বিশ্বকাপের মাঝেই এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। ফোরলান বালোগনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিশ্বফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক স্বাধীনতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখে পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগন। কিন্তু পরের ম্যাচের ঠিক আগের দিন ফিফা জানিয়ে দিল, ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বালোগনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কেন? কী কারণে? কোন যুক্তিতে?– এ প্রশ্নগুলোর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ফিফা।
এর মধ্যেই সামনে আসে আরেক তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানান, তিনি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ আমার মনে হয়নি এটি ফাউল ছিল।’ এর পর ইনফ্যান্তিনো স্বীকার করেন, ট্রাম্প তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে দাবি করেন, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।
অলাভজনক সংস্থা ফেয়ারস্কোয়ার মনে করছে, ঘটনাটি কেবল একটি ফুটবল সিদ্ধান্ত নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাবের সম্ভাব্য উদাহরণ। তাই তারা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চেয়েছে। তাদের অভিযোগ আরও বিস্তৃত। ইনফ্যান্তিনো নাকি একাধিকবার ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। ট্রাম্পের অভিষেকসংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, ইনস্টাগ্রামে সমর্থনসূচক পোস্ট, নোবেল পুরস্কারের জন্য তার নাম সমর্থন করা, এমনকি বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে উদ্বোধনী ফিফা পিস প্রাইজ তুলে দেওয়া– এসব ঘটনাও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।
ফেয়ারস্কোয়ারের বক্তব্য, আইওসির সদস্য হিসেবে ইনফ্যান্তিনো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বাধ্য। অথচ তার কর্মকাণ্ড সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য অন্য জায়গায়। যদি ফিফার বিচারিক কমিটি পুরোপুরি স্বাধীন হয়, তা হলে এমন একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের (বালোগনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার) ব্যাখ্যা কোথায়? কেন কোনো বিস্তারিত কারণ জানানো হলো না? আর যদি সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তা হলে সেই প্রক্রিয়া জনসমক্ষে তুলে ধরতে আপত্তি কোথায়?
বিশ্বফুটবলে ইনফ্যান্তিনো বরাবরই বিতর্কিত এক চরিত্র। সৌদি আরব থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপ, বিশ্বকাপ আয়োজন, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা– বিভিন্ন সময়েই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ‘বালোগনকাণ্ড’। অবশ্য অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। এখন পর্যন্ত আইওসি কোনো তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়নি। ফিফাও আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সে কারণেই আজ বিশ্বফুটবলের অনেকের মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে– মাঠের বাইরেও কি এবার একটি ‘ভিএআর’ দরকার?