ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ত্রাণমন্ত্রী বিদায়ের পরই দুই ট্রাক ত্রাণ লুটের অভিযোগ স্বর্ণশিল্পকে শক্তিশালী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য: বাজুস প্রেসিডেন্ট দুই মাস পর আমরা কোথায় থাকব জানিনা: জুলাই শহিদ শান্তর মা সালথা ছাত্রদলের কমিটিতে ৪ বিবাহিত নেতা, কারও রয়েছে সন্তানও ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ২৭ আগস্টের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তের নির্দেশ জুয়ার জালে সর্বস্ব হারাচ্ছেন পেকুয়ার তরুণরা মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২ দালালের জেল, ৩ জনের জরিমানা ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস এক কুকুরের কামড়েই শেরপুরে আহত ২৯ সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে মিলল ৬ হাজার ইয়াবা সোনারগাঁয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রংপুরে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তারপর... শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হারে শুরু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চট্টগ্রাম চেম্বারের ১ কোটি টাকা অনুদান রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাজ্য ‘আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে শেখ হাসিনার’ হাঁটার অভ্যাসটিই হতে পারে পাপমোচন সবচেয়ে বড় উপায়? চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফাইনালের আগে ইয়ামালের বার্তা: 'নিউইয়র্ক' আমরা আসছি জনগণের নির্বাচিত সরকার তাদের পাশেই রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সাজেক ভ্যালি জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া, দ্রুত আবেদন করুন ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে  ৩৯১ সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী: আসক হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক ইউনিট-২-এর যাত্রা শুরু ২৬ ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কমিটির সুপারিশ

রংপুরে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তারপর...

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
রংপুরে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তারপর...
ছবি: খবরের কাগজ

এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে সাড়ে পাঁচটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযোগটি দেন। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি রংপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মাহদী হাসান অনিক।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষামন্ত্রীসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নির্দেশে পুলিশ হামলা চালায় এবং আন্দোলনকারীদের গালিগালাজ করে। এতে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন কারিকুলাম ও সাম্প্রতিক শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি সাধন হয়েছে বলেও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

এর আগে দুপুরে এসএসসি পরীক্ষা শেষে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা মহানগর কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ও রংপুর ক্যান্ট পাবলিকের শিক্ষার্থী মাহদী হাসান অনিক বলেন, ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশি হামলা চালানো হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম টাউন হল থেকে প্রোগ্রামটা থানা অবধি আসবো। আসার পরে মামলার বিষয়ে কথা বলব। যেহেতু দেশে আইন আছে তাই আমরা জনদুর্ভোগ এড়াতে আইনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে চাচ্ছিলাম। থানায় কথা বলছি তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমাদের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। প্রথমত আমরা মামলা দিলাম না। অভিযোগ আকারে দাখিল করলাম। তিনি আমাদের সঙ্গে আবারও বসতে চেয়েছেন।

মাহদী বলেন, ঢাকার শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রোগ্রাম আগাবে আমরা সেভাবে প্রোগ্রাম এগিয়ে নেব। কোনো রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে থাকবে না।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

রামপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা থানায় এসেছিল, আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। পরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শুনেছি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগে রংপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তারা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।

সেলিম/নাঈম

ত্রাণমন্ত্রী বিদায়ের পরই দুই ট্রাক ত্রাণ লুটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ত্রাণমন্ত্রী বিদায়ের পরই দুই ট্রাক ত্রাণ লুটের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি চলে যাওয়ার পরপরই হুড়োহুড়ি করে দুই ট্রাক ত্রাণসামগ্রী লুট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর হাটে এ ঘটনা ঘটে।

এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর ভোর বাজার ঘাটে গিয়ে নৌকায় উঠে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে করতে ধর্মপুর ইউনিয়নের বিশ্বেশ্বর হাটে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি বন্যাদুর্গতদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে বেশ কয়েকজনের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে উৎসুক বন্যাদুর্গতরা হুড়োহুড়ি করে দুই ট্রাক ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যান। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বেশ্বর হাটে উপস্থিত বন্যাদুর্গতরা হুড়োহুড়ি করে ট্রাক থেকে নিজের মতো করে ত্রাণসামগ্রী নিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন যুবককে ট্রাকের উপর উঠে ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেট বন্যাদুর্গতদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেও দেখা যায়। পরে ট্রাক দুটি পর্যায়ক্রমে বিশ্বেশ্বর হাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটে।

এসএন/

স্বর্ণশিল্পকে শক্তিশালী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য: বাজুস প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
স্বর্ণশিল্পকে শক্তিশালী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য: বাজুস প্রেসিডেন্ট
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান বলেছেন, সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার করে ভ্যাট ও কর পরিশোধের মাধ্যমে আমরা রাজস্ব খাতে আরও বেশি অবদান রাখতে চাই। পাশাপাশি, জাতীয় অর্থনীতিতে স্বর্ণশিল্পকে একটি শক্তিশালী শিল্পখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রংপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করে বাজুস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখন থেকে বিদেশ থেকে হ্যান্ড ব্যাগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত স্বর্ণ দেশে আনা যাবে। একইভাবে, হ্যান্ড ব্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে স্বর্ণ রপ্তানিও করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা এই বাজেটে যা পেয়েছি, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই। আশা করছি এই মাসের মধ্যেই আমদানি ও রপ্তানির ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের একটি সুখবর দিতে পারব। আমরা সরকারকে অঙ্গীকার করেছি ; আমরা ভ্যাট দেব, আমরা ট্যাক্স দেব।’

চোরাচালান ও কালোবাজারি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনামুল হক খান বলেন, ‘স্বর্ণ কখনো স্মাগলিংয়ের পণ্য হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও অসাধু কর্মকর্তা মিলে এখানে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সেটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।’

তিনি জানান, হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার মন্ত্রী পর্যায়ের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ খাতের উন্নয়নে বাজুসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

দেশের স্বর্ণশিল্পকে বিকশিত করে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাজুস কাজ করছে। তিনি বলেন, স্বর্ণশিল্পের নতুন উদ্যোক্তারা যাতে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অনেকেই বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে বাজুসের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রনজিৎ ঘোষ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট সমিত ঘোষ অপু, পরিচালক সুমন চন্দ্র দে, পরিচালক আলী হোসেন, পরিচালক আবদুল্লাহসহ সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় তিন শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও জুয়েলারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম সরকার/এএফ

দুই মাস পর আমরা কোথায় থাকব জানিনা: জুলাই শহিদ শান্তর মা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
দুই মাস পর আমরা কোথায় থাকব জানিনা: জুলাই শহিদ শান্তর মা
শান্তর মা কহিনুর আক্তার। ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই বিপ্লবে নিহত ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র মা-বাবা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে শান্তর মা কহিনুর আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, আমার কলিজার ধনকে এভাবে হারাবো কল্পনাও করিনি। ছেলের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে বরিশালে যায়নি। নিজে কষ্ট করে ছেলেকে মানুষ করছিলাম।

খবরের কাগজের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমার স্বপ্ন অর্থাৎ আমার ছেলেসহ অন্যান্য শহিদদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা, আরাম-আয়েস পেয়েছে। আমাদেরকে নিয়ে তাদের আর ভাবার সময় নেই।

শান্তর মা কহিনুর বেগম জানান, সময় যত গড়াচ্ছে তারা তত আশাহীন হয়ে পড়ছেন। ভরসাহীন হয়ে পড়ছেন। এমনকি দুই মাস পর তারা কোথায় থাকবেন তাও জানেননা। কারণ সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে তাদের এককালিন দেড় বছরের বাসা ভাড়া দিয়েছিল। আর দুইমাস পর সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর তারা বাসা ভাড়া কোথায় পাবেন এই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

তিনি জানান, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী যখন আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন আমরা তাকে সরকারি বাসা বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। উপদেষ্টা তৎকালীন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উপদেষ্টা চলে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসক আমাদেরকে আর পাত্তা দেননি।’  

পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে শান্তর মা বলেন, ‘আমাদের বাসায় এখন বিভিন্ন ধরনের লোকজন আসা শুরু করেছে। কিছুদিন আগেও একজন এসে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন। অথচ বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আমি কি চাইলেও কাউকে বাদ দিতে পারি? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এসব লোক আমাদের জন্য বিপজ্জনক। তিনি সরকারের কাছে জানমাল এবং আর্থিক নিরাপত্তা চান।’ 

শান্তর বাবার জন্য সরকারি চাকরির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি একটি স্কুলে চাকরি করেন। কিন্তু সেখান থেকে যে বেতন পান তা দিয়ে মেয়ের লেখাপড়া এবং সংসার চালানো কঠিন।’

শান্তর হত্যা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মামলাগুলোর যে গতি ছিল এখন তা নেই। আগামি ৪ আগস্ট সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ঢাকায় যাওয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ খবরের কাগজকে জানান, গত জানুয়ারীতে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন ট্রাইবুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখন বিচারাধীন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর গ্রামের জাকির হোসেন সিইপিজেডে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে শান্ত ও তার বোন মা বাবার সঙ্গে লালদিয়ার চর এলাকায় থাকতেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালালে শান্তর বাবা নিজের জন্মস্থান বরিশালে গিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেন। তবে শান্ত এবং তার বোন মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে যান। এখানেই লেখাপড়া করেন। শান্ত চট্টগ্রামের বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ওমরগণি এমইএস কলেজের (অনার্স) ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ছাত্ররা একত্রিত হয়। সেখানে শান্তও
ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে ষোলশহর ২নং গেইট এলাকায় অতর্কিত হামলা গুলিতে নিহত হন শান্ত।

এদিকে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শান্ত’র মাকে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকুরি পান। সেখানে তার বোন সুমাইয়া জান্নাত বৃষ্টি নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় থাকেন তারা।

রিফাত/

জুয়ার জালে সর্বস্ব হারাচ্ছেন পেকুয়ার তরুণরা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
জুয়ার জালে সর্বস্ব হারাচ্ছেন পেকুয়ার তরুণরা
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচে ফ্রান্স ও স্পেনের লড়াইকে কেন্দ্র করে বসেছিল কোটি টাকার অবৈধ জুয়ার আসর। অনলাইন বেটিং সাইট ও স্থানীয়ভাবে বাজি ধরে রাতারাতি লাখ লাখ টাকা হেরে নিঃস্ব হয়েছেন উপজেলার শত শত তরুণ। বাদ যায়নি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলও। গোলের উল্লাসের আড়ালে চলা এই জুয়ার জালে জড়িয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় যুবসমাজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত রাত ১টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য পেকুয়ার টৈটং বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভিড় জমান স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এই ভিড়ের আড়ালে চলে জমজমাট জুয়ার কারবার।

টৈটং বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাত ১টার সময় খেলা শুরু হলে আমার দোকানে বসে অনেকে খেলা দেখেছে। খেলা দেখার পাশাপাশি সেখানে প্রকাশ্য ও গোপনে বাজি ধরা চলে। কেউ ১০ হাজার, কেউ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ম্যাচের ওপর বাজি ধরেছেন। চোখের সামনে অনেকেই এক রাতে লাখ টাকা হারিয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন।

পেকুয়ার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ এই সর্বনাশা আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই অনলাইন জুয়া আর বাজির কারণে এলাকার অনেক তরুণের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে অনেকের সাজানো সংসার ভেঙে চুরমার হতে দেখেছি। যুবসমাজকে বাঁচাতে এখনই প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

শিলখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, জুয়ার এই ভয়াবহ বিষবাষ্প শুধু নির্দিষ্ট কোনো বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া, বারবাকিয়া ও শিলখালী এলাকাতেও প্রতিনিয়ত বসছে ডিজিটাল ও অ্যানালগ জুয়ার আসর। বিশেষ করে স্মার্টফোনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জুয়ার অ্যাপস ব্যবহার করে এই সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠছে উঠতি বয়সের তরুণেরা।

এই অনলাইন জুয়া ও বাজির কারণে পেকুয়া ও চকরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করেছে। জুয়ার লোভ ও আসক্তি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, অনেকে নিজের শেষ সম্বল জমি পর্যন্ত বিক্রি করে দিচ্ছেন।

জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে ঋণের জালে জড়াচ্ছেন। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুয়ায় হেরে টাকা শোধ করতে না পেরে বা নতুন করে টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ঘরে-বাইরে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে অনেক সুখী সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, জুয়ার টাকা জোগাড়ের জন্য এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত এই জুয়াড়ি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার তরুণ সমাজ সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টৈটং, মগনামা, রাজাখালীসহ পুরো পেকুয়া উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাত্রিকালীন টহল জোরদার এবং জুয়ার স্পটগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, অনলাইন ও অফলাইনে যেকোনো ধরনের জুয়া খেলার বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কেউ যেন জুয়ার আসর না বসাতে পারে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। কেউ জুয়া আয়োজন বা অংশগ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রকিবুল হাসান/রিফাত/

মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২ দালালের জেল, ৩ জনের জরিমানা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
মিরপুর বিআরটিএ’তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ২ দালালের জেল, ৩ জনের জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

বিআরটিএ অফিসে আগত গ্রাহকদের হয়রানি দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মিরপুর-১৩ বিআরটিএ  ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়কে দালালমুক্ত করার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিআরটিএ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরের দিকে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সহযোগিতা করেন বিআরটিএ'র কর্মরত আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমসহ অন্যান্য সদস্যরা।

আটকরা প্রত্যেকেই আদালতের নিকট তাদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি প্রদান করায় দুই জনের প্রত্যেককে ৩০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন জনকে মোট বিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন বিআরটিএ এর ভ্রমমাণ আদালত। অর্থদণ্ড পরিশোধ করার পর তিন জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মো. মোজাফফার হোসেন(৫০) এবং মাহমুদ হাসান (৫৮)।

এ বিষয়ে বিআরটির এক্সিকিউটি ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ অফিসে আগত গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার নাম করে কাগজপত্র টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাই দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এই অভিযানের বিষয়ে বিআরটিএ কর্মরত আনসার কমান্ডার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, বিআরটিএ দালাল, প্রতারক মুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতা হিসেবে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাব এবং দালাল নির্মূল করব। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এএফ/