পা তাদের রাইফেল। ফুটবল গুলি। আর টার্গেট গোলমুখ। আজ (১৫ জুলাই) রাতে দুই দুই নিখুঁত নিশানাবাজই নামছেন আটলান্টায়। একজন লিওনেল মেসি। অন্যজন হ্যারি কেইন। দেখার অপেক্ষা, কার শটে খোলে ফাইনালের দরজা।
মেসি আর কেইনের ক্যারিয়ারের গল্প একেবারেই আলাদা। মেসি উঠে এসেছেন বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া থেকে। খুব অল্প বয়সেই বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, অসাধারণ কিছু আসছে। এর পর একে একে ভেঙেছেন রেকর্ড, জিতেছেন শিরোপা, জয় করেছেন কোটি কোটি হৃদয়। আজ তিনি সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় নয়, বরং অনেকের কাছেই সর্বকালের সেরা।
অন্যদিকে হ্যারি কেইনের পথ ছিল অনেক বেশি কঠিন। টটেনহ্যাম হটস্পারের একাডেমির সেই ছেলেটিকে চারবার লোনে যেতে হয়েছে। বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। তার পরই জায়গা মিলেছে মূল দলে। সেখান থেকে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হয়ে এখন তিনি বায়ার্ন মিউনিখের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।
গত মৌসুমেই বায়ার্নের হয়ে কেইন ৫৬ ম্যাচে করেছেন ৬৪ গোল। সঙ্গে ৮টি অ্যাসিস্ট। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে মেসিও যেন সময়কে থামিয়ে রেখেছেন। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে চলেছেন। মাঠে তার প্রতিটি স্পর্শ যেন এখনো জাদুর মতো।
এই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও জমে উঠেছে দুই তারকার প্রতিযোগিতা। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট। কেইনের গোল ৬টি, সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ গোলের হিসাবে দুই ধাপ এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে পরিসংখ্যানের বাইরে আরও একটি বিষয় রয়েছে। দুজনই নিজেদের দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে দুই গোল করে জয় এনে দিয়েছেন কেইন। অন্যদিকে মেসি উত্তর আমেরিকায় খেলা প্রতিটি ম্যাচেই হয় গোল করেছেন, নয়তো অ্যাসিস্ট করেছেন। মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তার সমতাসূচক গোলই বদলে দিয়েছিল পুরো ম্যাচের গল্প।
এই বিশ্বকাপেই মেসি ছুঁয়েছেন আরেকটি অবিশ্বাস্য উচ্চতা। ২১ গোল নিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার পেছনেই ২০ গোল নিয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে কেইনের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ১৪। মেসির চেয়ে তিনটি কম বিশ্বকাপ খেলেই এই সংখ্যায় পৌঁছেছেন তিনি। তাই ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগেই আরও বড় রেকর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
অবাক করার মতো তথ্য হলো, বড় দুই তারকা হলেও ক্লাব ফুটবলে মাত্র দুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একই গ্রুপে ছিল বার্সেলোনা ও টটেনহ্যাম। প্রথম ম্যাচে ৪-২ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবশ্য এবারই প্রথম দেখা হচ্ছে তাদের। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা অতীতে ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু ২০০৫ সালে মেসির জাতীয় দলে অভিষেকের পর এই প্রথম থ্রি লায়ন্সের বিপক্ষে খেলবেন তিনি।
লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক
ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়াটা বিশেষ কিছু হবে! এই প্রথম আমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছি। ওদের ছাড়া আমি প্রায় সবার বিপক্ষেই খেলেছি। ওরা একটা দুর্দান্ত দল, ফুটবলের এক পরাশক্তি। ওদের মতো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা সব সময়ই রোমাঞ্চকর।
হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক
আমাদের জাতীয় দলের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সফল যুগ। অবশ্যই, আমরা জয় নিশ্চিত করতে চাই। আমরা ছয় সপ্তাহ ধরে একসঙ্গে আছি। দলের প্রতীকের প্রতি আমাদের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছি। এখন শেষ সপ্তাহে আমাদের এটি উপভোগ করতে হবে।
চলমান বিশ্বকাপে মেসি
পজিশন- ফরোয়ার্ড
গোল: ৮
অ্যাসিস্ট: ২
গোলমুখে শট- ১৯
গোল করার প্রচেষ্টা- ৩৩
চলমান বিশ্বকাপে কেইন
পজিশন- ফরোয়ার্ড
গোল: ৬
অ্যাসিস্ট: ১
গোলমুখে শট- ১১
গোল করার প্রচেষ্টা- ২২