ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা গুলিস্তানে সেলুনে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’ স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ে দেশম স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ

স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১০ এএম
স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা-ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জাগলা চারা বটতলা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে দুই বছরের শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক যুবক।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটি ঘটে।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, জাগলা চারা বটতলা গ্রামের ছোরাপ মোল্লার ছেলে রেজাউল মোল্লা (২৩)-এর সঙ্গে তিন বছর আগে শালিখা উপজেলার দরি শলই গ্রামের নাজমুল মিয়ার মেয়ে প্রিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তাছিন নামে দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য কলহের জেরে গত ২ জুলাই কিস্তি থেকে তোলা ১০ হাজার টাকা এবং গরু বিক্রির ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা নিয়ে প্রিয়া খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় গত ৪ জুলাই রেজাউল মোল্লা মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপরও স্ত্রী ফিরে না আসায় এবং ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রেজাউল। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে থাকা ঘাস মারা বিষ শিশুসন্তান তাছিনকে খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও রেজাউল মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রেজাউল মোল্লার বড় ভাই রুবেল মোল্লা বলেন, স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই রেজাউল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হতাশা থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পরিবারের ধারণা।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাসেমুর রহমান/আজহার/  

চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতে ডাকাতির ঘটনায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সি কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সি ছেলে সিরাজের জননী। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। এ ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার খবরের কাগজকে জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সি সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ছুড়ি দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বাঁধে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করে।

তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও, হাত বাঁধা থাকায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

ফয়েজ আহমেদ/থিওটোনিয়াস/

লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ এএম
লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার
ছবি:খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে সালিসে মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় নিজের দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি নাতি আশিককে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যা পাটওয়ারী বাড়ি থেকে  দাদাকে গুলির কাজে ব্যবহৃত একটি একনলা বন্দুক (এলজি) উদ্ধার করে র‍্যাব। পরে দাদা নজরুল ইসলামের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে আশিকের বাবা ইসমাঈল হোসেন ও মা আয়েশা বেগমের পারিবারিক কলহ মেটাতে একটি ঘরোয়া সালিস বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে আয়েশা বেগমের বিপক্ষে রায় দেন আশিকের দাদা নজরুল ইসলাম (৭০)। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা বেগম ঢাকায় থাকা সন্তানদের ফোনে বিষয়টি জানালে ছোট ছেলে আশিক ওইদিনই বাড়ি ফিরে দাদাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম বাহুতে বিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ৬ জুলাই দাদা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নাতি আশিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

র‍্যাব নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, মামলার আসামি আশিক পলাতক ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিকুল/খাদিজা রুমি/

ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাতে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণে চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম নামে এক শ্রমিকের শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অপর তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল ১নং গলিতে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

দগ্ধ আরিফুল ইসলাম রংপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার লতাবর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে। তিনি ফতুল্লার দেলপাড়া বাজার এলাকায় ভাড়া থাকেন।

স্থানীয়রা জানায়, দেলোয়ার হোসেন বাড়িতে থাকা তিতাস গ্যাসের সংযোগ পাইপ মেরামতের সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার শ্রমিক দগ্ধ হলে তিনজনকে সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আরিফুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য মাটির নিচে পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য ১৭ হাজার টাকায় স্থানীয় এক কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে সঙ্গে চুক্তি হয়। এ জন্য অগ্রিম দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে  কন্ট্রাক্টরের কয়েকজন শ্রমিক রাতে সড়ক কেটে গ্যাস পাইপে সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। পাইপ বের করে সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন,  শ্রমিক সরদার আব্দুল জলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- রাতে গোপনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাইপ লাইন স্থাপন করার সময় বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হন।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে বিসিক ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানোর হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন। 

বিল্লাল হোসাইন/অমিয়/

এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ এখন বেশি ঝুঁকিতে আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে এটা সত্যি। তবে চমেক হাসপাতালে এখন যে ১৩ জন ভর্তি আছেন, তা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। আমাদের এখানে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও রোগীরা সুফল পাচ্ছেন। তাই সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫ জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্মক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। অনেকে ঝাড়ফুঁক করে সময় নষ্ট করেন। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।’

সিভিল সার্জন আরও জানান, চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করলেই বুক কেঁপে ওঠে নদীপাড়ের মানুষের। লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে স্থায়ী নদীশাসনের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অস্থায়ী প্রকল্প এবং বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। একই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার নীলফামারী জেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা, বাঁধ মেরামত ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হলেও পানি বাড়লেই ক্ষতির শিকার হন নদীপাড়ের মানুষ। ফলে একই ধরনের কাজের জন্য বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকর সুফল মিলছে না। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বন্যা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি মিলছে না লাখো মানুষের। এতে প্রতিবছর কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হঠাৎ পানিতে কৃষকের ফসল ডুবে যায়। ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুনসহ নানাবিধ ফসলের ক্ষতি হয়। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়।  সামান্য পানি এলেই প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। আর বাড়িঘরে পানি উঠলে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে অবস্থান করতে হয়। 

আদিতমারী এলাকার ষাটোর্ধ্ব কাউয়ুম মিয়া বলেন, ‘৮-১০ বার বাড়ি-ভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও বর্ষায় তা ব্যর্থ হয়ে যায়। কখন পানি আসবে, সবকিছু ডুবিয়ে নিঃস্ব করে দেবে, সেই আতঙ্কে থাকি। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বছরের পর বছর শুনলেও এখন আর আশা জাগে না।’ একই এলাকার ইউপি সদস্য মতি মিয়া বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ভাঙন মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুকনো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়ালেও আবারও বর্ষায় নিঃস্ব হয় সাধারণ মানুষ। চক্রাকারে এভাবেই চলে নদীপাড়ের মানুষের জীবন।’ 

২০২২ সালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, বাঁধটি তিস্তার বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে তাদের রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, তিস্তার পানি সামান্য বাড়লেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বাঁধের পেছনের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ শেষ হয় না। বাঁধের কারণে ভেতরে ঢুকে পড়া পানি সহজে বের হতে না পারায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকে এলাকা। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে স্থায়ী নদীশাসনের অভাবে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

নদী গবেষক রিভারাইন পিপলসের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তা নদীর বয়স মাত্র ২৩৮ বছর। এখনো সে থিতু বা স্থায়ী হয়নি। এর আচরণ ও রূপ বোঝাও খুব মুশকিল। এ জন্য তিস্তাকে পাগলী নদীও বলা হয়। তিস্তার মাটির কণা বালুকণার থেকে ছোট ও পাড়ের মাটি নরম হওয়ায় ভাঙন বেশি দেখা দেয়। দেশে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বিশাল চরাঞ্চল ও শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকায় এর স্রোত খাড়া হয়। ফলে নিমেষেই সব ভেঙেচুরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, যখন থেকে মহাপরিকল্পনার কথা উঠেছে, পাউবো স্থায়ী কাজের দিকে মনোনিবেশ কমিয়ে এনেছে। কিন্তু অস্থায়ী কাজ দিয়ে তিস্তাকে আটকানো যাবে না। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সঠিক পরিকল্পনা করে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে কাজ কতে হবে। এতে তিস্তাপাড়ের কোটি মানুষের সুফল মিলবে।

সার্বিক বিষয়ে  পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে, এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা তৈরি হতে পারে। ফলে আমরা সার্বক্ষণিক নদী এলাকায় খোঁজখবর রাখছি। নদীতীরের মানুষকে বন্যা নিয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।’

বর্ষায় তাণ্ডব, খরায় হাহাকার

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা এলেই শুরু হয় তাদের আতঙ্কের দিন। পানি বাড়ার খবর শুনে অনেক পরিবার আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে। কেউ গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, কেউ আবার রাত জেগে পাহারা দেন ভিটেমাটি। আর শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে কৃষকের চোখে ভেসে ওঠে নতুন দুশ্চিন্তা- কীভাবে সেচ দেবেন, কীভাবে বাঁচাবেন বছরের একমাত্র ফসল।

জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাইর রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য জাফর খান বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও বাস্তবে নদীপাড়ের মানুষের ভাগ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্ষা এলেই বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, আর খরা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। আমাদের দাবি, মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সেই প্রকল্পের অপেক্ষার অজুহাতে নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা যাবে না। তিস্তাপাড়ের মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে আমার বাড়ি দুবার ভেঙে গেছে। একবার ভাঙনের শিকার হওয়ার পর আবার নতুন করে ঘর তৈরি করেছিলাম, কিন্তু নদী সেটিও কেড়ে নিয়েছে। এখন সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন আবার বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে শুধু আমার মতো পরিবার নয়, হাজারও মানুষ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।’

গৃহবধূ আসমা বেগম বলেন, ‘বর্ষার সময় পানি বাড়লে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘরের চারপাশে পানি জমে যায়, অনেক সময় চুলার মধ্যেও পানি ঢুকে যায়। তখন রান্না করা সম্ভব হয় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। বাধ্য হয়ে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করে চলতে হয়। শিশুসন্তানদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’

এদিকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় তিস্তাপাড়ের শিক্ষার্থীদের। বর্ষাকালে অনেক গ্রামের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নৌকা ছাড়া স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পারে না। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘আমার বন্ধুরা নিয়মিত স্কুলে যায়, কিন্তু আমরা অনেক সময় যেতে পারি না। বর্ষার সময় রাস্তা ডুবে যায়, নৌকা না পেলে বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।’ টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বাড়লেই আমাদের ইউনিয়নের হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।’ 

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। এ কারণে কখনো কখনো পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ। উজানে গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করা হলে ভাটির দিকে পানির প্রবাহ কমে আসে। এর প্রভাব বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার মানুষ ও কৃষির ওপর পড়ে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলে, বর্তমানে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বা নতুন কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নদী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।