প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিল পাসের প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিবছর সাধারণত দুই দলের সর্বসম্মত সমর্থনে পাস হওয়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামের এই বিলটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে আটকে যায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গোলাগুলি ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মাসেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।
সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ চলতে থাকা অবস্থায় তার দল প্রতিরক্ষা বিলে সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা চাইছে সিনেট এমনভাবে এই বিল নিয়ে আলোচনা করুক যেন দেশে কিছুই ঘটছে না। দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা সংকটকে উপেক্ষা করে আমরা এই বিল এগিয়ে নিতে পারি না।’ ডেমোক্র্যাটদের একযোগে বিরোধিতার কারণে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়।
ভোটাভুটিতে উপস্থিত সব ডেমোক্র্যাট বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে বিলটি সিনেটে পরবর্তী ধাপে যেতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি। সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা ফি’ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ফি আরোপের পক্ষে নন। তবে বিশ্বের সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।
অবশ্য ট্রাম্পের এই পিছু হটাতেও ডেমোক্র্যাটদের মন গলেনি। চাক শুমার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরান নিয়ে ট্রাম্প কী করছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এটি এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত। তিনি অবিবেচকের মতো যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই এর থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজেননি। যুদ্ধের ১৩৬তম দিন চললেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি।’
এদিকে বিলটি আটকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। বিলটির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের কথা রয়েছে। এতে সামরিক সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, নতুন চালকবিহীন অস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে।
ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেন, গত দেড় বছরে ডেমোক্র্যাটরা বারবার বাধা দেওয়ার রাজনীতি করেছে। আমি আশা করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমর্থনের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দেবে না।’
এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচ গত সপ্তাহে সহকর্মীদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। যেখানে তারা বলেন, বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এনডিএএ এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না। ডেমোক্র্যাট হিসেবে আমরা এমন কোনো ভোট দিতে পারি না, যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চরমপন্থি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে উৎসাহিত করবে।’
ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভ্যান হলেন বলেন, এই বিলের মাধ্যমে পেন্টাগনের জন্য বড় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান ইসরায়েল-নীতির পরিবর্তিত মনোভাবেরই প্রতিফলন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান