ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি ভাগ্য গড়ে গোল্ডেন বুটের? পাবনায় অ্যাম্বুলেন্স-বাস সংঘর্ষে নিহত ৩ বিষণ্নতায় নারীদের জেনেটিক ঝুঁকি পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুণ ডিজিটাল যুগে নারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগের প্রতীক তারামন বিবি বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও টুখেলের ওপর আস্থা ইংল্যান্ডের ‘গণিতের নোবেল’ মারিয়াম মির্জাখানি ইংল্যান্ড বধের জয় মারাডোনাকে উৎসর্গ করলেন মেসি ঘনীভূত হচ্ছে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মায়ানমারে ট্রলারডুবিতে ৫০০ রোহিঙ্গা মৃত্যুর আশঙ্কা জাতিসংঘের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নিন সাতকানিয়ায় বন্যা শেষে ৮৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের প্রস্তুতি রাজধানী কিয়েভ ও সমুদ্রবন্দরে রাশিয়ার হামলা উত্তরায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখে ফেরার পথে বাসচাপায় দুই সাংবাদিক নিহত ময়মনসিংহে অগ্রণী ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ প্রচারণায় মতবিনিময় সভা ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন স্কালোনি মার্কিন সামরিক অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখবে ইরান টুখেলের সমালোচনায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র মাগুরায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’ টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘অপারেশন লাইটনিং’ ইরানের কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করলেন স্পিকার বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত

জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’
জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’। ছবি: খবরের কাগজ

শিক্ষা ও জ্ঞান কীভাবে একটি সমাজের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ঘটাতে পারে, সেই জীবনমুখী বার্তা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) মঞ্চস্থ হলো জাপানি লেখক ইয়ুজো ইয়ামাতোর লেখা নাটক ‘একশ বস্তা চাল’ (One Hundred Sacks of Rice)। 

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হায়দার থিয়েটার ল্যাবে নাটকটি প্রদর্শিত হয়। নাটকটির অনুবাদ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুস সেলিম এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মো. শাহিন আলম।

নাটকটির মূল প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে তোরাসাবুরো নামক এক দূরদর্শী চরিত্রের চারপাশে, যিনি ক্ষুধার্ত মানুষকে কেবল খাদ্য দিয়ে সাহায্য না করে বরং একটি স্কুল প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নাটকের বার্তা অনুযায়ী, বর্তমানের বিলাসিতা ত্যাগ করে শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগ করাই টেকসই সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

নাটকটির মঞ্চায়নে উপস্থিত ছিলেন অনুবাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরিফ হায়দার, কোর্স তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল হোসেন বাঁধন তোকদার, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমতারা ভূঁইয়া ইলা এবং বিভাগের শিক্ষক ড. কামাল উদ্দীন, নুসরাত শারমিন তানিয়া, মেহেদি তানজির, রুদ্র সওজাল কাব্য, কৃপাময় কর কৌশিক ও চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, কবি ও লেখক দ্রাবির সৈকত।

নাটকটির প্রযোজনা ও মঞ্চায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মঞ্চে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবজয় চক্রবর্তী, সানজিদা ইসলাম শ্রাবণ, উম্মে সালমা সিনথিয়া, মোল্লা আলভী মাহামুদ, সুমাইয়া আদনিন প্রমি, আব্দুল্লাহ আল হাসিব, মো. শাকিল প্রধান, মো. সামিউল ইসলাম শিশির, আব্দুল্লাহ ওমায়ের অন্তু, মো. আবির আহমেদ লিহিম, মো. ইয়াছির আরাফাত এবং তামজিদ সোরুয়াহ ল্যাব। এছাড়া তলোয়ার নাচ পরিবেশনায় ছিলেন একদল দক্ষ শিক্ষার্থী।

নাটকটির নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কুশলী ও সংশ্লিষ্টদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সফল মঞ্চায়ন সম্পন্ন হয়। এমন শিক্ষামূলক নাটক মঞ্চস্থ হওয়ায় উপস্থিত দর্শক ও সংস্কৃতিমনা মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। নাটকটি মূলত ছিল নাট্যকলা বিভাগে নির্দেশনা নিয়ে মাস্টার্সে অধ্যরয়নরত শিক্ষার্থীদের একটি পরীক্ষা

তাসনিম হক/তামান্না রুপা/

রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
রায় কার্যকর না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ
শহিদ আবু সাঈদ

আবু সাঈদ হত্যাকারীদের বিচারের রায় হয়েছে; কিন্তু এখন পর্যন্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম। তারা বলেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আবু সাঈদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। তাই মৃত্যুর আগে আবু সাঈদ হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চান আবু সাঈদের মা-বাবা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে কথা হয় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়রা বেগমের সঙ্গে। 

এ সময় আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেল ছইলটা মরি যাবার। এখন পর্যন্ত কারো ফাঁসি হইল না। হামরা দুই বুড়া-বুড়ি মরি যাবার আগত যেন ফাঁসি দেখবার পাই। এই জন্য সবাইকে হামাক এনা সহযোগিতা করবার নাগবে। সরকার যে কী করোছে জানি না। খালি খবরত শুনি বিচার হইবে হইবে। কোনদিন হইবে কেউ জানি না।’

তিনি বলেন, ‘কয়দিন সবাই বাড়িতে আসছিল। এখন কেউ কেউ খোঁজ নেয় না। যতদিন যাওছে, তত খোঁজখবর নেওয়া কমি যাওছে। মোর (আমার) বেটা এই দেশের জন্য জীবন দিল। এখন সবাই ভালো আছে, খালি বেটা (সাঈদ) নাই।’

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে তত আলোচনা কমে যাচ্ছে। এই বিচার কোন দিন হবে তা জানা নাই। রায় হয়েছে, ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আত্মার শান্তি হচ্ছে না। এখন আর খোঁজখবরও নেয় না অনেকে। নতুন নতুন সবাই খোঁজ নিয়েছে। সন্দেহ হচ্ছে দুই বছর পরে আবু সাঈদকেই ভুলে যাবে সবাই। সরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচারের রায় কার্যকর করে দিলেই আমরা শান্তি পাই।’

আবু সাঈদের বোন সুমি খাতুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আছি এখন পর্যন্ত ভাইয়ের কথা প্রতিদিনই মনে পড়ে। দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। বিচারের রায় হয়েছে; কিন্তু কার্যকর হয়নি। আবার যারা দণ্ডপ্রাপ্ত তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আমাদের পরিবার এটা নিয়ে চিন্তিত।’ ভাইয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি। 

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতন ও অন্যায়ের প্রতিবাদে পুলিশের গুলির সামনে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আবু সাঈদের বুকে বিবেকবর্জিত পুলিশের গুলি চালানোর সেই দৃশ্য দেখেছে বিশ্ববাসী। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার আত্মত্যাগ শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ, সামজিক সুবিচার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে রংপুরের রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আত্মাহুতি দেওয়া এক বৈপ্লবিক চরিত্র শহিদ আবু সাঈদ। কিন্তু দুই বছরে সেসব স্তরে উপেক্ষিত, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সরকারিভাবে তাকে স্মরণীয় করে রাখতে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছিল তা আজও দৃশ্যমান হয়নি।

আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রুহুল আমীন বলেন, ‘পরে কী হবে জানি না। আবু সাঈদের বাবা-মা বেঁচে থাকতেই যাদের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেই রায় কার্যকর করা হোক।’ 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়। জুলাই অভ্যুত্থানে তার যে অবদান এটি ভোলার নয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই তার নামে টুর্নামেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবছর আবু সাঈদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বর্তমান সরকার এই দিবসকে জুলাই শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। আবু সাঈদের নামে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হতে যাচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেগা প্রজেক্ট জমা দেওয়া হয়েছে। চারটি হলের মধ্যে একটি হলের নাম আবু সাঈদের নামে হবে। লাইব্রেরিতে আবু সাঈদ কর্নার তৈরি করা হয়েছে।

আবু সাঈদের হত্যাকারীদের মধ্যে দেশের বাইরে যারা সাজাপ্রাপ্ত আছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান তিনি। আবু সাঈদসহ অন্য যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, তাদের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করারও জোর দাবি জানান তিনি।

শাস্তি শেষে ক্লাসে ফিরেছেন অভিযুক্তরা

শহিদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৯ বিভাগের ৭১ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৩ জনকে এক সেমিস্টার ও ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে এক ও দুই সেমিস্টারের বহিষ্কারাদেশ শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই ক্লাসে ফিরেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর এবং শহিদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেরোবির ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ২ জন শিক্ষক, ৩৬ জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী, ৮ জন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। এ মামলায় ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তবে এ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন কর্মচারী ছাড়া ও এক ছাত্রলীগ নেতা ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে শাস্তি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্বাভাবিক ক্লাস কার্যক্রমে ফিরেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তথ্য অনুসন্ধান কমিটি ৭২ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তালিকা জমা দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড ২৩ জনকে এক সেমিস্টার এবং ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা অভিযোগ প্রত্যাহার করায় তাকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত ৭১ জনের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘শহিদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি অনেককে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের স্ফুলিঙ্গ ছিল শহিদ আবু সাঈদ। মৃত্যুর দুই বছর হতে চলেছে। অথচ এখনও তার বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ। সেই সঙ্গে আমরা জুলাইযোদ্ধারা শঙ্কিত নিরাপত্তা নিয়ে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘মামলার অনেক আসামিই গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর। পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয় যাদের একাডেমিক শাস্তি দিয়েছিল, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা ক্লাসে ফিরেছে।’

২০২৪ এ কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

টেকাথন ন্যাশনালস ২০২৬-এ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
টেকাথন ন্যাশনালস ২০২৬-এ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব
ছবি: সংগৃহীত

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’র আইইউটি রোবোটিক্স সোসাইটি আয়োজিত টেকাথন ন্যাশনালস অ্যান্ড রোভার সামিট ২০২৬ এ দুটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

প্রতিযোগিতার হ্যাকাথন বিভাগে টিম টুআর.জেএস চ্যাম্পিয়ন হয়। দলের সদস্যরা হলেন ফেরদৌস হাসান রাহিদ (সিএসই-৬৪), রুকাইয়া সুলতানা (সিএসই-৬৪), জিহাদুল ইসলাম (সিএসই-৬৪) এবং সানজিদা ইসলাম (সিএসই-৬৪)।

অন্যদিকে পোস্টার প্রেজেন্টেশন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম দি আউটলায়ার্স। এ দলের সদস্যরা হলেন আব্দুল্লাহ রহমান (সিএসই-৬২), সানজিদা ইসলাম (সিএসই-৬৪) এবং রুকাইয়া সুলতানা (সিএসই-৬৪)।

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিদের সঙ্গে অংশ নিয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, গবেষণামুখী সক্ষমতা এবং কার্যকর দলগত নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে নিজ নিজ বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ অর্জন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণাভিত্তিক পাঠদান এবং উদ্ভাবনমুখী শিক্ষার প্রতিফলন। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি শিক্ষা ও উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যতের একাডেমিক ও পেশাগত জীবনের সফলতা কামনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি/

বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কার লাভ করায় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতাকে সংবর্ধনা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কার লাভ করায় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতাকে সংবর্ধনা
লিডিং ইউনিভার্সিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস- ২০২৬ এ সম্মানিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি। 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের ঐতিহাসিক চলমন্ডলি রুম অ্যান্ড টেরেস, হাউস অব লর্ডসে অনুষ্ঠিত ব্যবসা, বিনোদন, সমাজসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, ফ্যাশন ও শিল্প-সংস্কৃতির অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের স্বীকৃতি উপলক্ষে আয়োজিত তৃতীয় বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সম্মানিত হওয়ায় ড. সৈয়দ রাগিব আলীকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ‍্যালারিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এ সময় ড. সৈয়দ রাগীব আলী লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধন‍্যবাদ জানিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। 

তিনি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করেই যেন বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন সেজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ বছরের অন্যতম বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন সম্মাননা লাভ করায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা ড. সৈয়দ রাগিব আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবকল‍্যাণমূলক কাজে ড. সৈয়দ রাগীব আলীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, তাই সমাজ ও দেশের উন্নয়নে শিক্ষার প্রসারকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অনকে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মেডিকেল কলেজ এবং দেশের স্বনামধন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়। 

তার এই সুদূরপ্রসারী চিন্তা, কর্মনিষ্ঠা সমাজ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে মানবসম্পদ তৈরির অঙ্গীকার তাকে দেশে এবং বিদেশে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। বিন্দু থেকে সিন্দু- ড. সৈয়দ রাগীব আলীর এই গৌরবময় জীবন ও কর্মের সফলতার ওপর শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারলে নিজের পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে। তার এই আলোকিত কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। 

পরিশেষে তিনি দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হওয়ায় লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষ থেকে গর্ববোধ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা কেবল বিশেষ ব‍্যক্তিগণই পেয়ে থাকেন উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর নেতৃত্ব ও তার মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড কেবল বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। 

লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদান তুলে ধরে আরো বক্তব্য প্রদান করেন, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, প্রক্টর ও ট‍্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম‍্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, ব‍্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ‍্যাপক মোসা. হালিমা বেগম, আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিসেস শাম্মী আক্তার, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জিয়াউর রহমান, স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ মহসিন আলী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অমিত চক্রবর্তী, ইলেকট্রিক‍্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. নিয়াজ মোর্শেদুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ। 

তাছাড়া সহযোগী অধ‍্যাপকদের মধ‍্য থেকে ব‍্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ‍্যাপক মো. শামিমুল ইসলাম, সহকারী অধ‍্যাপকদের মধ‍্যে ট‍্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম‍্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ‍্যাপক জোহরা জামিন জোহা এবং প্রভাষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আলী ওমর। 

বক্তব্যে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্মাননা প্রদান করার জন‍্য বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। 

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং অফিস প্রধানরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে প্রদান করা মানপত্র পাঠ করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কুলসুম মিলি। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীকে নিবেদন করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আইন বিভাগের সহকারী অধ‍্যাপক মো. রেজাউল করিম এবং ছড়া পাঠ করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সেকশন অফিসার (গবেষণা) মো. জসিম উদ্দিন। 

দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কার ছাড়াও অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন, তার মধ‍্যে শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতিসংসদ পুরস্কার ১৯৯৪, বাংলাদেশ জাতীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ পুরস্কার ১৯৯৭, বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি পুরস্কার ১৯৯৯, মাওলানা আকরাম খাঁ স্মৃতি পদক ১৯৯৮, অধ‍্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ শান্তিপদক উল্লেখযোগ্য। 

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ‍্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুনের পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ‍্যমে শুরু হওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর জীবন ও কর্মের উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। 

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. মামুনুর রশিদ। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন দপ্তর প্রদান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অমিয়/

জাবির বায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
জাবির বায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে
ছবি:খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ’ (C2AHR) ইউনিট তাদের নতুন গবেষণার মাধ্যমে অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। হংকং ও ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে যৌথভাবে করা এই গবেষণাটি স্থান পেয়েছে স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘পলিউশন’-এ।

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যু বাড়ছে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৮ জন করে। ফলে ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়ুদূষণ এখন আর শুধু ধোঁয়া-ধুলোর সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর জনস্বাস্থ্য সংকট এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জন মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন শুধু দূষিত বাতাসের কারণে। বছরে এ সংখ্যা পৌঁছেছে ৮৮ হাজার ২৪০ জনে।

দূষণের কারণে চিকিৎসা খরচ, কর্মক্ষমতা হ্রাস ও উৎপাদনশীলতা কমে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই অংক দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

গবেষকরা ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM 2.5) দূষণের কারণে মানুষ হৃদরোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বছরে অকাল মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭ হাজার ৫১৯ জন মারা যান হৃদরোগে। শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগে মারা যান ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জন।

শহরভিত্তিক চিত্র আরও ভয়াবহ। শুধু ঢাকাতেই বছরে মারা যান ৬৮ হাজার ৭০৩ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১১ হাজার ২০২ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭ জন, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ জন এবং বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জন।

গবেষণার প্রধান গবেষক ও জাবির পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ’আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশের সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রতিবছর ৮৮ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং জিডিপির ৫ শতাংশ ক্ষতি করছে। নীতিনির্ধারকদের জন্য এটা একটা জোরালো সতর্কবার্তা।’

নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোকে কেন বাদ রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ড. সাখাওয়াত বলেন, সরকারি কন্টিনিউয়াস এয়ার মনিটরিং স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ ডেটা শুধু এই ছয়টি শহরের পাওয়া গেছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে দূষণ সবচেয়ে বেশি, সেটা সত্যি।

তিনি আরও বলেন, গ্রামে রান্নার জ্বালানি দূষণের প্রধান উৎস হলেও শহরে এর উৎস বহুমুখী, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং বর্জ্য পোড়ানো উল্লেখযোগ্য। 

গবেষকরা মনে করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুর মানসংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করলে এই বিপুল ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য ধূলিকণা নির্গমন কমানো, নগরে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যত দেরি হবে, তত বেশি মানুষের জীবন ও দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/

চবি রেলস্টেশনে ছাত্রীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
চবি রেলস্টেশনে ছাত্রীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) রেলস্টেশনে শাটল ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক দোকান-কর্মচারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ক্লাস শেষে ওই ছাত্রী বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের শাটল ট্রেনের জন্য রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় শাহিন শেখ তার শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর সহপাঠীরা শাহিনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে খবর দেন।

অভিযুক্ত মো. শাহিন শেখ (২৫) নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকায় একটি খাবারের দোকানে কর্মচারী।

পরে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়। একই রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রী রেলওয়ে থানায় মামলা  করলে শাহিন শেখকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ’ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে থানার সঙ্গে আলোচনা করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হুদা বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে শাটল ট্রেনে ওঠার সময় এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।’

আল আরাফ/খাদিজা রুমি/