সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা ও উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নাগরিকদের সব ধরনের সরকারি সেবা এক ছাতার নিচে আনতে চালু করা হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ৩১ দফাকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে এটি এখন সমগ্র দেশের উন্নয়ন রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।
কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একীভূত করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয়ে সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতের শাসনামলে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই দুর্নীতির কারণেই উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। দুর্নীতিকে যেকোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি ও পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার নার্সারি স্থাপন এবং আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা এবং ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং পাঁচ বিভাগে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়—ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাজনীতির ভিত্তি।
এলিস/এএফ