বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের মধ্য দিয়েই শেষ হলো দিদিয়ের দেশম যুগ। দীর্ঘদিন ফ্রান্সের দায়িত্ব সামলানোর পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার বিদায়ের পর এবার ফ্রান্সের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশটির আরেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় লে ব্লুরা।
দেশমের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ফ্রান্সের ফুটবলের এক সফল অধ্যায়। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। এরপর কোচ হিসেবেও লিখেছেন সাফল্যের নতুন ইতিহাস। তার অধীনে ফ্রান্স টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে- ২০১৮ ও ২০২২ সালে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফরাসিরা।
দেশমের অধীনে ১৮৪ ম্যাচে ১২০টি জয় পেয়েছে ফ্রান্স। ড্র করেছে ৩৫টি এবং হেরেছে ২৯টি ম্যাচ। জয়ের হার ৬৫.২ শতাংশ।
দেশমের বিদায়ের পর ফ্রান্সের ডাগআউটের দায়িত্ব পাচ্ছেন তার সাবেক সতীর্থ জিনেদিন জিদান। ফরাসি গণমাধ্যমের খবর, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা থাকলেও জিদানই হচ্ছেন ফ্রান্সের নতুন কোচ।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন জিদান। পরে ২০০৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হতে হয় ফরাসিদের। ম্যাচটিতে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জিদান। ওই ম্যাচটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
কোচ হিসেবেও জিদানের সাফল্য অনন্য। দুই দফায় রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব পালন করে ক্লাবটিকে একাধিক বড় শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কীর্তি তাকে বিশ্বের অন্যতম সফল কোচের মর্যাদা দিয়েছে।
এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে ফ্রান্সের ডাগআউটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন জিদান।
এসজি/