ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ দুই বন্দুক, এক লক্ষ্য ফাইনালে চোখ আলভারেজের দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে? ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’ স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন? আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর ফ্রান্স বধে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন, বিশ্বরেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে লা রোজারা লাল কার্ডে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর চাপ আরও বাড়ে: বালোগুন ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ‘বিশ্বকাপ জিততে সেরাদেরই হারাতে হবে’ ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফিরে দেখা দ্বৈরথ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে আজ (১৫ জুলাই) রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই মহারণের আগে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে আসছে বিশ্বকাপের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস। ১৯৬২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার। আর্জেন্টিনার জয় একটি এবং আরেকটি ম্যাচ ড্র হলেও টাইব্রেকারে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে এবারের দ্বৈরথের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মানসপটে ভেসে উঠছে ১৯৮৬ সালের উত্তপ্ত কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ ঘিরে থাকা সেই দ্বৈরথ আজও দুই দেশের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় হাইলাইট।

১৯৬২ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয় গ্রুপপর্বে। শক্তিশালী ইংল্যান্ড ওই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়। ২ জুলাই ১৯৬২ সালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে গোলগুলো করেন রোনাড ফ্লোয়ারস (১৭), রবার্ট চ্যারিল্টন (৪২) ও পিটার গ্রেভেস (৬৭)। ম্যাচের ৮১ মিনিটে আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলটি করেন জোসে ফ্রান্সিসকো। এটিই ছিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম জয় এবং দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা। 

১৯৬৬ বিশ্বকাপ: ‘বিতর্কিত’ আতিথেয়তা
লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ১৯৬৬ সালের ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ইতিহাসে পরিচিতি পায় ‘যুদ্ধ’ হিসেবে। ইংলিশদের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে লাল কার্ড দেখানো হলে তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে ইংলিশ ম্যানেজার আলফ র‌্যামজে আর্জেন্টাইনদের ‘পশু’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ওই ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন জিওফ হাস্ট। শেষ পর্যন্ত ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে অতিরিক্ত সময়ে ৪-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জয় করেছিল ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। 

১৯৮৬ বিশ্বকাপ: ঈশ্বরের হাত ও শতাব্দীর সেরা শিল্পের দ্বৈরথ
বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডারে কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধু দুই দলের লড়াই নয়। সেগুলো হয়ে ওঠে ইতিহাস, আবেগ, প্রতিশোধ আর কিংবদন্তির গল্প। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ ঠিক তেমনই। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও যখন মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি, তখন সময় যেন নিজেই ফিরে যাচ্ছে ৪০ বছর আগের সেই অবিস্মরণীয় বিকেলে। ১৯৮৬ সালের ২২ জুন। মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। মাত্র চার বছর আগে ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত তখনো টাটকা। তাই ম্যাচটি ছিল কেবল ফুটবল নয়, দুই জাতির অহংকারেরও লড়াই। সেই ম্যাচেই জন্ম নেয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বিস্ময়কর দুটি গোল। ঐতিহাসিক ম্যাচটির প্রথমার্ধে ‘হ্যান্ড অব গড’-এর ধোঁকা, আর ঠিক চার মিনিট পরই রূপকথার মতো মাঝমাঠ থেকে পাঁচ ইংলিশ ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে সেই অবিস্মরণীয় একক গোল ম্যারাডোনার। সেদিন ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গের গল্প লিখেছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচ জিতে সেমিতে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনাল জিতে হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। 

ওই ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল ১,১৪,৫৮০ জন। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক চার বছর আগে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ফকল্যান্ড যুদ্ধ (মালভিনাস যুদ্ধ) সংঘটিত হয়েছিল। এই রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে মাঠের লড়াইটি ফুটবল ছাড়িয়ে এক চরম মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছিল। আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে স্থানীয় মেক্সিকান বাজার থেকে হালকা ও সস্তা কাপড়ের নীল জার্সি কিনে তার ওপর লোগো বসিয়ে দল মাঠে নেমেছিল। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যারাডোনা দুটি অবিস্মরণীয় গোল করেন। বিরতির পর শুরুতেই ঘটে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় ৪টি মিনিট, যা ফুটবলের দর্শনকে বদলে দিয়েছিল।

ম্যাচের ৫১ মিনিটে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বল পাস দেন সতীর্থ হোর্হে ভালদানোকে। ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভ হজ বলটি ক্লিয়ার করতে গেলে বলটি ওপরে বাতাসে ভেসে পেনাল্টি বক্সের দিকে চলে যায়। ম্যারাডোনা তীব্র গতিতে ছুটে যান এবং ইংল্যান্ডের লম্বা গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগেই লাফিয়ে ওঠেন। শিলটন হাত দিয়ে বল ফিস্ট করার চেষ্টা করার মুহূর্তেই ম্যারাডোনা নিজের বাম হাত দিয়ে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের জন্য তীব্র প্রতিবাদ করলেও তিউনিসিয়ান রেফারি আলী বিন নাসের এটি দেখতে পাননি এবং গোলটি বহাল রাখেন। পরে ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা এটিকে বলেছিলেন, গোলটি কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে হয়েছে। সেই থেকে এটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে বিখ্যাত।

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৫৫ মিনিটে ম্যারাডোনা নিজেদের অর্ধে (মাঝমাঠের সামান্য ভেতরে) বল পান। এর পর তিনি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য একক দৌড় শুরু করেন। প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে দৌড়ে একে একে ইংল্যান্ডের ৫ জন খেলোয়াড়কে (পিটার বিয়ার্ডসলে, পিটার রিড, টেরি বুচার, টেরি ফেনউইক এবং টেরি বুচারকে পুনরায়) জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করেন। অবশেষে গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে ছিটকে ফেলে মাটিতে পড়ার মুহূর্তে বল জালে জড়ান। ২০০২ সালে বিশ্বফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভোটে এটি ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৮১ মিনিটে জন বার্নসের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার। শেষের দিকে ইংল্যান্ড সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

এই জয়ের পর আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারায় এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। পুরো টুর্নামেন্টে ৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে ম্যারাডোনা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ‘গোল্ডেন বল’ জয় করেন। অন্যদিকে ৬ গোল করে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘গোল্ডেন বুট’ জেতেন।

১৯৯৮: প্রতিশোধের আগুন ও পেনাল্টির রোমাঞ্চ
ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৯৮ সালের ৩০ জুন অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড আর আর্জেন্টিনার ডিয়েগো সিমিওনের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের লড়াই ছিল উল্লেখ করার মতো। সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। 

২০০২: বেকহামের প্রায়শ্চিত্ত ও ইংলিশ উল্লাস
২০০২ সালের ৭ জুন জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। আগের বিশ্বকাপের খলনায়ক ডেভিড বেকহাম এবার হয়ে ওঠেন নায়ক। ৪৪ মিনিটে তার করা একমাত্র পেনাল্টি গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিশোধের তৃপ্তি পেয়েছিল ইংলিশরা।

ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডারে কিছু ম্যাচ থাকে, যেখানে বাঁশি বাজে মাঠে, কিন্তু প্রতিধ্বনি শোনা যায় ইতিহাসের পাতায়। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ঠিক তেমনই এক মহারণ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, ম্যারাডোনার জাদু, বিতর্ক আর প্রতিশোধ। এবার তাতে যোগ হয়েছে মেসির নতুন অধ্যায়। সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি মহাকাব্য রচনার মঞ্চ। তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের কাঁপন তুলে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জিতলে ফাইনাল, হারলে বিদায়। এমন আবহ ছাপিয়েও থাকবে গৌরব, অহংকার আর ইতিহাসকে নতুন করে লেখার সুযোগও।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে দেখানো বিতর্কিত লাল কার্ড। আর্জেন্টিনার অনেকের বিশ্বাস, ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল নিয়েও বিতর্ক ছিল। অনেক আর্জেন্টাইন আজও সেই ম্যাচকে ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি’ বলেই মনে করেন।

এরপর আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওই সংঘাতে প্রাণ হারান ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন দ্বীপবাসী। যুদ্ধ শেষ হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর তার ছায়া আজও রয়ে গেছে। যুদ্ধের মাত্র চার বছর পরই মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেই আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমে ‘হ্যান্ড অব গড’। এরপর পাঁচজনকে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’; দুটি গোলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে জেতে শিরোপাও। ফলে মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর ম্যারাডোনা শুধু ফুটবল নায়ক নন, অসংখ্য আর্জেন্টাইনের কাছে জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায় এই দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করে। আর ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে কিছুটা প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই দলের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে মুখোমুখি দুই দল। শেষ চারের লড়াইটি একদিক থেকে বিশেষ। তা হলো লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে নামা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এখন দলকে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে তোলার সুযোগ। ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনো হারে না আলবিসেলেস্তারা। 

আটলান্টায় যুদ্ধের আমেজ থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রবীণ যুদ্ধ-সেনাদের সংগঠন ‘এপ্রিল টু ওয়ার ভেটেরানস ফেডারেশন’ এবার সমর্থকদের ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। তাদের ভাষায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সেমিফাইনাল ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়।’ তারা সমর্থকদের ঘৃণা বা উগ্র জাতীয়তাবাদ নয় বরং যুদ্ধে নিহতদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ম্যাচটিকে কেবল ফুটবলের চোখেই দেখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সমাধান হয় কূটনীতির টেবিলে; ফুটবল মাঠে নয়।

তবে এমন আহ্বান কতটা প্রভাবিত করতে পারবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চোখ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল। গ্রুপ সেরা হয়ে নক আউট পর্ব; সব ম্যাচেই অবশ্য ভীষণ লড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে থেকে শুরু করে, মাঝে মিসর, শেষটা সুইসদের বিপক্ষে মেসিদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিশ্বকাপে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করেছিল। 

আর্জেন্টিনার স্বস্তি, দলটিকে মেসিনির্ভর বলা যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনার শক্তি অবশ্য তাদের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। মেসির সঙ্গে হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোদের নিয়ে গড়া দলটি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে।

তবে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা অতীতের উত্তাপকে মাঠে টেনে আনতে চান না। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এই ম্যাচে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় জড়িত নয়। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কণ্ঠেও একই সুর, ‘এটা দুই গর্বিত জাতির লড়াই। তবে মাঠে ফুটবলই কথা বলবে।’

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে আছে। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইসদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলেছে থ্রি লায়ন্সরা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও আকাশছোঁয়া। তবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ইংলিশরা সেমির গেরোতে আটকা। ঘরের মাঠে সেবার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনোবারই ফাইনালে উঠতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। ১৯৯০ সালে সেমিতে উঠলেও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৮ বিশ্বকাপে আবারও সেমিতে নাম লেখায় কাগুজে বাঘ খ্যাত ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তাদের ধূলিসাৎ হয় ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে। 

চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বেশ ভারসাম্য দল। ইংলিশ মিডিয়াও অনেকটা সংযত। হুলিগান নামে একটা সময় উগ্র সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল ইংলিশ শিবিরে। এবার সেখানেও ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ডের ম্যাচে তেমন উগ্র আচরণ দেখা যায়নি তাদের মধ্যে। সব মিলিয়ে নীরবে-নিভৃতে যেন এগিয়ে চলেছে দলটি। যেখানে দলের দুই কান্ডারি হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। দুজনই করেছেন ৬টি করে গোল। যা একটি দলের আক্রমণভাগের বলিষ্ঠ রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। লক্ষ্য একটাই–সেমির বৈতরণি পার হয়ে ষাট বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখা। 

হেড টু হেডের হিসাব স্বস্তি দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ১৪ বারের মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের জয় ছয়টিতে। আর্জেন্টিনা জিতেছে তিনটিতে। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসও ইংল্যান্ডে পক্ষে। বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ইংল্যান্ডের জয় তিনটি, আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি ম্যাচ। তবে পরিসংখ্যান অনেক সময় হিসাবের খাতাতেই লিপিবদ্ধ থাকে। মাঠের খেলাই আসল কথা।

আটলান্টার রাতে এটি শুধু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একটি সেমিফাইনাল নয়। এটি ম্যারাডোনার স্মৃতির সঙ্গে মেসির স্বপ্নের মিলন, ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ এবং বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর আরেকটি নতুন অধ্যায়। যে দল জিতবে, তারা শুধু ফাইনালে উঠবে না; নিজেদের নামও লিখে রাখবে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় রাতে।

স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ
ছবি: সংগৃহীত

বাস্তিল দিবসের বিকেলে ফ্রান্সজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। ১৭৮৯ সালের এই দিনেই বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে বদলে গিয়েছিল ফ্রান্সের ইতিহাস। স্বাধীনতা, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের স্বপ্নে নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল তাদের। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক দিনের আবেগকে ফুটবলের মঞ্চে আনন্দে রাঙাতে পারল না ফ্রান্স। স্পেনের ছন্দময় ফুটবলের কাছে থেমে গেল তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নিল যাত্রা। স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান হয়ে গেল বাস্তিল দুর্গের উৎসব। 

টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ চারেই থামতে হলো অপ্রতিরোধ্য কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। দিদিয়ের দেশমের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। 

চলমান বিশ্বকাপে অদম্য গতিতে ফরাসিরা এগোলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে ছিল স্পেনই। ফ্রান্সের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে তাদের জয় সাতটি, হার দুটি, একটি ম্যাচ ড্র। সর্বশেষ ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচেও ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল লা রোজারা। সেই ধারাই বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখল তারা।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। বলের দখল, আক্রমণের ধার এবং আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকা দলটি ২০ মিনিটেই পেয়ে যায় পেনাল্টি। ফ্রান্সের বক্সে লুকাস দিনিয়ে বুঝতেই পারেননি তার ঠিক পেছনে ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন তিনি। স্পষ্ট ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

২২ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ সঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট ছিল তার নাগালের বাইরে। এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়েন ওইয়ারসাবাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। এর আগে এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ডেভিড ভিয়ার। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড এখন ওইয়ারসাবালের।

গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু প্রথমার্ধে নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি তারা। বরং চোটের কারণে উইলিয়াম সালিবাকে হারানোয় আরও বিপদে পড়ে দেশমের দল। ৪১ মিনিটে অবশ্য সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি অধিনায়ককে থামাতে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের ঝাঁপিয়ে পড়া রক্ষা করে দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের আশা আরও কঠিন করে দেন পেদ্রো পোরো। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করেন তিনি। স্পেন এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল গোল করে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে তার গোল বাতিল হয়। এরপর ফ্রান্স আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭২ মিনিটে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়েকে তুলে রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজকে মাঠে নামান দেশম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ দিকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে আর কোনো গোল হয়নি। ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন।

গ্যালারিতেও ছিল স্পেনের ইতিহাসের সাক্ষী অনেক মুখ। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস, জাভি, কার্লোস পুয়লদের উপস্থিতি যেন নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে ছিল।

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে ফিরল। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়। তবে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে আসা লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের সামনে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।

দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ এএম
দেশম যুগের অবসান, ফ্রান্সের নতুন কোচ হচ্ছেন কে?
দিদিয়ের দেশম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মধ্য দিয়েই শেষ হলো দিদিয়ের দেশম যুগ। দীর্ঘদিন ফ্রান্সের দায়িত্ব সামলানোর পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার বিদায়ের পর এবার ফ্রান্সের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশটির আরেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় লে ব্লুরা।

দেশমের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ফ্রান্সের ফুটবলের এক সফল অধ্যায়। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। এরপর কোচ হিসেবেও লিখেছেন সাফল্যের নতুন ইতিহাস। তার অধীনে ফ্রান্স টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে- ২০১৮ ও ২০২২ সালে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফরাসিরা।

দেশমের অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০টি জয় পেয়েছে ফ্রান্স। ড্র করেছে ৩৫টি এবং হেরেছে ২৯টি ম্যাচ। জয়ের হার ৬৫.২ শতাংশ।

দেশমের বিদায়ের পর ফ্রান্সের ডাগআউটের দায়িত্ব পাচ্ছেন তার সাবেক সতীর্থ জিনেদিন জিদান। ফরাসি গণমাধ্যমের খবর, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও জিদানই হচ্ছেন ফ্রান্সের নতুন কোচ।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন জিদান। পরে ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হতে হয় ফরাসিদের। ম্যাচটিতে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জিদান। ওই ম্যাচটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

কোচ হিসেবেও জিদানের সাফল্য অনন্য। দুই দফায় রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব পালন করে ক্লাবটিকে একাধিক বড় শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কীর্তি তাকে বিশ্বের অন্যতম সফল কোচের মর্যাদা দিয়েছে।

এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে ফ্রান্সের ডাগআউটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন জিদান। 

এসজি/

স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম
স্পেনের কাছে হেরে ‘বিধ্বস্ত’ ফ্রান্স, রেফারিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দেশমের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর হতাশা লুকাতে পারেননি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেছেন, এই পরাজয়ে তার খেলোয়াড়রা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি ইভান বার্টনের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে দেশম বলেন, ‘অবশ্যই আমরা খুব হতাশ। খেলোয়াড়রা বিধ্বস্ত, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। তবে বাস্তবতাও মেনে নিতে হবে। আজ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। স্পেন পুরো ম্যাচ খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’

তবে পরাজয়ের দায় অন্য কারও ওপর চাপাতে চাননি ফ্রান্স কোচ। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই বলব, এটা আমাদের নিজেদেরই দোষ। আমি অন্য কাউকে দোষ দিতে চাই না।’

এরপরও ম্যাচ রেফারি ইভান বার্টনকে নিয়ে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি তিনি। প্রথমার্ধে লুকা দিনিয়ের ফাউলে লামিন ইয়ামাল পেনাল্টি আদায় করলে স্পেন এগিয়ে যায়, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে দেশম বলেন, ‘একটি প্রশ্ন করব, তবে এর উত্তর দেব না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার জন্য রেফারি কি প্রয়োজনীয় মানের ছিলেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ হেরেছি বলেই এটা বলছি না। ম্যাচে এমন অনেক পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেও গেছে।’

তবে ঠিক কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে তার আপত্তি ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি দেশম।

এসজি/

ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে, খেলা কবে-কখন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। এবার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করে লা রোজারা।

এটি স্পেনের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠা। এর আগে, তারা ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছিল। 

আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এসজি/