যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র তার আগ্রাসন বন্ধ করছে’ ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারাক, রাস্ক, খোন্দাব এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খোররামাবাদসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আহভাজেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের মেহর নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন বোমাবর্ষণে শহিদ বাঘাই হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতালটির শিশু ক্যান্সার চিকিৎসা বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুসহ ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি সেবা দেওয়া হাসপাতালটি খালি করে দিতে হয়েছে।
মার্কিন হামলায় একটি ইরানি সেনা ব্যারাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশজুড়ে অন্তত সাতজন সেনা নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তেহরানের দাবি, এখন পর্যন্ত মার্কিন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ‘শত্রুভাবাপন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় রাজধানী তেহরানেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এর আগে কেশম ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর দেওয়া হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিককেন্দ্র বুশেহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচলকারী জাহাজকে হুমকি দিতে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তাদের একটি বিমান ইরানের বন্দরগুলোর নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে।
সেন্টকম জানায়, বিমান থেকে জাহাজটির চিমনিতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী এম টি বেলমা জাহাজটিকে থামানো হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘জাহাজটি আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না।’ সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/