ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি ব্যবস্থাপনার সংকটে ডুবছে ঢাকা কু‌ড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে ২৫ ঘর সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীতে অন্ধকার নামলে শুরু হয় বালু লুট রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ বাইক্কা বিলের হলুদ মোমলেজি ঈশ্বরগঞ্জে পুরোনো কৃষিযন্ত্রের হাট ব্যাপক দুর্নীতি: প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকার ১৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ১৮ বিশ্বকাপের সাক্ষী ৯১ বছরের ম্যাকাইয়া ফুটবল থামিয়ে মঞ্চে উঠবেন তারকারা ১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ইংল্যান্ডকে হারানোর পরই ধাক্কা, ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার থেকে নায়ক আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি মাঠের বাইরেও ‘ভিএআর’ প্রয়োজন? ‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

ডিফেন্ডার থেকে নায়ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ এএম
ডিফেন্ডার থেকে নায়ক
গোলের পর উদ্‌যাপনে পেদ্রো পোরো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি গোলেরই আলাদা গল্প থাকে। কোনো গোল ইতিহাস বদলে দেয়, কোনোটি স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে, আবার কোনো গোল কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় নিখাদ ভালোবাসার স্পর্শে। স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর সেমিফাইনালের গোলটি ছিল ঠিক তেমনই, যেখানে ফুটবলের উত্তেজনার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একজন বাবার আবেগ।

ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার গোলটি করেন টটেনহ্যাম হটস্পারের এই রাইট ব্যাক। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর নিখুঁত পাস থেকে জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে ফাইনালের আরও কাছে পৌঁছে দেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস শেষ করে হঠাৎই মাঠে বসে পড়লেন পোরো। এর পর ডান হাত মুঠো করে আকাশের দিকে উঁচু করলেন।

মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা জল্পনা। কেউ ভাবলেন এটি হয়তো কোনো রাজনৈতিক বার্তা, কেউ মনে করলেন ব্যক্তিগত কোনো প্রতীকী উদযাপন। কিন্তু সত্যিটা ছিল অনেক বেশি সুন্দর, অনেক বেশি মানবিক। সেই উদযাপন ছিল তার ছোট ছেলে পেদ্রোর জন্য। মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোরো জানিয়েছিলেন, বাড়িতে যখন ছেলেকে জিজ্ঞেস করা হয়– ‘তোমার বাবা গোল করলে কীভাবে উদযাপন করেন? তখন ছোট্ট পেদ্রো কোনো কথা না বলে ডান হাত মুঠো করে উঁচু করে ধরে। ছেলের সেই নিষ্পাপ ভঙ্গিই এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অনুসরণ করলেন বাবা।’

ডালাসে স্টেডিয়ামের গ্যালারির সামনের সারিতেই বসে ছিল তার পরিবার। বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তান– সবাই চোখের সামনে দেখছিলেন পোরোর জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। পোরো বলেন, ‘ও যখন আমাকে গোল উদযাপন করতে দেখে, তখন ঠিক এভাবেই হাত তোলে। ও সামনের সারিতেই ছিল। তাই গোল করার পর আমি ওর জন্যই এই উদযাপন করেছি।’

মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন পোরো। সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ তিনি বিশ্বকাপের ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে। আর সেই যাত্রায় পরিবারই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি। পোরো বলেন, ‘আমার বাবা-মা, স্ত্রী আর সন্তানরা এখানে আছে– এটাই আমাকে বাড়তি শক্তি দেয়। ভবিষ্যতে আমার ছেলে যখন বুঝবে, বিশ্বকাপের গ্যালারিতে তাকে সামনে রেখেই আমি গোল উদযাপন করেছিলাম, তখন সেটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।’

২০২৬ বিশ্বকাপ পোরোর ক্যারিয়ারেও এনে দিয়েছে এক নতুন পরিচয়। স্পেনের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার বিশ্বকাপ যাত্রার। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে করেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। আর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে করেন দ্বিতীয়টি। বিস্ময়কর হলেও সত্য, ২০২১ সালে স্পেনের জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার করা দুটি আন্তর্জাতিক গোলই এসেছে বিশ্বকাপের এই আসরে।

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন টটেনহাম হটস্পারের এই ফুটবলার। তার দুটি গোলই এসেছে স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে, যা প্রমাণ করে বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে তিনি কতটা প্রস্তুত।

ফ্রান্সকে হারিয়ে স্পেন এখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও তারা ফাইনালে। সামনে আর মাত্র একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিততে পারলে স্পেনের জার্সিতে যুক্ত হবে দ্বিতীয় তারকা। আর যদি সেই স্বপ্ন পূরণ হয়, তবে বিশ্বকাপের ট্রফির পাশাপাশি পেদ্রো পোরোর পরিবারের অ্যালবামেও চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে আরেকটি ছবি– একজন বাবা গোল করার পর আকাশের দিকে মুঠোবদ্ধ হাত তুলে জানিয়ে দিচ্ছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চেও তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম পরিবার।

মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচ শেষে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বার্কোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বার্কোর মাথায় বেলিংহামের চড় মারার দৃশ্য দেখা গেছে।

সেমিফাইনালে দীর্ঘ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ সাত মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা যখন বিজয় উদযাপনে ব্যস্ত, তখন মাঠে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন হতাশ বেলিংহাম। এ সময় বার্কো সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেওয়ার আগে বেলিংহামের উদ্দেশে কিছু বলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে বার্কোর মাথায় আঘাত করেন বেলিংহাম। জবাবে বার্কোও তাকে ধাক্কা দেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দুই দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করে দেন।

ম্যাচ শেষে বেলিংহাম পরাজয়ের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি আমাদের, পুরো দল এবং সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের একটি দিন। আমরা ভালো খেলেছি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।’

পাপ্পু/অন্তরা/

ইংল্যান্ডকে হারানোর পরই ধাক্কা, ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ এএম
ইংল্যান্ডকে হারানোর পরই ধাক্কা, ফিফার শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা-সংবলিত ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন করায় ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।

আটলান্টায় পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একটি ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন করেন। যেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’-বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’।

দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য নিহত হন। এছাড়া দ্বীপপুঞ্জের তিন বাসিন্দাও প্রাণ হারান।

‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপনে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

তবে এই উদ্‌যাপন প্রথমবার নয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। তখন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছিল, রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

এদিকে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার। তারা স্টেডিয়ামে ব্যানার আনতে বাধা দিয়েছে, কিন্তু তারা ভুলে গেছে আমরা মালভিনাসকে আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে বহন করি।’

ম্যাচের আগে ভিয়াররুয়েল ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার’ ও ‘ভূমিদস্যু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। 

অন্যদিকে, সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি ফুটবল ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলাতে চান না।

স্কালোনি বলেন, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। বহু বছর আগের সেই দুঃখজনক ইতিহাসের প্রতি সম্মান রেখেই ফুটবল ও রাজনীতিকে এক করতে চাই না। যুদ্ধ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমরা অবশ্যই তাদের স্মরণ করি। কিন্তু এটি ফুটবলের ম্যাচ, দুটিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।’

এদিকে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থাও। তবে ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে ফিফা তদন্ত শুরু করলে আর্থিক জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তি পেতে পারে আর্জেন্টিনা।

এসজি/

আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ এএম
আজকের ম্যাচ আমাদের সব অর্জনকে ছাপিয়ে গেছে: স্কালোনি
ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরেন লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালটি তাদের সাম্প্রতিক সব অর্জনকেও ছাপিয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় স্কালোনি বলেন, ‘আমার কথা বলার ভাষা নেই। দেশ ও সমর্থকদের জন্য এটা অসাধারণ এক আনন্দের মুহূর্ত। আমি আগেও বলেছি, এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠ ভেঙে আসছে। এই দল ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার যে মানসিকতা দেখিয়েছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এর পর আর এই দলকে কী প্রমাণ করতে হবে? তারা আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। সব কৃতিত্ব তাদের।’

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেন আর্জেন্টাইন কোচ। 

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে এবং ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অবশ্যই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেব। তবে আজ খেলোয়াড়রা যা দেখিয়েছে, সেটি ভাষায় বোঝানো কঠিন। আমরা অনন্য একটি দল, এটি অহংকার নয়। সমর্থকরাই আমাদের এই জয় এনে দিয়েছেন।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘এই দল তখনই সবচেয়ে ভালো খেলতে পারে, যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। আমরা যখন চাপে থাকি, তখনই নিজেদের সেরাটা বের করে আনি। হারলেও আমি দলের পারফরম্যান্সে খুশি থাকতাম, কারণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আমাদের সেরা। কিন্তু আজকের ম্যাচ সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, এটি একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক গোল ইতিহাসে থাকবে, কিন্তু খেলার মানের দিক থেকে আজকের ম্যাচ ছিল অবিশ্বাস্য।’

এসজি/

‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৯ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ এএম
‘ফকল্যান্ড দ্বীপ আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন, বিতর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা
‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’ ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপনে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর মাঠেই বিতর্কের জন্ম দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে তারা একটি ব্যানার নিয়ে উদ্‌যাপন করেন। যেখানে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘Las Malvinas son Argentinas’-বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আর্জেন্টিনার’।

আটলান্টার মাঠে এমন উদ্‌যাপন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) নিয়ে আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধকে আবার সামনে এনেছে।

ম্যাচের আগে অবশ্য আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, তিনি চান না এই ম্যাচ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ব্যানার প্রদর্শন সেই বার্তাকে ছাপিয়ে যায়।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এরপরও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। 

আর্জেন্টিনা এখনো দাবি করে, দ্বীপপুঞ্জটি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ডকে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে পরিচালনা করে।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার’ ও ‘ভূমিদস্যু’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ সেই বার্তার সঙ্গে তিনি আর্জেন্টাইন সেনাদের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন।

মাঠের এই উদ্‌যাপন ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

এসজি/

সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ এএম
সেমিফাইনাল হেরে টুখেল বললেন, ‘কোনো আক্ষেপ নেই’
টমাস টুখেল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়েছিলেন টমাস টুখেল। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। তবুও ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্ত বা দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ।

বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় টুখেল বলেন, ‘আমরা হতাশ। কারণ আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু গোল করার পর আমরা অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। ফলে প্রতিপক্ষকে অনেক সুযোগ, ক্রস ও শট নিতে দিয়েছি। বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি।’

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণাত্মক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আগের ম্যাচগুলোতেও আমি আক্রমণাত্মক পরিবর্তন করেছি। এবারও খেলোয়াড়দের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গোল করার পরই আমরা অনেক সুযোগ দিয়ে ফেলছিলাম। তাই পাঁচজনের রক্ষণে চলে যাই, যাতে ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা যায় এবং আরও শক্তিশালী হওয়া যায়।’

দ্বিতীয় গোলের জন্য আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ ছিল কি না-এমন প্রশ্নে টুখেলের উত্তর, ‘আমরা অবশ্যই দ্বিতীয় গোল চেয়েছিলাম। কিন্তু বলই যদি নিজেদের কাছে রাখতে না পারি, তাহলে সেটা সম্ভব নয়। আমরা ৪-৪-২ ফরমেশনই ধরে রেখেছিলাম, কিন্তু ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। এটা কৌশলগত সমস্যা ছিল না, ম্যাচের চিত্রটাই বদলে গিয়েছিল।’

নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনুতপ্ত নন জানিয়ে টুখেল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। দল সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার যোগ্য ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হয়তো আমাদের সেরা ম্যাচগুলোর একটি, এমনকি সেরাও হতে পারে।’

পুরো টুর্নামেন্টে দলের মানসিকতারও প্রশংসা করেন ইংল্যান্ড কোচ।

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও টুখেলের সঙ্গে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে ইংল্যান্ডের। এখন তার সামনে নতুন লক্ষ্য হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।

এসজি/