ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা ১৫ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৫ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বিশ্বকাপের মঞ্চেই শেষ অধ্যায় আদমজী ইপিজেডে কাপড়ের গোডাউনে আগুন

বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা
কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকার বাড়ির সামনে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে আছেন একটি পরিবারের সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ

‘আমি তো ভাবিনি, ঘরের পাশের এই পানিটাই আমার সন্তানকে কেড়ে নেবে। মৃত্যুর একটু আগেও উঠানে খেলছিল। চোখের আড়াল হতেই খুঁজতে শুরু করি। অনেকক্ষণ পরে যখন পানির মধ্যে পেলাম, তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার তিন বছরের ছোট্ট পুষ্প আর নেই।’

একই শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদও। দুই বছর বয়সী ছেলে ওয়াকিমকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা বাড়ির সামনে কত আনন্দে খেলছিল। কে জানত, কয়েক মিনিটের অসাবধানতায় তাকে আর ফিরে পাব না। বন্যার এই পানি আমার বুকটাই খালি করে দিল।’ গত বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকেলে এই দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ জন, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় ও ১৩ জন রোহিঙ্গা।

পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ কাটেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবা, সাপের কামড়, পানিবাহিত রোগ ও মানসিক আঘাত থেকে শিশুদের রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পানিতে খেলা নয়, সার্বক্ষণিক তদারকি

বন্যার পানি দেখতে শান্ত হলেও নিচে খোলা নালা, গর্ত বা তীব্র স্রোত থাকতে পারে। অল্প পানিতেও শিশু ডুবে যেতে পারে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘দুর্যোগের সময় শিশুরা ঝুঁকির মাত্রা বোঝে না। তাই অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক তদারকিই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা। তাদের একা কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না। আশ্রয়কেন্দ্রেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

সাপের উপদ্রব

বন্যার সময় গর্তে পানি ঢুকে পড়ায় সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর, রান্নাঘর, খড়ের গাদা কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারে। কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও শিশুদের জুতা পরে চলাফেরা নিশ্চিত করা জরুরি। সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।’

বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা

নলকূপ ও পুকুরের পানি দূষিত হওয়ায় শিশুদের ডায়রিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তৌসিফ উদ্দিন মিজবাহ বলেন, ‘শিশুদের সুস্থ রাখতে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।’

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, বন্যা-পরবর্তী সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়া, চোখ ওঠা ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে। জেলায় ৮৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত আছে। যেকোনো অসুস্থতায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মানসিক যত্ন ও আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়তি নজর

আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড়ের মধ্যে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তাদের সঙ্গে নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লেখা আইডি কার্ড রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার এলাকার চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘বন্যায় আমার ছোট ছেলে খুব ভয় পেয়ে গেছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে আমরা ওর সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছি, খেলাধুলা করছি। এখন সে স্বাভাবিক হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত

বন্যার সময় ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার কিংবা পানিতে ডুবে থাকা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুদের এসব থেকে নিরাপদ রাখতে হবে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় শিশুদের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।

পূর্বাভাস মেনে প্রস্তুতি

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘নিয়মিত পূর্বাভাস দেখা জরুরি। সে অনুয়ায়ী দেখে আগে থেকেই শুকনো খাবার, পানি, ওষুধ ও জরুরি কাগজপত্রের ব্যাগ গুছিয়ে রাখলে দুর্যোগের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া সম্ভব হয়।’

চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতে ডাকাতির ঘটনায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সি কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সি ছেলে সিরাজের জননী। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। এ ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার খবরের কাগজকে জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সি সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ছুড়ি দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বাঁধে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করে।

তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও, হাত বাঁধা থাকায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, এ ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

ফয়েজ আহমেদ/থিওটোনিয়াস/

স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১০ এএম
স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা-ছেলে। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জাগলা চারা বটতলা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে দুই বছরের শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক যুবক।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটি ঘটে।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, জাগলা চারা বটতলা গ্রামের ছোরাপ মোল্লার ছেলে রেজাউল মোল্লা (২৩)-এর সঙ্গে তিন বছর আগে শালিখা উপজেলার দরি শলই গ্রামের নাজমুল মিয়ার মেয়ে প্রিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তাছিন নামে দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য কলহের জেরে গত ২ জুলাই কিস্তি থেকে তোলা ১০ হাজার টাকা এবং গরু বিক্রির ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা নিয়ে প্রিয়া খাতুন স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় গত ৪ জুলাই রেজাউল মোল্লা মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপরও স্ত্রী ফিরে না আসায় এবং ছোট শিশুসন্তানকে নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রেজাউল। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে থাকা ঘাস মারা বিষ শিশুসন্তান তাছিনকে খাইয়ে নিজেও বিষপান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে থাকলেও রেজাউল মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রেজাউল মোল্লার বড় ভাই রুবেল মোল্লা বলেন, স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই রেজাউল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হতাশা থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পরিবারের ধারণা।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাসেমুর রহমান/আজহার/  

লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ এএম
লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার
ছবি:খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে সালিসে মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় নিজের দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি নাতি আশিককে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। 

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের হামিদ উল্যা পাটওয়ারী বাড়ি থেকে  দাদাকে গুলির কাজে ব্যবহৃত একটি একনলা বন্দুক (এলজি) উদ্ধার করে র‍্যাব। পরে দাদা নজরুল ইসলামের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে আশিকের বাবা ইসমাঈল হোসেন ও মা আয়েশা বেগমের পারিবারিক কলহ মেটাতে একটি ঘরোয়া সালিস বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে আয়েশা বেগমের বিপক্ষে রায় দেন আশিকের দাদা নজরুল ইসলাম (৭০)। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা বেগম ঢাকায় থাকা সন্তানদের ফোনে বিষয়টি জানালে ছোট ছেলে আশিক ওইদিনই বাড়ি ফিরে দাদাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম বাহুতে বিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ৬ জুলাই দাদা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নাতি আশিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

র‍্যাব নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, মামলার আসামি আশিক পলাতক ছিলেন। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করি। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিকুল/খাদিজা রুমি/

ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাতে তিতাস গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে বিস্ফোরণে চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম নামে এক শ্রমিকের শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অপর তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল ১নং গলিতে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

দগ্ধ আরিফুল ইসলাম রংপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার লতাবর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে। তিনি ফতুল্লার দেলপাড়া বাজার এলাকায় ভাড়া থাকেন।

স্থানীয়রা জানায়, দেলোয়ার হোসেন বাড়িতে থাকা তিতাস গ্যাসের সংযোগ পাইপ মেরামতের সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চার শ্রমিক দগ্ধ হলে তিনজনকে সদর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আরিফুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য মাটির নিচে পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য ১৭ হাজার টাকায় স্থানীয় এক কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে সঙ্গে চুক্তি হয়। এ জন্য অগ্রিম দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে  কন্ট্রাক্টরের কয়েকজন শ্রমিক রাতে সড়ক কেটে গ্যাস পাইপে সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। পাইপ বের করে সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন,  শ্রমিক সরদার আব্দুল জলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- রাতে গোপনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পাইপ লাইন স্থাপন করার সময় বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হন।

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে বিসিক ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানোর হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন। 

বিল্লাল হোসাইন/অমিয়/

এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত নিচু এলাকার মানুষ এখন বেশি ঝুঁকিতে আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে চট্টগ্রামে অন্তত ১০৫ জন সাপে কাটা রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত এক সপ্তাহে ৯২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন উপজেলায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে এটা সত্যি। তবে চমেক হাসপাতালে এখন যে ১৩ জন ভর্তি আছেন, তা স্বাভাবিক সময়ের মতোই। আমাদের এখানে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। চমেকের ভেনম রিসার্চ সেন্টার থেকেও রোগীরা সুফল পাচ্ছেন। তাই সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ১০৫ জনকে সাপে কামড়িয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৫ উপজেলায় সাপে কাটা রোগী পাওয়া যায় ৩ থেকে ৪ জন। কিন্তু বন্যার কারণে সাপের উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা মারাত্মক হারে বেড়েছে। তবে সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। অনেকে ঝাড়ফুঁক করে সময় নষ্ট করেন। এটা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।’

সিভিল সার্জন আরও জানান, চিকিৎসায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। সাপে কাটার রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮০০ ভায়াল এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ৩০০ ভায়ালসহ মোট ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।