নতুন তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার খোঁজে আয়োজিত আকিজ রিসোর্স প্রেজেন্টস ক্রিয়াভেঞ্চার চার দশমিক শূন্য: ন্যাশনাল আইডিয়া পিচিং কম্পিটিশনের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে অসাধারণ স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে ‘স্টার্টআপ গ্রিড’। প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়েছে ‘স্টার্টআপ মাটিপ্লাস’ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে ‘স্টার্টআপ মেটিস’।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা ইউনিভার্সিটি অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (ডিইউইডিসি) আয়োজিত দুমাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতার সমাপনী পর্ব ঢাকার তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ আলফাসানে।
২০২৬ সালের ১১ই মে শুরু হওয়া চার পর্বের এ জাতীয় প্রতিযোগিতায় দেশের ৬২টি জেলা থেকে ৩৪৮টি টিমে মোট ১ হাজার ৬৬ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সব রাউন্ড শেষে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় ৮টি টিম। ফাইনালিস্টদের স্টার্টআপ আইডিয়াগুলো অ্যাগ্রিটেক, ফুডটেক, ক্লাইমেটটেক, সার্কুলার ইকোনমি, এআই এবং হেলথটেকসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১০টি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত ছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ আলফাসানে বলেন, ‘ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বের যে গৌরবময় ইতিহাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে, ডিইউইডিসি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে।’
অনুষ্ঠানে ডিইউইডিসির চিফ প্যাট্রন অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা শুধু চাকরি খুঁজবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।’
ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম জানান, তাদের লক্ষ্য শুধু বিজয়ী নির্বাচন নয়, বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তোলা।
ফাইনাল রাউন্ডে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ, শেয়ারট্রিপের সিইও সাদিয়া হক, দ্য ডেইলি স্টারের চিফ বিজনেস অফিসার তাজদিন হাসান এবং নেক্সটজবস লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার শোয়েব হাসান।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের সিইও মো. আসিকুর রহমান, মাইডাস ফাইন্যান্স পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তানভীর হাসান, কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব সিআরএম হাসি রাণী বেপারী, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এসভিপি ও হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড ট্রেনিং নুসরাত তাবাসসুম, রেনাটা পিএলসির সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ এস কায়সার কবির, অগমেডিক্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের সিইও ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী, সিএফমোটো বাংলাদেশের সিইও রেজাউল করিম এবং আইসিটি ডিভিশনের ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টের (ডিইআইইডি) প্রজেক্ট ডিরেক্টর মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
আমন্ত্রিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস অ্যাম্বাসির ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার ওসমান হারুনি, ইউনেস্কো ঢাকার হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া।
পিচিং শেষে একটি বিশেষ প্যানেল সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা তরুণদের ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সুযোগ সন্ধান ও নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।