যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচের ঠিক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দ্রুপদি দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সাবেক ফুটবলার ও কোচদের মধ্যে কথার লড়াই জমে উঠেছে। তাদের কথার সারমর্ম এমন, ‘এটা শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও লড়াই’।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য ইতিহাসের ভার কাঁধে নিতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ। অতীতের ঘটনা বর্তমান খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। স্কালোনি চান তার দল শুধুই মাঠের ফুটবলে মনোযোগ দিক। ইংল্যান্ডের বর্তমান কোচ টমাস টুখেলও একই সুরে কথা বলেছেন। তবে তিনি মনে করেন, এমন ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তার বার্তা, বড় মঞ্চে সাহসী ফুটবল খেলেই ফাইনালে জায়গা করে নিতে হবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা জো কোল বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে থামিয়ে ফাইনালে উঠব।’ কোলের মতে, জুড বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে বর্তমান ইংল্যান্ড দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।
ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক ফুটবলার ট্রয় ডিনি কৌশলগত পরামর্শও দিয়েছেন। তার মতে, মেসির হুমকি সামলাতে রক্ষণে পরিবর্তন আনা উচিত এবং দ্রুতগতির ফুলব্যাক খেলানো দরকার। আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড়দের অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই আলাদা আবেগ। তবে তারা বিশ্বাস করেন, অতীতের ইতিহাস নয়, বর্তমান দলের ঐক্য, লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা এবং স্কালোনির কৌশলই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখবে।
একই সঙ্গে ইংল্যান্ড শিবিরে জুড বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত ফর্মও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ১৯৮৬ সালের সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি স্মরণ করে আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক রবার্তো পারফুমো বলেন, ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। সেই বছর বিশ্বকাপ জেতার বিষয়টি আমাদের কাছে দ্বিতীয় সারির ছিল, ইংল্যান্ডকে হারানোটাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। এখন মেসির দলের লক্ষ্যও অভিন্ন।
১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য দানিয়েল বার্তোনি দুদেশের রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় আধিপত্যের লড়াই ব্যাখ্যা করে বলেন, ইংল্যান্ড আমাদের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বী। এর পেছনে রাজনীতি ও ইতিহাস তো আছেই, পাশাপাশি ফুটবলকে আমরা নিজেদের খেলা মনে করি। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা মানে আমাদের নিজেদের জিনিস নিজেদের বলে দাবি করা।
আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাওয়া লিওনেল মেসি এই ম্যাচটি স্পেশাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড বিশ্বের একটি পরাশক্তি। পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে ম্যাচ সব সময়ই স্পেশাল। এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। আমরা নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামব।
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ম্যাথিউ আপসন বলেন, এবারের বিশ্বকাপে দুই দলই একই রকম লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। জয়ী হওয়ার তীব্র ইচ্ছা এবং কয়েকজন বিশ্বমানের তারকা দুই দলেই সব আছে। মিডফিল্ডের যুদ্ধ আর স্ট্রাইকারদের গোল করার ক্ষমতা মিলিয়ে এটি একটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান আর্জেন্টিনা-ইল্যান্ড দ্বৈরথ প্রসঙ্গে বলেন, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড সেমিফাইনালটি সম্পূর্ণ ৫০-৫০ লড়াই। কোনো দলকে এককভাবে ফেবারিট বলা অসম্ভব। যে দল মানসিক চাপ ভালো সামলাবে; তারাই ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে খেলবে।