যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্বের অন্যতম সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী লয়েড’স লিস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সংঘাতপূর্ণ জলপথে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে অ-ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে থাকায় বৈশ্বিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই রুট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছে।
ডার্ক ট্রানজিট নিচ্ছেন নৌচালকরা
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতেও যে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করছে, তারা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। নজরদারি এড়াতে জাহাজের মালিক ও চালকেরা নিজেদের অবস্থান জানানোর স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছেন। সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভাষায় একে বলা হয় ডার্ক ট্রানজিট বা অন্ধকার যাত্রা। ফলে আন্তর্জাতিক এ সীমানায় চলাচলকারী জাহাজের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিকল্প হিসেবে আলোচনায় ‘কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন’
হরমুজ প্রণালীর এই নতুন অবরোধ ও অচলাবস্থা ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
লয়েডস লিস্ট জানায়, এ সংকট দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় ইরাক-সিরিয়া ও কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনাকে আরও জোরদার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। এ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প রুট হিসেবে ইরাক থেকে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
থিওটোনিয়াস/