ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মার্কিন অবরোধ পুনর্বহাল ও নতুন করে হামলা গুলিস্তানে সেলুনে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’ স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ে দেশম স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ

১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুলাই)

.৫৫ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ
ছবি: সংগৃহীত

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিরল ও মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। আজ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে সূর্য থাকবে পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে। ফলে কিছু সময়ের জন্য কাবা শরিফের কোনো ছায়া দেখা যাবে না। এই অনন্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ কোনো কম্পাস বা প্রযুক্তি ছাড়াই শতভাগ নিখুঁতভাবে কিবলার দিক নির্ধারণ করতে পারবেন।

জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সূর্য যখন কাবা শরিফের ঠিক ৯০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করবে, তখনকার সময়গুলো হলো-

মক্কার স্থানীয় সময়: দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।

বাংলাদেশ সময়: বিকেল ৩টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।

এই নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের আলো কাবার ওপর সম্পূর্ণ লম্বভাবে পড়বে, যার ফলে কাবার চারপাশের ছায়া একদম বিলীন হয়ে যাবে।

এই বিশেষ মুহূর্তে পৃথিবীর যে প্রান্তেই সূর্য দৃশ্যমান থাকবে, সেখান থেকে সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেই তা হবে কাবা শরিফ তথা কিবলার সঠিক দিক।

আধুনিক কম্পাস বা জিপিএস প্রযুক্তি আবিষ্কারের আগে মুসলমানরা এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি ব্যবহার করতেন। খোলা স্থানে একটি সোজা কাঠি বা দণ্ড মাটিতে পুঁতে রাখা হতো। ঠিক এই মুহূর্তে কাঠির ছায়ার বিপরীত দিকটিকে কিবলার দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, যা অত্যন্ত নির্ভুল বলে প্রমাণিত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, বরং একটি নিয়মিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং সূর্যের আপাত গতিপথের কারণে প্রতি বছর সাধারণত দুইবার (মে মাসের শেষ দিকে এবং জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে) সূর্য কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে অবস্থান করে। সূত্র: ডেইলি পাকিস্তান

১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

 

আসর

৪.৩ মিনিট

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৬ জুলাই)

.৫৫ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিভাবে স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন?

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
কিভাবে স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন?
ছবি: সংগৃহীত

সংসার জীবনের ব্যস্ততায় আমরা স্ত্রীকে কত উপহারই না দিই–নতুন শাড়ি, গহনা কিংবা পছন্দের কোনো খাবার। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ভালোবাসার সবচেয়ে বড় এবং নিখরচায় দেওয়া উপহারটি আমরা দিতে ভুলে যাই? সেটি হলো–স্ত্রীর জন্য মন থেকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা। একজন স্বামীর করা দোয়ার চেয়ে স্ত্রীর জন্য আর বড় কোনো উপহার হতে পারে না, যা ইহকাল ও পরকালে তাদের বন্ধনকে আরও মজবুত করে।

ইসলামে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কেবল ভরণপোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার আত্মিক ও মানসিক কল্যাণ কামনা করাও এর অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং পবিত্র কোরআনের আলোকে স্ত্রীর জন্য দোয়া করার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

১. স্ত্রীর জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই তাঁর স্ত্রীর সুস্থতা ও ক্ষমার জন্য দোয়া করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) একদিন মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘হায়! আমার মাথা।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রাসুল (সা.) গভীর মমতা নিয়ে বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় যদি তা ঘটে, তবে আমি তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তোমার জন্য দোয়া করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৭২৪)। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, স্ত্রীর অসুস্থতায় বা যেকোনো প্রয়োজনে তার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া করা স্বামীর অন্যতম সুন্নত।

২. দাম্পত্য জীবনে বরকতের দোয়া
বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির জন্য বরকতের দোয়া করার বিধান রয়েছে। রাসুল (সা.) নবদম্পতিকে এই বলে দোয়া দিতেন, বা-রাকাল্লা-হু লাকুমা ওয়া বা-রাকা ‘আলাইকুমা ওয়া জামা‘আ বায়নাকুমা ফী খায়রিন। অর্থাৎ, এই বিবাহে আল্লাহ তোমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সঙ্গে একত্রিত রাখুন। দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি ধরে রাখতে স্বামী নিয়মিত স্ত্রীর জন্য এবং নিজেদের বন্ধনের জন্য এই বরকতের দোয়া করতে পারেন।

৩. নেক সন্তানের জন্য যৌথ প্রার্থনা
পারিবারিক শান্তি ও ভবিষ্যতের কল্যাণে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য একটি বড় নেয়ামত হলো সৎ ও যোগ্য সন্তান। পবিত্র কোরআনে হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে স্ত্রীর বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়ে নেক সন্তানের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে আরজি জানিয়েছিলেন: ‘রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান তায়্যিবাহ, ইন্নাকা সামীউদ্দুয়া।’ যার অর্থ, ‘হে আমার রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত ৩৮)।

একটি আদর্শ মুসলিম পরিবার গড়ে তুলতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও দোয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, শুধু বস্তুগত উপহার নয়, প্রতিদিনের মোনাজাতে স্ত্রীর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং ঈমানি দৃঢ়তার জন্য আল্লাহর কাছে হাত তুলি। কারণ, যে সংসারে একে অপরের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়, সেই সংসারে আল্লাহর রহমত ও বরকত সব সময় বজায় থাকে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সাহাবিদের গল্প-০৯ সবচেয়ে প্রিয় বাগানটাই দান

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
সবচেয়ে প্রিয় বাগানটাই দান
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে নববির ঠিক উল্টো দিকে এক স্বপ্নের মতো বাগান ‘বায়রুহা’। সারি সারি খেজুরগাছ, ছায়াঘেরা পথ, আর মিষ্টি পানির ঝর্ণাধারা। স্বয়ং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন, সেই সুপেয় পানি পান করতেন। বাগানের মালিক আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু–মদিনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের অধিকারী। আর এই বায়রুহা ছিল তার সম্পদের মুকুটমণি, তার চোখের শীতলতা।

তারপর একদিন নাজিল হলো একটি আয়াত, ‘তোমরা কখনোই পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান, ৯২)
আয়াত শোনামাত্র আবু তালহা ছুটে গেলেন নবিজির কাছে, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ বলেছেন, প্রিয় বস্তু ব্যয় না করা পর্যন্ত পুণ্য মিলবে না। আর আমার সম্পদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো বায়রুহা।

এটি আজ থেকে আল্লাহর জন্য সদকা! আমি এর কল্যাণ ও প্রতিদান আশা করি আল্লাহর কাছে।’ নবিজি আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘বাহ! এ তো লাভজনক সম্পদ, লাভজনক সম্পদ!’ এরপর পরামর্শ দিলেন বাগানটি নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিতে; আবু তালহা তা-ই করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৬১; সহিহ মুসলিম)

লক্ষণীয় বিষয়টি হলো গতি। আবু তালহা ভাবলেন না, হিসাব কষলেন না, ‘পরে দেখা যাবে’ বললেন না। আয়াত শুনলেন, আর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা দিয়ে দিলেন–যেন আয়াতটা নাজিলই হয়েছিল তার জন্য।

আমাদের পরীক্ষাটাও ঠিক এখানে। আমরা দান করি বটে, তবে বাছাই করে–পুরোনো কাপড়, বাড়তি জিনিস, যা না দিলেও চলত। অথচ কোরআনের মানদণ্ড উল্টো; দানের ওজন মাপা হয় জিনিসের দামে নয়, আপনার হৃদয়ে সেটির দামে। প্রশ্ন করুন নিজেকে, সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর জন্য ছাড়তে পারবেন তো?

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর থেকে সম্পদের মোহ দূর করুন, আর প্রিয় বস্তু আপনার পথে বিলিয়ে দেওয়ার সাহস দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে ঘেঁষে যখন কোনো উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ে, তার ঠিক ১৬৫ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব সাক্ষী আজ নিথর, নিস্তব্ধ। যে সুরম্য মিনার থেকে দীর্ঘ ১৩৬ বছর ধরে ভেসে আসত শান্তির আজান, সেখানে আজ ঝুলছে তালা। বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠারও ৩৪ বছর আগে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ (সাবেক গৌরীপুর জামে মসজিদ) আজ থমকে গেছে নিরাপত্তার বেড়াজালে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মসজিদের প্রবেশদ্বার, থমকে গেছে শত বছরের চেনা প্রার্থনার সুর।

গত শুক্রবারও যেখানে শত শত মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল জুমার নামাজ, ঠিক তার পরদিন শনিবার থেকেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। মসজিদের একমাত্র প্রবেশপথ কলকাতা বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটটি হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে রানওয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বিকল্প হিসেবে কাছাকাছি কোনো সুবিধাজনক ও প্রশস্ত জায়গা দেওয়া হবে। কিন্তু এভাবে হঠাৎ পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে, তা আমাদের কাম্য ছিল না।

আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধিমালার কড়া নিয়মকেই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এনেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থায়ী স্থাপনার দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ ঐতিহাসিক এই মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। মসজিদটি বিমানবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত জোনের ভেতরে পড়ে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স' (CISF) অতীতেও এই স্থাপনাটির অবস্থান নিয়ে একাধিকবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

আজ থেকে ১৩৬ বছর আগে, ১৮৯০ সালে যখন অবিভক্ত বাংলার আকাশে-বাতাসে ব্রিটিশ রাজত্বের ডামাডোল, তখন এই মসজিদটি গৌরীপুর জামে মসজিদ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ঠিক ৩৪ বছর পর, ১৯২৪ সালে প্রথম ডানা মেলে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অর্থাৎ, বিমানবন্দর আসার অনেক আগে থেকেই এই মাটি ছিল প্রার্থনার, ছিল আত্মিক প্রশান্তির।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ইতিহাসবিদদের মতে, একসময় অবিভক্ত বাংলার দূর-দূরান্ত, এমনকি বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকেও মানুষ নদী-পথ পাড়ি দিয়ে এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। দেশভাগের পরও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজারো মুসল্লির আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ছিল এই বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ।

উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নিয়মকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, আবার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য আর মানুষের ধর্মীয় আবেগকে অবহেলা করাও যায় না। কলকাতা বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদের স্থানান্তর হয়তো সময়ের দাবি, কিন্তু তা করতে হবে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে।

মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন একটাই আকুল আবেদন—আইন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁদের প্রাণের এই ঐতিহ্যকে যেন উপযুক্ত সম্মান দিয়ে একটি সুন্দর ও প্রশস্ত বিকল্প স্থানে দ্রুত পুনর্বাসিত করা হয়। রানওয়ের কাঁটাতারে যেন চিরতরে হারিয়ে না যায় ১৩৬ বছরের এক জীবন্ত ইতিহাস।