতি পায় ‘সুইডেনের বিপর্যয়’ নামে। ম্যাকাইয়া বলেন, ‘সেই ম্যাচটি এখনো আমার মনে গেঁথে আছে। আর্জেন্টিনা ভয়াবহভাবে হেরেছিল। আমরা চেকোস্লোভাকিয়া সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানতাম না। তাদের নিয়ে কোনো তথ্য ছিল না। তারা আমাদের চমকে দিয়েছিল।’

এরপর কেটে গেছে প্রায় ৭০ বছর। এই সময়ে ফুটবল যেমন বদলেছে, বদলেছে সংবাদ পরিবেশনের ধরনও। সাদা-কালো টেলিভিশন জায়গা ছেড়েছে ডিজিটাল সম্প্রচারের কাছে। পরিসংখ্যান এখন মুহূর্তেই পাওয়া যায়। বিশ্বকাপও পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক উৎসবে। কিন্তু ম্যাকাইয়ার একটি নীতি কখনো বদলায়নি; কাউকে না জেনে, না বুঝে বিচার করা ঠিক নয়।

এই দর্শনের কারণেই ২০১৮ সালে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার পর খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না তিনি। ‘আমি তাঁকে চিনতাম না। তাই খুব বেশি আশা করিনি,’ বলেন ডি-স্পোর্টস রেডিওর এই ধারাভাষ্যকার। কিন্তু স্কালোনি পরে আর্জেন্টিনাকে জেতান কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ। সেই সাফল্য ম্যাকাইয়াকে আবারও মনে করিয়ে দেয় তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের কথা। ‘যাঁকে বিচার করছেন, তাঁকে ভালোভাবে না জেনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়,’ বলেন তিনি।

এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ম্যাকাইয়ার বিশ্বাস, ২০২২ সালের সাফল্য আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ‘অবশ্যই পারে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বললে আমি বিশ্বাস করি, আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম।’

প্রিয় আর্জেন্টাইন ফুটবলারের নাম জানতে চাইলে কোনো দ্বিধা নেই তাঁর। ‘অবশ্যই মেসি।’ তবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে; মেসি, নাকি ম্যারাডোনা? এই প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর দেন না তিনি। হেসে বলেন, ‘এটার কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে তারা। ইতিহাসের দুই সময়ের খেলোয়াড়কে একই মাপকাঠিতে বিচার করা সম্ভব নয়।’

মেসি ও ম্যারাডোনার তুলনা যেমন করতে চান না, তেমনি ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল আর ১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার মধ্যেও তুলনা টানতে রাজি নন, ‘দুই দলের খেলার ধরনই ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তুলনা করার সুযোগ নেই।’

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জয় যেমন তাঁর প্রিয় স্মৃতির অংশ, তেমনি পরাজয়ের স্মৃতিও ভুলে যাননি। তাঁর ভাষায়, ‘নেতিবাচক ফলও স্মৃতির অংশ। তবে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে প্রিয়। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালে শিরোপা জিতে মারাডোনা যেন জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন।’

প্রায় ৭০ বছর ধরে বিশ্বকাপের গল্প বলে যাওয়া এই প্রবীণ সাংবাদিক এখন অবসরের কথাও ভাবছেন। হাসতে হাসতে বলেন, ‘একসময় তো অবসর নিতেই হবে। এখনই অবসর নিচ্ছি... তবে দেখা যাক, পরে আবার কথা হবে।’

ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য স্মৃতির সাক্ষী ম্যাকাইয়ার এই কথায়ও যেন লুকিয়ে আছে তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের পরিচিত রসবোধ। তাই তাঁর বিদায়ের ঘোষণাও শেষ পর্যন্ত যেন পুরোপুরি বিদায় বলে মনে হয় না। 

আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ এএম
আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি
ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরেন লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালটি তাদের সাম্প্রতিক সব অর্জনকেও ছাপিয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় স্কালোনি বলেন, ‘আমার কথা বলার ভাষা নেই। দেশ ও সমর্থকদের জন্য এটা অসাধারণ এক আনন্দের মুহূর্ত। আমি আগেও বলেছি, এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠ ভেঙে আসছে। এই দল ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার যে মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এর পর আর এই দলকে কী প্রমাণ করতে হবে? তারা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। সব কৃতিত্ব তাদের।’

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেন আর্জেন্টাইন কোচ। 

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে এবং ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অবশ্যই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেব। তবে আজ খেলোয়াড়রা যা দেখিয়েছে, সেটি ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমরা অনন্য একটি দল, এটি অহংকার নয়। সমর্থকরাই আমাদের এই জয় এনে দিয়েছেন।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘এই দল তখনই সবচেয়ে ভালো খেলতে পারে, যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। আমরা যখন চাপে থাকি, তখনই নিজেদের সেরাটা বের করে আনি। হারলেও আমি দলের পারফরম্যান্সে খুশি থাকতাম, কারণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আমাদের সেরা। কিন্তু আজকের ম্যাচ সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এটি একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক গোল ইতিহাসে থাকবে, কিন্তু খেলার মানের দিক থেকে আজকের ম্যাচ ছিল অবিশ্বাস্য।’

এসজি/

‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ এএম
‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপনে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর মাঠেই বিতর্কের জন্ম দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে তারা একটি ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন করেন। যেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’-বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’।

আটলান্টার মাঠে এমন উদ্‌যাপন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) নিয়ে আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধকে আবার সামনে এনেছে।

ম্যাচের আগে অবশ্য আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, তিনি চান না এই ম্যাচ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ব্যানার প্রদর্শন সেই বার্তাকে ছাপিয়ে যায়।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এরপরও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। 

আর্জেন্টিনা এখনো দাবি করে, দ্বীপপুঞ্জটি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ডকে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে পরিচালনা করে।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার’ ও ‘ভূমিদস্যু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ সেই বার্তার সঙ্গে তিনি আর্জেন্টাইন সেনাদের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন।

মাঠের এই উদ্‌যাপন ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

এসজি/

সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ এএম
সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’
টমাস টুখেল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন টমাস টুখেল। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। তবুও ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্ত বা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ।

বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় টুখেল বলেন, ‘আমরা হতাশ। কারণ আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু গোল করার পর আমরা অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। ফলে প্রতিপক্ষকে অনেক সুযোগ, ক্রস ও শট নিতে দিয়েছি। বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি।’

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আগের ম্যাচগুলোতেও আমি আক্রমণাত্মক পরিবর্তন করেছি। এবারও খেলোয়াড়দের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গোল করার পরই আমরা অনেক সুযোগ দিয়ে ফেলছিলাম। তাই পাঁচজনের রক্ষণে চলে যাই, যাতে ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা যায় এবং আরও শক্তিশালী হওয়া যায়।’

দ্বিতীয় গোলের জন্য আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ ছিল কি না-এমন প্রশ্নে টুখেলের উত্তর, ‘আমরা অবশ্যই দ্বিতীয় গোল চেয়েছিলাম। কিন্তু বলই যদি নিজেদের কাছে রাখতে না পারি, তাহলে সেটা সম্ভব নয়। আমরা ৪-৪-২ ফরমেশনই ধরে রেখেছিলাম, কিন্তু ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। এটা কৌশলগত সমস্যা ছিল না, ম্যাচের চিত্রটাই বদলে গিয়েছিল।’

নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনুতপ্ত নন জানিয়ে টুখেল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। দল সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার যোগ্য ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হয়তো আমাদের সেরা ম্যাচগুলোর একটি, এমনকি সেরাও হতে পারে।’

পুরো টুর্নামেন্টে দলের মানসিকতারও প্রশংসা করেন ইংল্যান্ড কোচ।

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও টুখেলের সঙ্গে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে ইংল্যান্ডের। এখন তার সামনে নতুন লক্ষ্য হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।

এসজি/

বিশ্বকাপে আবার ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ কবে-কখন?

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ এএম
বিশ্বকাপে আবার ফ্রান্স-ইংল্যান্ড লড়াই, ম্যাচ কবে-কখন?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে ইংল্যান্ড। 

শনিবার (১৮ জুলাই) মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

সেমিফাইনালে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় দুই দলেরই। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদকের জন্য দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্টের এই লড়াই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। কাতারে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ফরাসিরা।

যদিও শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে, তবু বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।

এসজি/

বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর্জেন্টিনার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ এএম
বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আর্জেন্টিনার
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা কেবল বিশ্বকাপের ফাইনালেই ওঠেনি, গড়েছে নতুন এক কীর্তিও। এই জয়ে বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এখন এই রেকর্ড নিজেদের করতে আর্জেন্টিনাকে আরও তিনটি ম্যাচে অপরাজিত থাকতে হবে। বিশ্বকাপে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি নেদারল্যান্ডসের দখলে। ডাচরা ২০১০ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল। এরপর টানা ১৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে তারা হার এড়াতে সক্ষম হয়।

আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। 

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে সুযোগ রয়েছে অপরাজিত যাত্রা আরও দীর্ঘ করার। 

এসজি/