সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কত কিলোমিটার হাঁটেন আপনি? কিন্তু জানেন কি, আপনার এই হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় পাপমোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়?
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরকে ফিট রাখতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার (Walking) পরামর্শ দেয়। এ জন্য আমরা কত পার্ক বা জিমের খোঁজ করি। অথচ আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যাতায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপকে এক অনন্য ইবাদত ও আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে এশা কিংবা ফজরের মতো ঘুমের ঠিক আগের ও পরের সময়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরকালীন সুরক্ষার এক চমৎকার ঢাল।
কষ্টের মুহূর্তে ওজু করা এবং মসজিদে হেঁটে যাওয়ার এই অনন্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে সহিহ মুসলিম শরিফে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেব না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে–কষ্টের সময় সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। আর এ হলো রিবাত (জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়)। (মুসলিম, ২৫১)
বাস্তব জীবনে এই সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যখন অলসতা ও ঘুমের জড়তা ভেঙে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে পা বাড়াই, তখন আমাদের প্রতিটি কদম বা পদক্ষেপ আল্লাহর দরবারে সওয়াব হিসেবে গণ্য হয়। এটি একদিকে যেমন আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও শরীরকে কর্মক্ষম রাখে, অন্যদিকে মনকে করে তোলে অহংকারমুক্ত ও প্রশান্ত।
আসুন, যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহর ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করি এবং নবিজির এই জীবন্ত সুন্নতের আলোয় নিজেদের ধন্য করি।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক