যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর এই শান্তিচুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়।
শান্তিচুক্তি বাতিলের পর হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে তীব্র যুদ্ধ ও গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আর এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে বাধ্য নয়।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি কড়া ভাষায় বলেন, ‘যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব কায়েম করবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে থাকা জরুরি। আমরা আমেরিকার সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় বসব না।’
পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয় যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ জারি করে। এর আগে গত জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমেরিকা এই অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছিল।
নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করার পরপরই হরমূজ প্রণালীতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে জানান, ইরান প্রতিবেশি আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানের একাধিক সামরিক অবস্থানে নতুন করে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাদের উসকানিমূলক আচরণ বন্ধ না করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালাবে।
ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের প্রধান প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগার বা লবণাক্ততা দূরীকরণ প্লান্টগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ইরানের প্রধান জ্বালানি তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, ’প্রয়োজনে আমরা খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেব।’
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমূজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের এই মরণপণ লড়াই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/