ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আদলে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’।
টানা বৃষ্টি ও তীব্র জলাবদ্ধতার মাঝে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বা ‘ব্রয়লার’ বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে জেন-জি শিক্ষার্থীরা এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই ফেসবুক পেজটি চালু করেন।
কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজপথে নামেন।
এই আন্দোলনের মাঝেই একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ ও ‘ব্রয়লার’ বলে সম্বোধন করা হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দেয়।
‘আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত’এই কটূক্তির জবাবে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ না হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। তারা ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ নামে একটি পেজ খোলেন।
পেজটির মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে-‘আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত’ (We are not insulted, We are awakened)। শিক্ষার্থীরা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট (মিম) প্রচার করছেন।
ভারতীয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সঙ্গে তুলনা করলে- এই প্রতিবাদের ধরন চলতি বছরের মে মাসে ভারতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) বা ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পর প্রতিবাদ হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠিত হয়। বাংলাদেশেও ঠিক একই কায়দায় আপত্তিকর মন্তব্যের জবাব দিতে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ গঠন করা হলো।
রাজনৈতিক ও অনলাইন বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হলেও, বর্তমান প্রজন্মের প্রতিবাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যম। কটূক্তি বা অপমানকে সরাসরি সহিংসতায় রূপ না দিয়ে, ব্যঙ্গ ও রসাত্মক উপায়ে কীভাবে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা যায়- এই ঘটনা তারই আরেকটি প্রমাণ।
আজহার/