ফুটবলের নিয়ম এক দিকে, বিনোদনের মহাযজ্ঞ আরেক দিকে। বিশ্বকাপ ফাইনালে এই দুইয়ের সংঘাতই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। কারণ ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো আয়োজন করতে গিয়ে বিরতির সময় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফিফা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে আনছে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শো। আর সেই শো ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, বিরতির সময় ১৫ মিনিট থেকে বেড়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে মনে করছেন সম্প্রচারসংশ্লিষ্টরা। যা সরাসরি খেলার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বর্তমান ফুটবল আইনে হাফটাইম বিরতির সর্বোচ্চ অনুমোদিত সময় ১৫ মিনিট। কিন্তু সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা, এবারের জমকালো আয়োজনের কারণে সেই বিরতি ২০ মিনিট ছাড়িয়ে ৩০ মিনিট পর্যন্ত গড়াতে পারে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচেই ভাঙতে পারে ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম।
হাফটাইম শোকে স্মরণীয় করে তুলতে তারকারও কোনো কমতি রাখেনি ফিফা। মঞ্চে পারফর্ম করার কথা রয়েছে ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার, বিটিএস, বার্না বয়, গুস্তাভো দুদামেল এবং কোল্ডপ্লেকে নিয়ে গঠিত পিএস-২২ কোরাসের। পুরো আয়োজনের কিউরেশনের দায়িত্বে আছেন কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন।
শুধু হাফটাইম শো নয়, ফাইনালের আগে থাকছে আরও একটি বিশাল বিনোদন আয়োজন। বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচের কিক-অফের ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। সেখানে পারফর্ম করবেন রবি উইলিয়ামস, টম ক্রুজ এবং নিকোল শেরজিঙ্গার। এর মধ্যেই আবার থাকছে প্রতি অর্ধে দুটি করে পাঁচ মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি। ফলে ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তা হলে ইনজুরি টাইম ও টাইব্রেকার বাদ দিয়েই পুরো আয়োজনের দৈর্ঘ্য পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ১৬০ মিনিটে। অর্থাৎ একটি ফুটবল ম্যাচ রূপ নিতে পারে প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময়ের এক বিশাল বিনোদন আয়োজনে।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি নয় ফিফা। সংস্থাটি শুধু আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের দাবি, হাফটাইম শো ১১ মিনিটের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে আয়োজকদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ মঞ্চ নির্মাণ, শিল্পীদের প্রস্তুতি এবং শো শেষে মঞ্চ সরিয়ে নিতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। সেই সময়ে সম্প্রচারকারীরা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণও প্রচার করতে পারেন। ফলে বিরতির সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম বিরতি ২৫ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছিল। আর ২০২১ সালে বিরতির সময় বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। তাদের যুক্তি ছিল, দীর্ঘ সময় খেলার বাইরে থাকলে খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফলে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ম্যাচই নয়, ফুটবলের ঐতিহ্য আর বিনোদনের ভারসাম্য নিয়েও এক বড় পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নজর থাকবে, ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল হাফটাইম শো শেষ পর্যন্ত ফুটবলের নিয়ম মেনেই শেষ হয়, নাকি বিনোদনের জৌলুসে ছাপিয়ে যায় খেলার নিজস্ব আইন।