ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘অপারেশন লাইটনিং’ ইরানের কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করলেন স্পিকার বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন

আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে থাকা পর্ষদ সদস্যদের পাশাপাশি পুরোনো শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৪ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরিফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে চলছিল ব্যাংকটি। এখন এই ১৪ জন যুক্ত হওয়ায় পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হওয়ায় শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের এখানে যুক্ত করা হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদের তিনজন কেডিএস গ্রুপের। তারা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ ও কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

অন্য পরিচালকরা হলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা এনায়েত উল্লা, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টিল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে খাজা শাহরিয়ারকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এসব পরিচালকও নতুন পর্ষদে থাকবেন। তবে পর্ষদের সব পরিচালক মিলে এখন আবার নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করবেন।

আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে থাকা পর্ষদ সদস্যদের পাশাপাশি পুরোনো শেয়ারধারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৪ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরিফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে চলছিল ব্যাংকটি। এখন এই ১৪ জন যুক্ত হওয়ায় পরিচালকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৬টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। এর মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হওয়ায় শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের এখানে যুক্ত করা হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদের তিনজন কেডিএস গ্রুপের। তারা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ ও কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

অন্য পরিচালকরা হলেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা এনায়েত উল্লা, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টিল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে খাজা শাহরিয়ারকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এসব পরিচালকও নতুন পর্ষদে থাকবেন। তবে পর্ষদের সব পরিচালক মিলে এখন আবার নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করবেন।

জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের আরও চারটি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের থামি, পাবনার গাওয়া ঘি, মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর এবং ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম। 

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) সহকারী পরিচালক মজনু ভূঁইয়া খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, জিআই পণ্য শুধুমাত্র একটা প্রোডাক্টকে স্বীকৃতি দিয়েই শেষ না। দেশে এমন অনেক পণ্য রয়েছে যা আসলেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মতো। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, ডিপিডিটিতে এখনো পর্যন্ত ১০৯টি আবেদনপত্র আছে। এর মধ্যে ৬৪টি পণ্য নিবন্ধিত হয়েছে। আরও একটি পণ্য জার্নালের জন্য অপেক্ষমাণ আছে। বাকিগুলো নিয়ে কাজ চলছে।

পরীক্ষাধীন পণ্যের মধ্যে আছে খালিশপুরের চমচম, পটুয়াখালীর মুগডাল, বরগুনার মুগডাল, যশোরের রজনীগন্ধা ফুল, ঝিনাইদহের পেয়ারা, নাটোরের বাগাতিপাড়ার শাখার অলংকারসহ আরও অনেক কিছু। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ডিপিডিটি যাচাই-বাছাইসহ সব দাপ্তরিক কাজ শেষ হলে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই সনদের ঘোষণা দেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পণ্যগুলো জিআই স্বীকৃতি পেলে দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার ও বাণিজ্যের মূল্য সুযোগ তৈরি হবে।

জিআই স্বীকৃতি কি

জিআই বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ঐতিহ্য, দক্ষতা বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে একটি পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়। ফলে একই নামে অন্য এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ সীমিত হয় এবং মূল উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, জিআই সনদ শুধু একটি স্বীকৃতিই নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক সম্পদও। এ ধরনের স্বীকৃতি পেলে পণ্যের বাজারমূল্য বাড়তে পারে, ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং দেশি-বিদেশি বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। 

বান্দরবনের থামি

বান্দরবানের থামি পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে স্থানীয় তাঁতিরা হাতে বুনে এই পোশাক তৈরি করে থাকেন। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। স্থানীয় নারীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দেশীয় তাঁতযন্ত্রে সুতি বা অন্যান্য সুতা ব্যবহার করে হাতে থামি বুনে আসছেন। প্রতিটি থামির নকশা ও রঙে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, পরিচয় ও জীবনধারার প্রতিফলন দেখা যায়।

পাবনার গাওয়া ঘি

আরেক জিআই আবেদনকৃত পণ্য পাবনার গাওয়া ঘি দেশের সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত পণ্যগুলোর একটি। এর খ্যাতির পেছনে রয়েছে খাঁটি গরুর দুধ, স্থানীয় খামারিদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ প্রস্তুতপ্রণালি।

প্রথমে খাঁটি গরুর দুধ থেকে দই তৈরি করা হয়। পরে সেই দই থেকে মাখন সংগ্রহ করা হয়। এরপর মাখনকে কম আঁচে দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়া হয়। এক সময় মাখনের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং দুধের প্রাকৃতিক চর্বি ঘন হয়ে সোনালি রঙের ঘিতে পরিণত হয়। জ্বাল দেওয়ার পর বিশেষ ধরনের সুগন্ধ তৈরি হয়, যা পাবনার গাওয়া ঘিতেই পাওয়া যায়।

অনেকে এখনো কাঠ বা মাটির চুলায় ধীরে ধীরে ঘি তৈরি করেন, যা এর স্বাদ ও সুবাস আরও সমৃদ্ধ করে। রান্না, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে ব্যবহারের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছেও পাবনার গাওয়া ঘির চাহিদা রয়েছে। 

মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর

একইভাবে মানিকগঞ্জের কাঠের ঘর স্থানীয় কারিগরদের বিশেষ নকশা ও নির্মাণশৈলীর জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। এই কাঠের ঘর দেশের ঐতিহ্যবাহী কাঠশিল্পের একটি পরিচিত নিদর্শন। বিশেষ করে জেলার ঘিওর, সাটুরিয়া ও আশপাশের এলাকায় বহু বছর ধরে দক্ষ কারিগররা আবাসিক ঘর, কটেজ ও বিভিন্ন ধরনের কাঠের স্থাপনা তৈরি করে আসছেন।

কাঠের ঘর তৈরিতে সাধারণত সেগুন, গামারি, চাপালিশ, মেহগনি বা অন্যান্য টেকসই কাঠ ব্যবহার করা হয়। অভিজ্ঞ কাঠমিস্ত্রিরা প্রথমে নকশা অনুযায়ী কাঠ কেটে খুঁটি, বিম, দেয়াল, দরজা ও ছাদের বিভিন্ন নকশা তৈরি করেন। বর্তমানে অনেক কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হলেও সূক্ষ্ম খোদাই, নকশা ও ফিনিশিংয়ের কাজ এখনো দক্ষ কারিগরের হাতেই সম্পন্ন হয়।

যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও শুকানো ভালোমানের কাঠ ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে একটি কাঠের ঘর কয়েক দশক পর্যন্ত টেকসই হতে পারে। তবে কাঠে উইপোকা, আর্দ্রতা ও আবহাওয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক পরিচর্যা ও প্রলেপের প্রয়োজন হয়। 

ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম

ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আমও উৎপাদন, স্বাদ এবং গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিত। জেলার অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর দো-আঁশ মাটি এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার কারণে এখানকার আম্রপালি আম স্বাদ, মিষ্টি ও গুণগত মানের জন্য পরিচিত। ফলটি আকারে তুলনামূলক ছোট হলেও এর শাঁস বেশি, আঁটি পাতলা এবং আঁশ খুবই কম। ফলে ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদা বেশি।

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা সাধারণত কলম করা চারা থেকে আম্রপালি বাগান গড়ে তোলেন। ফুল আসার সময় থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, ছাঁটাই এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উন্নতমানের ফল উৎপাদন করা হয়। ভালো স্বাদ, দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সুবিধা এবং দূরবর্তী বাজারে পরিবহনের উপযোগী হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের আম্রপালি আম দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রপ্তানিরও সম্ভাবনাময় একটি কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিত।

ডিপিডিটির উপ-পরিচালক আমিন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, এসব পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। কারণ তখন পণ্যগুলোর উৎস ও মান নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। একই সঙ্গে নকল বা ভেজাল পণ্যের ব্যবহার কমানোও সহজ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জিআই সনদ অর্জন করলেই হবে না, এর সুফল পেতে হলে উৎপাদনের মান ধরে রাখা, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা, বাজারজাতকরণে আধুনিক কৌশল গ্রহণ এবং রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এই স্বীকৃতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের
ফাইল ফটো

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতেই অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। ফলে সারা দেশের স্থানীয় বাজারে শাকসবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শাকসবজি, মাছসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য রাজধানীতে কম এসেছে। এতে রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারে দাম বেড়েছে। 

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারে কাঁচা সবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বাজারের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো না আসার কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে চড়া দামের কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

সবজির বাজার: পাইকারিতেই বাড়তি দাম

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির ফলে ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজি সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজারে সবজির দাম কেজিতে গড়ে ২০ থেক ৩০ টাকা করে বেড়েছে। 

গতকাল কারওয়ান বাজারের পইকারি বাজারেও করলা, ঢ্যাঁড়স, পটোল, কচুরমুখী, বরবটি, বেগুন, কচুরলতি, চিচিঙ্গা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দামও বেড়েছে। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালকুমড়া ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মাছের বাজার: বৈরী আবহাওয়ায় সরবরাহ সংকট

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের দাবি, মেঘনা ও অন্যান্য নদী অববাহিকায় বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার পরিমাণ কমেছে, ফলে আড়তেই দাম চড়া।

বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় প্রতি কেজিতে মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় কাতল ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। 

মাছ বাজারে আসা স্কুলশিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, ‌‘মাছের বাজারে হাত দেওয়ার উপায় নেই। ছোট-খাটো মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।’

মাংসের বাজার: চড়া দামেই স্থির, ব্রয়লারেও স্বস্তি নেই

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতোই সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

কারওয়ান বাজারের ‘আদর্শ চিকেন ব্রয়লার হাউস’-এর বিক্রেতা সালাহ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, খামার পর্যায় থেকেই মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে কম দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

রাজধানীর বাইরেও টানা বর্ষণের কারণে দাম বড়েছে। অতিবৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় বগুড়ায় প্রায় ২৮ হাজার বিঘা জমিতে থাকা গ্রীষ্মকালীন সবজি ও মসলা উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বগুড়ার ১৩টি উপজেলার ৪৯ হাজার ৪৪০ বিঘায় কাঁচা মরিচ, বেগুন, পটোলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা হলেও চাষিরা বাজারে নিতে পেরেছেন ২১ হাজার ৪৫০ বিঘার ফসল।
 
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুর রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধাতার কারণে সবজি ও মসলার ফলন কমতে পারে ৩০ শতাংশ। ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে থাকা সবজির মধ্যে বেগুন ও মরিচের ক্ষতি হয়েছে তুলনামুলক বেশি।’ 

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজি বাজার মহাস্থান থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে সবজি ও মসলা কেনাবেচা করছেন মো. আইনুল হক। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজি ও মসলা দাম বেড়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে খেত থেকে তুলতে না পারায় এবং কিছু নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে যশোরেও। এখানে লাগামহীন হয়ে উঠেছে সবজি ও কাঁচা মরিচের দাম। বিক্রেতারা রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সাতমাইল বাজারের সবজি মোকামের পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম জানান, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা খেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। ফলে সরবরাহ কম। এ জন্য রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যশোরের সবজি কম যাচ্ছে।
 
গতকাল মঙ্গলবার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরিচ, শসা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া, কলাসহ গ্রীষ্মকালীন প্রায় ধরনের সবজির দাম ১০টা থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে।

কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
কৃচ্ছ্রসাধনে  সরকারের নানা পদক্ষেপ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি। ব্যাংক ঋণে সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। রপ্তানি আয়ে নিম্নমুখী ধারা। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলছে যুদ্ধ। সবকিছু মিলিয়ে আর্থিক সংকটে আছে সরকার। নিয়মিত খরচ চালিয়ে নিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। 

এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে অনেক পদক্ষেপ। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পৃথক সব প্রতিবেদন তৈরি করে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবে ওই প্রতিষ্ঠানের কোন কোন খাতে খরচ কমানো সম্ভব

অর্থমন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবেদনের তথ্য যাচাইবাছাই করে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর কোন প্রতিষ্ঠান কোন খাতে খরচ কমাবে তা চূড়ান্ত করা হবে।   

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরকারি গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানি খরচ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। এটি আরও কমানো যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সভা বা সেমিনার ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে বলা হয়েছে। এই ব্যয় ক্ষেত্রবিশেষ বন্ধ রেখে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের বিষয়গুলো ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব সরকারি কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির ব্যবহার ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ আরও কমানো সম্ভব কি না তা নিয়েও হিসাব কষতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনা সীমিত করা এবং আপ্যায়ন ব্যয় বন্ধ করার কথাও ভাবতে বলা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে প্রজ্ঞাপন জারি করলেই হবে না। এসব নির্দেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না তাও নজরদারি করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এর জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রচার চালাতে হবে। প্রয়োজনে বিজ্ঞাপন, নাটক, আলোচনা অনুষ্ঠান বা এ-জাতীয় অনুষ্ঠান প্রচার করতে বলা হয়েছে। 

সম্প্রতি এক সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। দেশের অর্থনীতি তলানিতে আছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে। সরকার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না। সবাইকে একসঙ্গে চেষ্টা করতে হবে। এরই মধ্যে অনেক খাতের রাষ্ট্রীয় খরচ কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও কীভাবে অপ্রয়োজনীয় বা কম প্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো যায়, তা নিয়ে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে। 
 
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ির বদলে ব্যবহার করছেন নিজের ব্যক্তিগত টয়োটা। জ্বালানি ও চালকের খরচও বহন করছেন নিজেই। একই সঙ্গে গাড়িবহরের আকার ১৩-১৪টি থেকে কমিয়ে ৪টিতে এনেছেন। 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অতি প্রয়োজনীয়, কম প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় আছে। যেহেতু অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যাংক খাতে সরকারের নির্ভরতা বেড়েছে। মধ্যপ্রোচ্যের পরিস্থিতি ভালো না। তাই সরকারকে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচে সতর্ক থাকতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। কম প্রয়োজনীয় ব্যয় কাটছাঁট করতে হবে।
 
একই মত জানিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি খবরের কাগজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন থামছে না। বিশ্বের অনেক দেশেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের দেশেও অর্থনৈতিক সংকট চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত। সরকারের এই নির্দেশ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত। সরকারেরও উচিত খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে নজরদারি করা।  

৮ জুলাই অর্থ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করে বলা হয়েছে, ‘সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে।’

সরকারি ব্যয় কমাতে এক পরিপত্র জারি করে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে উপরের স্তরের প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কিনতে ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনাও স্থগিত করা হয়েছে। সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে যেসব সরকারি কর্মকর্তা গাড়ি কিনেছেন, তারা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৫০ হাজার করে টাকা পেতেন। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

ওই পরিপত্রে পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্য ভবন নির্মাণ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে অর্থ ব্যয় বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিচালন বাজেটের থোক বরাদ্দ থেকে ব্যয় না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরেক পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে দেশে বা বিদেশে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কর্মকর্তারা পড়াশোনা, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা পান। বর্তমানে তারা প্রেষণে থাকায় স্কলারশিপের পাশাপাশি সরকারি বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়া হলে অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।’

দেশে ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৪২ কোটি ডলার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ পিএম
দেশে ১৩ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৪২ কোটি ডলার
মার্কিন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম ১৩ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১.৪২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৫ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা ১০১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাঈম/