ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ দুই বন্দুক, এক লক্ষ্য ফাইনালে চোখ আলভারেজের দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে? ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’ স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন? আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার এক দশক পেরিয়ে গেলেও মূল ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে পারেনি চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি)। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম প্রশাসনিক অরাজকতা ও স্বেচ্ছাচারিতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে আত্মীয় ও পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া, আর্থিক অনিয়ম, গেস্ট হাউস ভাড়ার নামে অপচয় এবং বিধিবহির্ভূতভাবে লোগো পরিবর্তনের মাধ্যমে হাজারও শিক্ষার্থীর সনদ জটিলতায় ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনিয়মই যেন এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি) চমেবির নানা অনিয়মের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আপত্তি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চমেবি উপাচার্যের আস্থাভাজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করছেন।  
চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ২০১৬ সালের ১২ মে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান ২০১৭ সালের ১৪ মে প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান।

২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ উপাচার্য হন। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো মূল ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়নি। সাবেক উপার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খানও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে উদাসীন ছিলেন। ২০২৩ সালে ইউজিসি এক চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দিলেও অনুষদ চালু, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম ভেঙে অন্যান্য খাতে জনবল নিয়োগ চলছে বলে জানা গেছে। 

বিভিন্ন পদে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মোট ২২ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন বর্তমান উপাচার্য। এ ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নীতিমালা-২০২২ অনুসরণ না করায় নিয়মের ব্যত্যয় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে মঞ্জুরি কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ষষ্ঠ গ্রেডের সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকরামুল হক খানের সঙ্গে চুক্তি না করেই তৃতীয় গ্রেডে তাকে চু্ক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি উপাচার্যের আত্মীয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। ইউজিসির অডিট টিম আসার আগেই নিয়োগের তিন মাস পর তার সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চু্ক্তির এক বছর পর অসংগতির বিষয়ে ইউজিসির মৌখিক আপত্তি এলে পত্রিকায় অস্থায়ী জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। নিয়োগের ফলাফল পত্রিকা কিংবা ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করে এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন না নিয়ে তাকে ২০২৬ সালের ১ জুন ফের নিয়োগ দেওয়া হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে ডা. অজয় দেবকেও একই কায়দায় নিয়োগ দেওয়া হয়। 

শাখা কর্মকর্তা পদে মো. রহিম উল্লাহকে (৩৫) অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে প্রকিউরমেন্ট অফিসার হিসেবে অতিরিক্ত পদায়ন করা হয়। যার সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ইউজিসির সর্বশেষ অডিট টিম আপত্তি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে তার বেতন-ভাতাদির বাজেট পাস করেনি ইউজিসি।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মইনউদ্দিন জাহেদকেও একই কায়দায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত সার্কুলার থাকা অবস্থায় নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই উপাচার্য তাকে ১ মার্চ নিয়োগ দেন। মহিউদ্দিনের বয়স ৩৫ বছরের বেশি। তবে রহস্যজনক কারণে ইউজিসির প্রতিবেদনে তার নামে কোনো আপত্তি নেই। 

সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলমকে রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ১১তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন হয়। ওই সভায় রেজিস্ট্রার সুলতানা রুমা আলম নিজেই সদস্যসচিব হিসেবে নিজের নিয়োগের সুপারিশ করেন। কলেজ পরিদর্শক হিসেবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. ময়নাল হোসেনকেও একই কায়দায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ১১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তমতে পূর্ণাঙ্গ চাকরির সংবিধি প্রণয়ন না করা পর্যন্ত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে না। ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থায়ী নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ডা. ইফতেখার আদনানকে অস্থায়ী সহকারী কলেজ পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

শাখা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট। কিন্তু ওই পদে রাজিব মোল্যাকে অস্থায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে এক দিন আগে, ৩ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন মাঠ পরিদর্শকের শ্যালক বলে তাকে এই বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 

কুক্ষিগত আয়-ব্যয় 

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। তবে দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আয়-ব্যয় করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের ফাকাল্টিনুসারে বার্ষিক সব আয় ডিনদের নামে ব্যাংক হিসাবে জমা হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক উপাচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে ইউজিসি ও অর্থ কমিটি অনুমোদিত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের বাইরে গিয়ে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলেন। এ বিষয়ে ইউজিসি নির্দেশনা রয়েছে যেন একটি হিসাব থেকে সব আয়-ব্যয় করা হয়। 

কৃচ্ছ্রসাধনের নামে অপচয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়’স লেকস্থ খুলশী রোজ ভ্যালি আবাসিক এলাকার গেস্ট হাউসের ভাড়া ছিল মাসে সর্বসাকুল্যে ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু কৃচ্ছ্রসাধনের নাম দিয়ে উপাচার্য তার নিজ আবাসিক এলাকা খুলশী ১ নম্বর সড়কে তার বাসার পাশেই নতুন গেস্ট হাউস ভাড়া করেন। যার ভাড়া মাসে ৭১ হাজার ২০০ টাকা। ইউজিসির নির্দেশনামতে বিশ্ববিদ্যালয় গেস্ট হাউসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বসবাসের সুযোগ নেই। কিন্তু বর্তমানে ডিনরা সেখানে রাতযাপন করেন। 

বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হলেন ডিন

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নিছা খানমকে নার্সিং অনুষদের ডিন করা হয়। পরে তিনি সাদার্ন মেডিকেল কলেজে গিয়ে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। তবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক থাকাকালেই তিনি ডিন হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদোন্নতি বোর্ডের স্পেশাল সুপারিশ নিয়ে চলতি দায়িত্ব সহযোগী অধ্যাপক হতে সরাসরি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। অথচ ডিন হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষক হতে হবে। নিজ নিজ অনুষদের শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হয়। 

অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভা

সিন্ডিকেট সভা ও বার্ষিক অ্যাকাডেমিক ভর্তি নিয়মিত সেশনের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো পরিচালনার আগে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা আয়োজনের নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে উপচার্যের কোনো আগ্রহ নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো উপাচার্যের সদয় জ্ঞাতার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব পাঠালেও এতে আগ্রহ দেখাননি। যখন সিন্ডিকেট সভা অতি জরুরি হয়ে পড়ে, তখন তাড়াহুড়ো করে কোনোভাবে সভা আহ্বান করে অনুমোদন করে নেন। বছরে চারটি সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের নিয়ম থাকলেও যোগদানের প্রায় দুই বছরের মধ্যে করেছেন মাত্র তিনটি।

ওয়েবসাইটেও আছে অসংগতি

প্রতিষ্ঠার পর যে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী সব তথ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য আসার পর সেটি বাদ দিয়ে নতুন করে ওয়েবসাইট তৈরি করেন। যেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো আইটি কর্মকর্তাও। অথচ ইউজিসি থেকে এ বিষয়ে জনবলের অনুমোদন আছে। অনিয়মের মাধ্যমে যেসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের নাম, পদবি ও ছবি ওয়েবসাইটে নেই। 

ঢাউস উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও সেমিনার কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও সেমিনার কমিটি হওয়ার কথা ১০ সদস্যের। কিন্তু বর্তমান উপচার্য করেছেন ১৮ সদস্যের কমিটি। এতে নিয়মের ব্যত্যয় হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।  

পদশূন্য করে জনবল নিয়োগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ডা. হাসিনা নাসরিন, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহিদ বিন আমীন ও এ এম শাহাদাত হোসাইন, উপ-কলেজ পরিদর্শক ডা. আইরিন সুলতানা, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু মোহাম্মদ মাসুদকে চাকরি থেকে অপসারণ করে ওই সব পদে নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য। চাকরিচ্যুতরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত চাকরি পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা পরিচালনার খরচ বহনের অনুমোদন অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট থেকে নেওয়া হয়নি।
কোনো প্রকার বিভাগীয় অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কর্মচারী অফিস সহায়ক সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. কামরুল হাসানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। 

চমেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে খবরের কাগজ থেকে প্রশ্ন পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলমের মোবাইলে একইভাবে খবরের কাগজের পক্ষ থেকে প্রশ্ন পাঠানোর পর ফোন করা হলে তিনি প্রথমে ছুটিতে থাকার কথা উল্লেখ করে এক সপ্তাহ সময় নেন। সপ্তাহখানেক পর খবরের কাগজকে জানান, ইউজিসি যেসব পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তার ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউজিসির অনুমোদিত পদগুলোতে ইউজিসির অনুমোদনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রহিম উল্যাহর বিষয়ে তিনি বলেন, তার অভিজ্ঞতা আছে। তার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে বয়স শিথিলযোগ্য। বিষয়টি ইউজিসিকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের  অস্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তাদের চাকরিকালীন কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পর ইউজিসির পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

তার নিজের নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ডা. সুলতানা রুমা আলম দাবি করেন, তখন তিনি অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে সদস্যসচিব থাকলেও যখন তার বিষয়টি আলোচনায় আসে তখন তিনি সভা থেকে বেরিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্যাংক হিসাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসির পরামর্শমতে ব্যাংক হিসাব কমিয়ে আনা হচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। নতুন গেস্ট হাউস নিয়ে খরচ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন,  ইউজিসি নির্ধারিত বাজেটের চেয়েও কম রেটে গেস্ট হাউস ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইউজিসির পরিদর্শন সাপেক্ষে গেস্ট হাউস অনুমোদিত হয়। তাই এখানে ব্যয় বৃদ্ধি হয়নি। 

ডা. মেহেরুন্নেসার ডিন হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি সহযোগী অধ্যাপক থাকা অবস্থায় ডিন হয়েছেন। চমেবি গবেষণা কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের কমিটির অনেকেই নেই। এরপর একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি এই কমিটিকে ভেঙে পৃথক দুটি কমিটি করা হয়েছে। যার একটি রিসার্চ এবং অপরটি ইথিকেল রিভিউ কমিটি।

ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১ এএম
ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক
ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। ছবি: সংগৃৃৃৃৃহীত

চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে শেল কোম্পানির মাধ্যমে আট হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে কিছু তথ্য হাতে পেলেও প্রয়োজনীয় প্রমাণের অপেক্ষায় আছেন। এ জন্য তথ্য-উপাত্ত চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিও পাঠিয়েছেন তারা।

সবশেষ গত ১ জুলাই প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম। চিঠিতে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য পাঠানোর তাগিদ দেওয়া হলেও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ১০ জুলাই শুক্রবার হওয়ায় এবং পরবর্তী কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তথ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। এর পরও তথ্য না পেলে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে আগামী সপ্তাহে আরেকটি তাগিদপত্র পাঠানো হবে। 

এ ব্যাপারে দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আইনানুগভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিলে অভিযোগের সত্যাসত্য সম্পর্কে জানা যাবে।’  

একই অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএনের তথ্য ও পাসপোর্টের কপি এবং চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেক চিঠিতে আর্থিক লেনদেনের বিবরণী চেয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন অনুসন্ধান টিমের প্রধান মুস্তাফিজুর রহমান। 

সূত্র জানায়, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন, ছেলে জারান আলী চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তত ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শওকত আলীর নামে ১৪টি, তাসমিয়া আম্বারীনের নামে ১৫টি, জারা নামরীনের ৯টি, জারান আলীর ৩টি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

গত বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা জমা এবং ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাকাউন্টগুলোতে মোট স্থিতি রয়েছে ১৭৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অ্যাকাউন্টগুলোর কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ও সহায়ক দলিলাদি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওপেন সোর্স, বিএসইসি, সরকারি বন্ড ও জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিভাগ থেকে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। শওকত আলী চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থ পাচার, পাচারের টাকা বিদেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ কেনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে তৎপরতা চলছে। শওকত আলী চৌধুরী সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যে কয়েকটি ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছেন বলে ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এসব ফ্ল্যাট কেনা ও বিনিয়োগের জন্য ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত একাধিক শেল কোম্পানিকে ব্যবহার করেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছে। 

এলসির নামে অর্থ পাচার:

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে তিনটি কোম্পানি থেকে জাহাজ কিনেছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখা ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এসএন করপোরেশনের পক্ষে তিনটি ঋণপত্র (এলসি) স্থাপন করে, যার বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) ছিল রেড রুবি গ্রুপ লিমিটেড, ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেড ও কলাম্বিয়া সিস লিমিটেড। এই তিন কোম্পানিই ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে একই ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত। অথচ কোম্পানিগুলোর কোনোটিরই অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোম্পানিগুলোর নিবন্ধনের পর শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের কোম্পানি ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। 

ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই তিনটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি ঋণপত্রের মধ্যে ২০১৫ সালের এলসি নম্বর ২৪৯৪১৫০২০০৩৯-এর মূল্য ছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ লাখ ডলার। ২০২০ সালের এলসি নম্বর ২৪৯৪২০০১০০২৫-এর মূল্য ৪ দশমিক ৬৪ লাখ ডলার। ২০২৩ সালের এলসি নম্বর ২৪৯৪২৩০১০০১৩-এর মূল্য ২১ দশমিক ৪১ লাখ ডলার। সব এলসিতেই আমদানিকারক ছিল এসএন করপোরেশন। এসবের সুবিধাভোগী কোম্পানিগুলো ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত অস্তিত্বহীন ওই তিন কোম্পানি। 

শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশন ২০১২ সাল থেকে পুরোনো জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত ১৪১টি এলসি করেছে। এর অধিকাংশ ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। শওকত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে লেনদেন সন্দেহজনক। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখার ঢাকা ব্যাংক পিএলসিতে ২০০৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত শওকত আলীর একটি প্লাটিনাম অ্যাকাউন্ট ছিল। এই অ্যাকাউন্টে মোট জমা হয় ৩৯৮ কোটি টাকা, উত্তোলনও করা হয় ৩৯৮ কোটি টাকা। অ্যাকাউন্টটি তার ব্যক্তিগত হলেও কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসএন করপোরেশনের ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলীর ব্যক্তিগত প্রিমিয়াম সেভিংস হিসাব রয়েছে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে ১২৫ বার নগদ টাকা উত্তোলন করেছেন কোম্পানির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলীর মেয়ে জারা নামরীনের ব্যক্তিগত সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে ২০১৫ সাল থেকে গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে। একই শাখায় জারা নামরীনের প্রিমিয়াম সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৮ বার নগদ উত্তোলন করেছেন ব্যাংকটির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন। মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলীর ছেলে জারান আলী চৌধুরীর সুপার সেভার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসএন করপোরেশনের বিপুল পরিমাণ টাকা জমা ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির জুবিলি রোড শাখায় এসএন করপোরেশনের সিসি (হাইপো) অ্যাকাউন্ট থেকে নামরীন এন্টারপ্রাইজ ও শিপ ব্রেকিং খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে।

নিড ড্রেসেস প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা হয়েছে। সিটি ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখায় শওকত আলী চৌধুরীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ৩ কোটি টাকা জমা ও তা মিডওয়ে সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ, ১০৬ কোটি টাকা জমা ও পরবর্তী সময়ে এসএন করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের আগ্রাবাদ শাখায় অনুমোদন ছাড়াই এসএন করপোরেশনকে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার এলটিআর সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের আগে শাখা কার্যালয় এ ঋণ সুবিধা দেওয়ায় ব্যাংকিং নীতি ও রীতি লঙ্ঘন হয়েছে। 

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের অর্থ পাচার, সন্দেহজনক লেনদেন, আর্থিক নানাবিধ দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু তথ্য-উপাত্ত এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া বিদেশে ফ্ল্যাট ও সম্পদ কেনার বিষয়ে তথ্য সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম
আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন

নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ভেতরে অবস্থিত অনন্ত অ্যাপারেলসের কাপড়ের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৪টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। 

খবর পেয়ে ৪টা ১৪ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা।

আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে। 

আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

আজিজুল/অমিয়/

দেশজুড়ে বন্যায় ৫৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দেশজুড়ে বন্যায় ৫৬ জনের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের সাতটি জেলায় অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৬ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বন্যায় ৫৯টি উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত ৭টি জেলায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দেশের সাত জেলায় ৩২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ১০ হাজার ৮৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

 মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ জনের প্রাণহানি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের বন্যায় কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ ৩১ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। এ জেলায় গতকাল পর্যন্ত ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ৩৭৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন। 

খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় ৩৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জেলায় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। রাঙামাটির ৯টি উপজেলায় ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জেলায় ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই জেলায় ২০ লাখ টাকা ও ২৯৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জেলায় ৬ জন মারা গেছেন। এ জেলায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলায় ১২২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে ১৫ জন মারা গেছেন। জেলায় ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের ৩টি উপজেলায় ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ক্ষতি হয়েছে। এখানে একজন মারা গেছেন। জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় ২ লাখ টাকা ও ৩০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
‘বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার’

এবারের বন্যায় কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। গতকাল সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলন কক্ষে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান।

জানমাল সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকাগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতা চলছে। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি সার্বিক পর্যবেক্ষণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) খুলেছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি নিবিড় মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। 

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে 
চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, মুহুরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই তথ্য জানিয়েছে। 

বন্যা পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই অঞ্চলে যাদুকাটা, ভুগাই-কংস ও সারিগোয়াইন নদীর পানিও হ্রাস পেয়েছে। তবে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে চারটি নদীর পাঁচটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী) স্টেশন, সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশন, কুশিয়ারা নদীর মার্কুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশন এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া স্টেশন এবং কপোতাক্ষ নদের ঝিকরগাছা (যশোর) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।

উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে রংপুর জেলায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ ছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আপার করতোয়া ও করতোয়া নদীর পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ঢাকা বিভাগের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী ও টঙ্গীখাল এবং রাজশাহী বিভাগের আত্রাই, মহানন্দা, যমুনা ও করতোয়া নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল পাস

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পিএম
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০০১ সালের ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ বাতিল করে নতুন নামে বগুড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনে বগুড়া জেলায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, জীবনবিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সমাজবিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাশাপাশি এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা ও দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া শিল্প, বাণিজ্য, সমাজ ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স চালুর সুযোগ থাকবে। অনলাইন দূরশিক্ষণ ও ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়েও এসব কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত ৭ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। পরে কমিটির সুপারিশসহ মঙ্গলবার বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ ওই বছরের ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি চলমান থাকায় আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং এ অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এলিস/রিফাত/

কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
কেরানীগঞ্জে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আছিয়া আক্তার মিম (২৫) নামে এক শিক্ষার্থী (গৃহবধূ) আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বামী ইমামুল ইসলাম জানান, আমাদের এক মাস আগে বিয়ে হয়েছে। মিমদের নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছিল। আমি সেখানে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। বিকেলে কাজ শেষে বাসায় ফিরে তার মায়ের কাছে মিমের কথা জিজ্ঞেস করি। তিনি জানান, মিম খাবার খেয়ে রুমে গেছে। এরপর আমি বাসার দ্বিতীয় তলায় ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে মিমকে কোথাও দেখতে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করি। পরে তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখি রুমটি ভেতর থেকে লক করা। অনেক ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় সেটি ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি, মিম সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নিহত আছিয়া আক্তার মিম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত মনিরুজ্জামান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

আজিজুল হাকিম/রিফাত/