ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ, ফার্মের মুরগি’ ডাকার প্রতিবাদ নরসিংদীতে শিশুর পা ভাঙার অভিযোগে চাচিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামালা সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশকে কী বললেন স্কালোনি? চট্টগ্রামে সাদিয়াস কিচেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা কার্যবণ্টন বিধিমালা সংশোধনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ ইরানে হামলার আশঙ্কায় ধর্মীয় স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্র ম্যারাডোনার স্মৃতিতে অনুপ্রাণিত আর্জেন্টিনা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চায় স্পেন মোটরসাইকেলে স্কুলে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় ২ শিক্ষার্থী আহত খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি দুবাই স্টাইলে নতুন স্বাদে দুটি আইসক্রিম আনল পোলার লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ২ এলজি উদ্ধার, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩ বরগুনায় প্রাথমিকের বৃত্তিতে আপন ৩ বোনের সাফল্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা গুলিস্তানে সেলুনে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’ স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ের দেশম স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা

‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করলেই বুক কেঁপে ওঠে নদীপাড়ের মানুষের। লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে স্থায়ী নদীশাসনের কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অস্থায়ী প্রকল্প এবং বাঁধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। একই ধরনের বিড়ম্বনার শিকার নীলফামারী জেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা, বাঁধ মেরামত ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া হলেও পানি বাড়লেই ক্ষতির শিকার হন নদীপাড়ের মানুষ। ফলে একই ধরনের কাজের জন্য বারবার সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকর সুফল মিলছে না। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বন্যা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকেও মুক্তি মিলছে না লাখো মানুষের। এতে প্রতিবছর কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হঠাৎ পানিতে কৃষকের ফসল ডুবে যায়। ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুনসহ নানাবিধ ফসলের ক্ষতি হয়। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়।  সামান্য পানি এলেই প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। আর বাড়িঘরে পানি উঠলে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে অবস্থান করতে হয়। 

আদিতমারী এলাকার ষাটোর্ধ্ব কাউয়ুম মিয়া বলেন, ‘৮-১০ বার বাড়ি-ভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও বর্ষায় তা ব্যর্থ হয়ে যায়। কখন পানি আসবে, সবকিছু ডুবিয়ে নিঃস্ব করে দেবে, সেই আতঙ্কে থাকি। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বছরের পর বছর শুনলেও এখন আর আশা জাগে না।’ একই এলাকার ইউপি সদস্য মতি মিয়া বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ভাঙন মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুকনো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়ালেও আবারও বর্ষায় নিঃস্ব হয় সাধারণ মানুষ। চক্রাকারে এভাবেই চলে নদীপাড়ের মানুষের জীবন।’ 

২০২২ সালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বন্যা প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, বাঁধটি তিস্তার বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে তাদের রক্ষা করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, তিস্তার পানি সামান্য বাড়লেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বাঁধের পেছনের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ শেষ হয় না। বাঁধের কারণে ভেতরে ঢুকে পড়া পানি সহজে বের হতে না পারায় দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকে এলাকা। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে স্থায়ী নদীশাসনের অভাবে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

নদী গবেষক রিভারাইন পিপলসের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, তিস্তা নদীর বয়স মাত্র ২৩৮ বছর। এখনো সে থিতু বা স্থায়ী হয়নি। এর আচরণ ও রূপ বোঝাও খুব মুশকিল। এ জন্য তিস্তাকে পাগলী নদীও বলা হয়। তিস্তার মাটির কণা বালুকণার থেকে ছোট ও পাড়ের মাটি নরম হওয়ায় ভাঙন বেশি দেখা দেয়। দেশে ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বিশাল চরাঞ্চল ও শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকায় এর স্রোত খাড়া হয়। ফলে নিমেষেই সব ভেঙেচুরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, যখন থেকে মহাপরিকল্পনার কথা উঠেছে, পাউবো স্থায়ী কাজের দিকে মনোনিবেশ কমিয়ে এনেছে। কিন্তু অস্থায়ী কাজ দিয়ে তিস্তাকে আটকানো যাবে না। বিজ্ঞানসম্মতভাবে সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সঠিক পরিকল্পনা করে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে কাজ কতে হবে। এতে তিস্তাপাড়ের কোটি মানুষের সুফল মিলবে।

সার্বিক বিষয়ে  পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে, এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা তৈরি হতে পারে। ফলে আমরা সার্বক্ষণিক নদী এলাকায় খোঁজখবর রাখছি। নদীতীরের মানুষকে বন্যা নিয়ে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।’

বর্ষায় তাণ্ডব, খরায় হাহাকার

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা এলেই শুরু হয় তাদের আতঙ্কের দিন। পানি বাড়ার খবর শুনে অনেক পরিবার আগেভাগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে। কেউ গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, কেউ আবার রাত জেগে পাহারা দেন ভিটেমাটি। আর শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে কৃষকের চোখে ভেসে ওঠে নতুন দুশ্চিন্তা- কীভাবে সেচ দেবেন, কীভাবে বাঁচাবেন বছরের একমাত্র ফসল।

জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাইর রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য জাফর খান বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও বাস্তবে নদীপাড়ের মানুষের ভাগ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্ষা এলেই বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, আর খরা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। আমাদের দাবি, মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সেই প্রকল্পের অপেক্ষার অজুহাতে নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা যাবে না। তিস্তাপাড়ের মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে আমার বাড়ি দুবার ভেঙে গেছে। একবার ভাঙনের শিকার হওয়ার পর আবার নতুন করে ঘর তৈরি করেছিলাম, কিন্তু নদী সেটিও কেড়ে নিয়েছে। এখন সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন আবার বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে শুধু আমার মতো পরিবার নয়, হাজারও মানুষ ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।’

গৃহবধূ আসমা বেগম বলেন, ‘বর্ষার সময় পানি বাড়লে আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘরের চারপাশে পানি জমে যায়, অনেক সময় চুলার মধ্যেও পানি ঢুকে যায়। তখন রান্না করা সম্ভব হয় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়। বাধ্য হয়ে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করে চলতে হয়। শিশুসন্তানদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’

এদিকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় তিস্তাপাড়ের শিক্ষার্থীদের। বর্ষাকালে অনেক গ্রামের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নৌকা ছাড়া স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পারে না। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘আমার বন্ধুরা নিয়মিত স্কুলে যায়, কিন্তু আমরা অনেক সময় যেতে পারি না। বর্ষার সময় রাস্তা ডুবে যায়, নৌকা না পেলে বাড়ি থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।’ টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বাড়লেই আমাদের ইউনিয়নের হাজারও মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।’ 

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি ওঠানামা করছে। এ কারণে কখনো কখনো পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ উজানের পানি নিয়ন্ত্রণ। উজানে গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করা হলে ভাটির দিকে পানির প্রবাহ কমে আসে। এর প্রভাব বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকার মানুষ ও কৃষির ওপর পড়ে। প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলে, বর্তমানে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা বা নতুন কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নদী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদীতে শিশুর পা ভাঙার অভিযোগে চাচিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামালা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
নরসিংদীতে শিশুর পা ভাঙার অভিযোগে চাচিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামালা
খবরের কাগজ

নরসিংদীর মাধবদীতে নিষ্পাপ এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় অভিযুক্ত চাচি লতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ অভিযোগ করতে রাজি না হওয়ায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় থানা পুশিল বাদী হয়ে মামলা করেন। 

বুধবার (১৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
বিস্তারিত আসছে...

শাহিন/খাদিজা রুমি/

চট্টগ্রামে সাদিয়াস কিচেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৭ এএম
চট্টগ্রামে সাদিয়াস কিচেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ সাদিয়াস কিচেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা।

অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিএমপির একটি টিম অংশ নেন। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে পচা ডিম, ইঁদুর, তেলাপোকা, মশা ও মাছির উপস্থিতি, ফ্রিজারে উচ্ছিষ্টাংশসহ মুরগি সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ স্থানের মধ্যেই মুরগির খামার, খোলা ড্রেনেজ এবং মাংসের সঙ্গে খোলা অবস্থায় দই সংরক্ষণের মতো নানা অনিয়ম পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন নিয়ে খাদ্য উৎপাদনেরও প্রমাণ মেলে। অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইনে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

ইতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ২ এলজি উদ্ধার, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ২ এলজি উদ্ধার, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশের চেকপোস্ট থেকে পালানোর সময় যানজটে আটকা পড়ায় একটি প্রাইভেটকার থেকে দুটি দেশিয় এলজিসহ এক যুবদল নেতা ও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান ফটক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার গাছি বাড়ির হোসাইন আহম্মেদ প্রকাশ আলমগীর (৪২), কক্সবাজার জেলার মাতামুহুরি উপজেলা যুবদলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আয়াত উল্লাহ হুমায়নী প্রকাশ মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহ (২৮) এবং ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কোনাপাড়ার মো. আসাদুজ্জামান (৩৮)।

জানা যায়, লোহাগাড়া থানা পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় প্রাইভেটকারটিকে থামানোর সংকেত দিলেও, সেটি দ্রুত চেকপোস্ট এড়িয়ে চলে যায়। এ সময় পুলিশ ওই প্রাইভেটকারটির পিছু নেয়। এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারটি চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে যানজটে আটকা পড়লে, তল্লাশি চালিয়ে দুটি এলজিসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, চেকপোস্টে ওই প্রাইভেটকারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পিছু নেয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের পাঠানো হবে।

আরিফুল ইসলাম/থিওটোনিয়াস/

বরগুনায় প্রাথমিকের বৃত্তিতে আপন ৩ বোনের সাফল্য

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
বরগুনায় প্রাথমিকের বৃত্তিতে আপন ৩ বোনের সাফল্য
বরগুনায়  বৃত্তি পাওয়া  তিন বোন অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষা

বরগুনায় একই ছাদের নিচে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া তিন বোন- অঙ্কিতা, অনুষ্কা ও অন্বেষার যৌথ লালিত স্বপ্ন ধরা দিয়েছে বাস্তবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একই সঙ্গে তিন বোনই পেয়েছে ‘ট্যালেন্টপুল’ বৃত্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন বোনের বাড়ি সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী গ্রামে। মা কাজল রানী গৌরিচন্না হাইসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। বাবা চিন্ময় মালদার গৌরিচন্না নওয়াব সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর।

স্থানীয়রা বলছেন, বরগুনার ইতিহাসে এই প্রথম একই পরিবারের তিন বোন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে এটি শুধু  ফলাফলের গল্প হিসেবেই নয় বরং এটি অধ্যবসায়, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সুশিক্ষার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শিক্ষক পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাদের কাছে ভালো ফলাফলের চেয়েও বড় বিষয় নিয়মিত শেখা, ভালো মানুষ হয়ে ওঠা। তারা পরীক্ষাকে কখনো ভয় হিসাবে নয়, শেখার একটি ধাপ হিসেবে দেখেছে।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়ার অভ্যাস, সময়মতো বিশ্রাম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এসবই ছিল তাদের বেড়ে ওঠার অংশ।

বরগুনা আত্মোন্নয়ন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারের তিন বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি বরগুনার জন্য যেমন গর্বের তেমনি একই সঙ্গে দেশের অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

শুধু পাঠ্যবই নয়, সংস্কৃতিচর্চাতেও সমান মনোযোগী এই তিন বোন। তারা বরগুনা শিল্পকলা একাডেমির নাট্য বিভাগের শিক্ষার্থী। শিল্পকলা একাডেমির নাট্য বিভাগের প্রশিক্ষক ও ক্যালিক্স একাডেমির সহকারী শিক্ষক ইফরাত জাহান ইমা বলেন, ওদের মধ্যে ভদ্রতা, শৃঙ্খলা ও শেখার আগ্রহ সবসময় চোখে পড়ে। নাট্যচর্চা তাদের আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপনা দক্ষতা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বরগুনা সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের (সেইফ) সভাপতি এহসান আহমেদ নোমান বলেন, পারিবারিক যত্নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীর আন্তরিক প্রচেষ্টা একসঙ্গে থাকলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন সম্ভব। এই অর্জন আমাদের এমনটাই দেখিয়ে দিয়েছে।

তিন কৃতী শিক্ষার্থীর মা কাজল রানী জানান, অঙ্কিতা ও অনুষ্কার স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়া। আর অন্বেষা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।

তিনি বলেন, আমি কখনো ওদের শুধু নম্বরের জন্য পড়তে বলিনি। চেয়েছি ওরা ভালো মানুষ হোক। নিয়মিত পড়ুক এবং নিজের স্বপ্নকে ভালোবাসুক। ঈশ্বরের কৃপায় আজ ওরা এই অর্জন করেছে। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।

মহিউদ্দিন অপু/খাদিজা রুমি/ 

চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতে ডাকাতির ঘটনায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সি কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সি ছেলে সিরাজের জননী। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। এ ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার খবরের কাগজকে জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সি সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ছুড়ি দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বাঁধে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করে।

তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও, হাত বাঁধা থাকায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

ফয়েজ আহমেদ/থিওটোনিয়াস/