ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ময়মনসিংহে অগ্রণী ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ প্রচারণায় মতবিনিময় সভা ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন স্কালোনি মার্কিন সামরিক অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখবে ইরান টুখেলের সমালোচনায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র মাগুরায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’ টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘অপারেশন লাইটনিং’ ইরানের কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করলেন স্পিকার বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল

সাহাবিদের গল্প—১১ ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’
ছবি: সংগৃহীত

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘতম পথ, কাঠফাটা গরম, শক্তিশালী রোমান বাহিনী— মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দান করার আহ্বান জানালেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক পবিত্র উচ্চাশা জাগল। তিনি নিজেই বলছেন, ‘সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। মনে মনে বললাম— কোনোদিন যদি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই সেই দিন!’ তিনি বাড়ি গিয়ে সম্পদের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উমর বললেন, ‘এর সমপরিমাণ।’

এরপর এলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু— ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে। রাসুল (সা.) একই প্রশ্ন করলেন, ‘আবু বকর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তর এল ইতিহাসে গাথা সেই বাক্য, ‘তাদের জন্য রেখে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে।’ উমর বললেন, ‘সেদিন বুঝলাম—আমি কোনোদিন কোনো বিষয়ে আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।’ (সুনানে আবু দাউদ,  ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, ৩৬৭৫)

এই ঘটনায় দুটি স্তর দেখুন। উমরের অর্ধেক সম্পদ দান—এই তো অকল্পনীয় ত্যাগ! কিন্তু আবু বকরের তাওয়াক্কুল ছিল আরও ঊর্ধ্বে—তাঁর কাছে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল’ ছিল দুনিয়ার সব সঞ্চয়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্য জামানত। আলেমরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সর্বস্ব দান আবু বকরের স্তরের ঈমানের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য মধ্যপন্থাই বিধান। কিন্তু শিক্ষাটা সবার— দানের প্রতিযোগিতা হোক, কৃপণতার নয়।

আমরা প্রতিযোগিতা করি কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট দামি। সাহাবিরা প্রতিযোগিতা করতেন কে আগে দান করবেন, কে বেশি দেবেন। দুই প্রতিযোগিতার ফলাফল দুই জায়গায় জমা হয়—একটি দুনিয়ার শোকেসে, অন্যটি আখিরাতের আমলনামায়।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে দানের সেই প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিন, আর আপনার ওপর ভরসাকে সম্পদের চেয়ে দামি করে দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প—১১ ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ এএম
‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’
ছবি: সংগৃহীত

তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘতম পথ, কাঠফাটা গরম, শক্তিশালী রোমান বাহিনী— মুসলমানদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের দান করার আহ্বান জানালেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে এক পবিত্র উচ্চাশা জাগল। তিনি নিজেই বলছেন, ‘সেদিন আমার কাছে সম্পদ ছিল। মনে মনে বললাম— কোনোদিন যদি আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই সেই দিন!’ তিনি বাড়ি গিয়ে সম্পদের অর্ধেক নিয়ে হাজির হলেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উমর বললেন, ‘এর সমপরিমাণ।’

এরপর এলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু— ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে। রাসুল (সা.) একই প্রশ্ন করলেন, ‘আবু বকর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তর এল ইতিহাসে গাথা সেই বাক্য, ‘তাদের জন্য রেখে এসেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে।’ উমর বললেন, ‘সেদিন বুঝলাম—আমি কোনোদিন কোনো বিষয়ে আবু বকরকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।’ (সুনানে আবু দাউদ,  ১৬৭৮; জামে তিরমিজি, ৩৬৭৫)

এই ঘটনায় দুটি স্তর দেখুন। উমরের অর্ধেক সম্পদ দান—এই তো অকল্পনীয় ত্যাগ! কিন্তু আবু বকরের তাওয়াক্কুল ছিল আরও ঊর্ধ্বে—তাঁর কাছে ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল’ ছিল দুনিয়ার সব সঞ্চয়ের চেয়ে নির্ভরযোগ্য জামানত। আলেমরা অবশ্য সতর্ক করেছেন, সর্বস্ব দান আবু বকরের স্তরের ঈমানের জন্য; সাধারণ মানুষের জন্য মধ্যপন্থাই বিধান। কিন্তু শিক্ষাটা সবার— দানের প্রতিযোগিতা হোক, কৃপণতার নয়।

আমরা প্রতিযোগিতা করি কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট দামি। সাহাবিরা প্রতিযোগিতা করতেন কে আগে দান করবেন, কে বেশি দেবেন। দুই প্রতিযোগিতার ফলাফল দুই জায়গায় জমা হয়—একটি দুনিয়ার শোকেসে, অন্যটি আখিরাতের আমলনামায়।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে দানের সেই প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালিয়ে দিন, আর আপনার ওপর ভরসাকে সম্পদের চেয়ে দামি করে দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে সফর মাস। এ উপলক্ষে আগামী ১২ আগস্ট (বুধবার) যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছাদেক আহমদ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাহেদুল ইসলাম, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৬ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৭ জুলাই): ৩.৫৬ মিনিট

.৫৬ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কত কিলোমিটার হাঁটেন আপনি? কিন্তু জানেন কি, আপনার এই হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় পাপমোচন মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরকে ফিট রাখতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার (Walking) পরামর্শ দেয় এ জন্য আমরা কত পার্ক বা জিমের খোঁজ করি অথচ আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যাতায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপকে এক অনন্য ইবাদত আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিশেষ করে এশা কিংবা ফজরের মতো ঘুমের ঠিক আগের পরের সময়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরকালীন সুরক্ষার এক চমৎকার ঢাল

কষ্টের মুহূর্তে ওজু করা এবং মসজিদে হেঁটে যাওয়ার এই অনন্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে সহিহ মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেব না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে–কষ্টের সময় সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা আর এ হলো রিবাত (জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়) (মুসলিম, ২৫১)

বাস্তব জীবনে এই সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম আমরা যখন অলসতা ঘুমের জড়তা ভেঙে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে পা বাড়াই, তখন আমাদের প্রতিটি কদম বা পদক্ষেপ আল্লাহর দরবারে সওয়াব হিসেবে গণ্য হয় এটি একদিকে যেমন আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় শরীরকে কর্মক্ষম রাখে, অন্যদিকে মনকে করে তোলে অহংকারমুক্ত প্রশান্ত

আসুন, যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহর ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করি এবং নবিজির এই জীবন্ত সুন্নতের আলোয় নিজেদের ধন্য করি

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের সঠিক নিয়ম

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের সঠিক নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল, বহু প্রতীক্ষিত চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া, কিংবা ভয়াবহ কোনো সড়ক দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে অক্ষত শরীরে বেঁচে ফেরাআমাদের জীবনে এমন মুহূর্ত প্রায়ই আসে এই চরম আনন্দ আর স্বস্তির মুহূর্তে আমরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি কেউ কেউ খুশিতে চিৎকার করি, আবার কেউ প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে এই বিশেষ মুহূর্তে আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত? ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, আনন্দের সেই সর্বোচ্চ মুহূর্তেও বিনম্র হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে মাথা নত করতে, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় বলা হয় শুকরিয়ার সিজদাহ

জীবনে কোনো আকস্মিক সুসংবাদ, সুখবর, সম্পদ লাভ কিংবা বড় কোনো বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পেলে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে একটি সিজদাহ করা মুস্তাহাব বা উত্তম আমল এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি বান্দার পরম আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ নবি কারীম (সা.) যখনই কোনো আনন্দদায়ক বা শুভসংবাদ পেতেন, তখনই আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন

শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের জন্য সাধারণ সালাতের মতো দীর্ঘ কোনো নিয়মের প্রয়োজন হয় না হাদিসের আলোকে এর সহজ কিছু দিক নিচে দেওয়া হলো-

শুকরিয়া আদায়ের জন্য কেবল একটি সিজদাহ করতে হয়

হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার নবি (সা.) একটি দীর্ঘ সিজদাহ করলেন এর পর মাথা তুলে বললেন, জিবরাইল (.) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে একটি শুভসংবাদ দিয়েছেন, তাই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদাহ করলাম (বুলুগুল মারাম, ৩৪৮)

কোনো সুসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিজদাহ করা সুন্নাহ হযরত আলী (রা.) যখন নবি (সা.)-কে হামাযান গোত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ লিখে পাঠালেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিক সিজদাহ করলেন এবং মাথা তুলে বললেন, হামাযানের ওপর সালাম (সালাতে মুবাশ্শির)

সাধারণত ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সালাত আদায় করা নিষেধ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮০৫) তবে আকস্মিক কোনো নিয়ামত বা বিপন্মুক্তির কারণে এই নিষিদ্ধ সময়েও শুকরিয়ার সিজদাহ দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ উলামা এই সময়েও সিজদাহ আদায়ের পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন কারণ এটি একটি তাৎক্ষণিক আমল

সিজদাহ ছাড়াও মুমিন ব্যক্তি তিনটি উপায়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন:

. এই নেয়ামত সম্পূর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা

. মৌখিকভাবে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহর প্রশংসা করা

. প্রাপ্ত নেয়ামতকে আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যয় না করে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করা (সালাতে মুবাশ্শির)

সুখ দুঃখ–উভয় অবস্থায় আল্লাহর স্মরণই মুমিনের আসল পরিচয় তাই জীবনের যেকোনো খুশির খবরে চাটুকারিতা বা অহংকারে মত্ত না হয়ে আসুন আমরা সিজদাহর মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার তাওফিক লাভ করি

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক