ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে মিলল ৬ হাজার ইয়াবা সোনারগাঁয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রংপুরে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তারপর... শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হারে শুরু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চট্টগ্রাম চেম্বারের ১ কোটি টাকা অনুদান রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাজ্য ‘আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে শেখ হাসিনার’ হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়? চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফাইনালের আগে ইয়ামালের বার্তা: 'নিউইয়র্ক' আমরা আসছি জনগণের নির্বাচিত সরকার তাদের পাশেই রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সাজেক ভ্যালি জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া, দ্রুত আবেদন করুন ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে  ৩৯১ সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী: আসক হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক ইউনিট-২-এর যাত্রা শুরু ২৬ ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কমিটির সুপারিশ ডব্লিউইউবি-তে বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন নীল-সাদা জার্সির ভাঁজে সময় কুকুরের আতঙ্কে ইবির শিক্ষার্থীরা বহিষ্কারের মুখে আর্জেন্টিনা? ৭৮ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ রাস্তা কেন ভাগাড় হবে উচ্চশিক্ষার বিতর্কে করণীয় কী বাংলাদেশকে ১৭১ রানের লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে বরিশালে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সড়ক অবরোধ পরীক্ষা না আন্দোলন: সপ্তম দিনে অনুপস্থিত ২০০৫২ পরীক্ষার্থী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার নিয়ম

হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কত কিলোমিটার হাঁটেন আপনি? কিন্তু জানেন কি, আপনার এই হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় পাপমোচন মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরকে ফিট রাখতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার (Walking) পরামর্শ দেয় এ জন্য আমরা কত পার্ক বা জিমের খোঁজ করি অথচ আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যাতায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপকে এক অনন্য ইবাদত আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিশেষ করে এশা কিংবা ফজরের মতো ঘুমের ঠিক আগের পরের সময়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরকালীন সুরক্ষার এক চমৎকার ঢাল

কষ্টের মুহূর্তে ওজু করা এবং মসজিদে হেঁটে যাওয়ার এই অনন্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে সহিহ মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেব না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে–কষ্টের সময় সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা আর এ হলো রিবাত (জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়) (মুসলিম, ২৫১)

বাস্তব জীবনে এই সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম আমরা যখন অলসতা ঘুমের জড়তা ভেঙে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে পা বাড়াই, তখন আমাদের প্রতিটি কদম বা পদক্ষেপ আল্লাহর দরবারে সওয়াব হিসেবে গণ্য হয় এটি একদিকে যেমন আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় শরীরকে কর্মক্ষম রাখে, অন্যদিকে মনকে করে তোলে অহংকারমুক্ত প্রশান্ত

আসুন, যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহর ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করি এবং নবিজির এই জীবন্ত সুন্নতের আলোয় নিজেদের ধন্য করি

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে সফর মাস। এ উপলক্ষে আগামী ১২ আগস্ট (বুধবার) যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ছাদেক আহমদ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাহেদুল ইসলাম, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়?
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে কত কিলোমিটার হাঁটেন আপনি? কিন্তু জানেন কি, আপনার এই হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে বড় পাপমোচন মর্যাদা বৃদ্ধির উপায়?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শরীরকে ফিট রাখতে এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটার (Walking) পরামর্শ দেয় এ জন্য আমরা কত পার্ক বা জিমের খোঁজ করি অথচ আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের যাতায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপকে এক অনন্য ইবাদত আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন বিশেষ করে এশা কিংবা ফজরের মতো ঘুমের ঠিক আগের পরের সময়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস আমাদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি পরকালীন সুরক্ষার এক চমৎকার ঢাল

কষ্টের মুহূর্তে ওজু করা এবং মসজিদে হেঁটে যাওয়ার এই অনন্য ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে সহিহ মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেব না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবারা বললেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তা হচ্ছে–কষ্টের সময় সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা আর এ হলো রিবাত (জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়) (মুসলিম, ২৫১)

বাস্তব জীবনে এই সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম আমরা যখন অলসতা ঘুমের জড়তা ভেঙে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে পা বাড়াই, তখন আমাদের প্রতিটি কদম বা পদক্ষেপ আল্লাহর দরবারে সওয়াব হিসেবে গণ্য হয় এটি একদিকে যেমন আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় শরীরকে কর্মক্ষম রাখে, অন্যদিকে মনকে করে তোলে অহংকারমুক্ত প্রশান্ত

আসুন, যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আল্লাহর ঘরের দিকে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করি এবং নবিজির এই জীবন্ত সুন্নতের আলোয় নিজেদের ধন্য করি

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের সঠিক নিয়ম

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের সঠিক নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল, বহু প্রতীক্ষিত চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া, কিংবা ভয়াবহ কোনো সড়ক দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে অক্ষত শরীরে বেঁচে ফেরাআমাদের জীবনে এমন মুহূর্ত প্রায়ই আসে এই চরম আনন্দ আর স্বস্তির মুহূর্তে আমরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি কেউ কেউ খুশিতে চিৎকার করি, আবার কেউ প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু একজন মুমিন হিসেবে এই বিশেষ মুহূর্তে আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত? ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, আনন্দের সেই সর্বোচ্চ মুহূর্তেও বিনম্র হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে মাথা নত করতে, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় বলা হয় শুকরিয়ার সিজদাহ

জীবনে কোনো আকস্মিক সুসংবাদ, সুখবর, সম্পদ লাভ কিংবা বড় কোনো বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পেলে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে একটি সিজদাহ করা মুস্তাহাব বা উত্তম আমল এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি বান্দার পরম আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ নবি কারীম (সা.) যখনই কোনো আনন্দদায়ক বা শুভসংবাদ পেতেন, তখনই আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন

শুকরিয়ার সিজদাহ আদায়ের জন্য সাধারণ সালাতের মতো দীর্ঘ কোনো নিয়মের প্রয়োজন হয় না হাদিসের আলোকে এর সহজ কিছু দিক নিচে দেওয়া হলো-

শুকরিয়া আদায়ের জন্য কেবল একটি সিজদাহ করতে হয়

হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার নবি (সা.) একটি দীর্ঘ সিজদাহ করলেন এর পর মাথা তুলে বললেন, জিবরাইল (.) আমার কাছে এসেছিলেন এবং আমাকে একটি শুভসংবাদ দিয়েছেন, তাই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য সিজদাহ করলাম (বুলুগুল মারাম, ৩৪৮)

কোনো সুসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিজদাহ করা সুন্নাহ হযরত আলী (রা.) যখন নবি (সা.)-কে হামাযান গোত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ লিখে পাঠালেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিক সিজদাহ করলেন এবং মাথা তুলে বললেন, হামাযানের ওপর সালাম (সালাতে মুবাশ্শির)

সাধারণত ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সালাত আদায় করা নিষেধ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮০৫) তবে আকস্মিক কোনো নিয়ামত বা বিপন্মুক্তির কারণে এই নিষিদ্ধ সময়েও শুকরিয়ার সিজদাহ দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ উলামা এই সময়েও সিজদাহ আদায়ের পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন কারণ এটি একটি তাৎক্ষণিক আমল

সিজদাহ ছাড়াও মুমিন ব্যক্তি তিনটি উপায়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন:

. এই নেয়ামত সম্পূর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা

. মৌখিকভাবে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহর প্রশংসা করা

. প্রাপ্ত নেয়ামতকে আল্লাহর অবাধ্যতায় ব্যয় না করে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করা (সালাতে মুবাশ্শির)

সুখ দুঃখ–উভয় অবস্থায় আল্লাহর স্মরণই মুমিনের আসল পরিচয় তাই জীবনের যেকোনো খুশির খবরে চাটুকারিতা বা অহংকারে মত্ত না হয়ে আসুন আমরা সিজদাহর মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার তাওফিক লাভ করি

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

সাহাবিদের গল্প-১০ একটি বাগানের বদলে জান্নাতের বাগান

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
একটি বাগানের বদলে জান্নাতের বাগান
ছবি: সংগৃহীত

মসজিদে নববিতে তিলাওয়াত হচ্ছে সদ্য নাজিল হওয়া আয়াত, ‘কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? তাহলে তিনি তা তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।’ (সুরা বাকারা, ২৪৫) 

সমবেত মানুষের মধ্যে একজন চমকে উঠলেন, আবু দাহদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। সরল বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ কি সত্যিই আমাদের কাছে ঋণ চান?’ নবিজি বললেন, ‘হ্যাঁ, হে আবু দাহদাহ।’

ব্যস! আবু দাহদাহ তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ৬০০ খেজুরগাছের বাগানটি আল্লাহকে ‘ঋণ’ দিয়ে দিলেন। তারপর সোজা গেলেন সেই বাগানে, যেখানে তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। ডাক দিয়ে বললেন, ‘বেরিয়ে এসো! আমি এই বাগান আল্লাহকে ঋণ দিয়ে দিয়েছি!’ স্ত্রী উম্মে দাহদাহ একটিও আফসোসের শব্দ না করে বললেন, ‘তোমার ব্যবসা লাভজনক হয়েছে!’ এবং সন্তানদের নিয়ে বাগান ছেড়ে বেরিয়ে এলেন। (ঘটনাটি মুসনাদে আহমাদে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; কোনো কোনো মুহাদ্দিস সনদটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন)

আর তার প্রতিদান? সহিহ মুসলিমে জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই অমর উক্তি এসেছে, ‘জান্নাতে আবু দাহদাহর জন্য কত যে ঝুলে আছে খেজুরের ছড়া!’ (সহিহ মুসলিম)

একটু থামুন। দুনিয়ার বাগানে খেজুর ফলে কয়েক দশক; জান্নাতের বাগান চিরস্থায়ী। আবু দাহদাহ স্রেফ অঙ্কটা বুঝেছিলেন, যেখানে ‘বহুগুণ’ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ, সেখানে দেরি করাই লোকসান। আর উম্মে দাহদাহ শেখালেন, নেক স্বামীর নেক সিদ্ধান্তে সহযোগী স্ত্রী হওয়াটাও কত বড় ইবাদত।

আমরা ব্যাংকের সামান্য মুনাফার জন্য বছরের পর বছর টাকা আটকে রাখি, অথচ আল্লাহর ‘বহুগুণ’ প্রতিশ্রুতিতে বিনিয়োগের বেলায় হাত কাঁপে। ঈমানের দাবি তো এটাই–আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে ব্যাংকের চেকের চেয়েও নিশ্চিত জানা।

হে আল্লাহ! আপনার প্রতিশ্রুতির ওপর আবু দাহদাহর মতো অটল বিশ্বাস দিন, আর আমাদের পরিবারগুলোকে নেক কাজের প্রতিযোগী বানিয়ে দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ
ছবি: সংগৃহীত

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিরল ও মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। আজ একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে সূর্য থাকবে পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে। ফলে কিছু সময়ের জন্য কাবা শরিফের কোনো ছায়া দেখা যাবে না। এই অনন্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ কোনো কম্পাস বা প্রযুক্তি ছাড়াই শতভাগ নিখুঁতভাবে কিবলার দিক নির্ধারণ করতে পারবেন।

জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, সূর্য যখন কাবা শরিফের ঠিক ৯০ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করবে, তখনকার সময়গুলো হলো-

মক্কার স্থানীয় সময়: দুপুর ১২টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।

বাংলাদেশ সময়: বিকেল ৩টা ২৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড।

এই নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের আলো কাবার ওপর সম্পূর্ণ লম্বভাবে পড়বে, যার ফলে কাবার চারপাশের ছায়া একদম বিলীন হয়ে যাবে।

এই বিশেষ মুহূর্তে পৃথিবীর যে প্রান্তেই সূর্য দৃশ্যমান থাকবে, সেখান থেকে সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেই তা হবে কাবা শরিফ তথা কিবলার সঠিক দিক।

আধুনিক কম্পাস বা জিপিএস প্রযুক্তি আবিষ্কারের আগে মুসলমানরা এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি ব্যবহার করতেন। খোলা স্থানে একটি সোজা কাঠি বা দণ্ড মাটিতে পুঁতে রাখা হতো। ঠিক এই মুহূর্তে কাঠির ছায়ার বিপরীত দিকটিকে কিবলার দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হতো, যা অত্যন্ত নির্ভুল বলে প্রমাণিত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, বরং একটি নিয়মিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থান এবং সূর্যের আপাত গতিপথের কারণে প্রতি বছর সাধারণত দুইবার (মে মাসের শেষ দিকে এবং জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে) সূর্য কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে অবস্থান করে। সূত্র: ডেইলি পাকিস্তান