ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী পূর্ব রায়ছটা গ্রামে জলকদরের খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রী ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছি। ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে এই এলাকাকে আবার গড়ে তোলা হবে। মানুষ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গুনাগরী থেকে খানখানাবাদ আসার সময়ে যে সড়কের ভয়াবহ অবস্থা দেখলাম সেটি দ্রুত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা করা হয়েছে। মৎস্য খাত, ঘরবাড়ি ও কৃষির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার একটি দ্রুত মূল্যায়ন তৈরি করতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে বীজতলা তৈরি, বীজের চারা, বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি খাল খনন কর্মসূচিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করছি। আজ যে খালটির পাশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন। গত ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখার কারণে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এই খালটি পুনঃ খননের ফলে এলাকায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে এবং খালের বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন করতে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে। বাঁশখালীর এই জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন।
খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী, খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সবুর চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।
শফকত/নাঈম