সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। এবার সামনে ইংল্যান্ড। ইতিহাস, আবেগ আর বহু পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘেরা এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এটি ফুটবলেরই একটি ম্যাচ।
ফিফার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলভারেজ বলেন, ‘চাপ হবে কি না জানি না। তবে এটা অবশ্যই বিশেষ একটি ম্যাচ। কেন বিশেষ, সেটা সবাই জানে। আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি শুধু একটি ম্যাচ।’ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির মতোই অতীতের রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক প্রসঙ্গকে মাঠে টেনে আনতে চান না আলভারেজ। তার চোখ শুধু ফাইনালের টিকিটে।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেব, যেন আর্জেন্টিনাকে আবারও সবার ওপরে তুলে ধরতে পারি।’ ইংল্যান্ডকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক আলভারেজ। তার মতে, থ্রি লায়ন্সদের সেমিফাইনালে ওঠা মোটেও বিস্ময়কর নয়।
তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড খুবই শক্তিশালী দল। তাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে। তাই তারা সেমিফাইনালে এসেছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা জানি, ম্যাচটা মোটেও সহজ হবে না।’
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলাও সহজ ছিল না। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। তবে সেটাকেই নিজেদের শক্তি মনে করছেন আলভারেজ, ‘গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও মাঠে নেমে খেলতে হয়। এরপরের প্রতিটি ম্যাচই ছিল খুব কঠিন। আমরা কষ্ট করেছি, কিন্তু এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে।’
দলের ভেতরের প্রতিযোগিতাকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, ‘দলে প্রতিযোগিতা খুব বেশি। সবাই এই জার্সির জন্য নিজের সেরাটা দিতে চায়। তাই প্রতিটি ম্যাচেই শতভাগ উজাড় করে খেলতে হয়।’ কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো এখনো অটুট বলেও মনে করেন আলভারেজ। আর লিওনেল মেসির সঙ্গে একই দলে খেলাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।
তার মতে ‘ছোটবেলা থেকেই মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছি। তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের আদর্শ। আজ তার সঙ্গে একই দলে খেলছি, জাতীয় দলের হয়ে বড় কিছু অর্জনের পথে তাকে সাহায্য করতে পারছি; এটা সত্যিই স্বপ্ন পূরণের মতো।’