তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘতম পথ, কাঠফাটা গরম, শক্তিশালী রোমান বাহিনী— মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দান করার আহ্বান জানালেন।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক পবিত্র উচ্চাশা জাগল। তিনি নিজেই বলছেন, ‘সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। মনে মনে বললাম— কোনোদিন যদি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই সেই দিন!’ তিনি বাড়ি গিয়ে সম্পদের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উমর বললেন, ‘এর সমপরিমাণ।’
এরপর এলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু— ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে। রাসুল (সা.) একই প্রশ্ন করলেন, ‘আবু বকর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তর এল ইতিহাসে গাথা সেই বাক্য, ‘তাদের জন্য রেখে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে।’ উমর বললেন, ‘সেদিন বুঝলাম—আমি কোনোদিন কোনো বিষয়ে আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।’ (সুনানে আবু দাউদ, ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, ৩৬৭৫)
এই ঘটনায় দুটি স্তর দেখুন। উমরের অর্ধেক সম্পদ দান—এই তো অকল্পনীয় ত্যাগ! কিন্তু আবু বকরের তাওয়াক্কুল ছিল আরও ঊর্ধ্বে—তাঁর কাছে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল’ ছিল দুনিয়ার সব সঞ্চয়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্য জামানত। আলেমরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সর্বস্ব দান আবু বকরের স্তরের ঈমানের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য মধ্যপন্থাই বিধান। কিন্তু শিক্ষাটা সবার— দানের প্রতিযোগিতা হোক, কৃপণতার নয়।
আমরা প্রতিযোগিতা করি কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট দামি। সাহাবিরা প্রতিযোগিতা করতেন কে আগে দান করবেন, কে বেশি দেবেন। দুই প্রতিযোগিতার ফলাফল দুই জায়গায় জমা হয়—একটি দুনিয়ার শোকেসে, অন্যটি আখিরাতের আমলনামায়।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে দানের সেই প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিন, আর আপনার ওপর ভরসাকে সম্পদের চেয়ে দামি করে দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক