চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার প্রায় ৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ায় বেশ কয়েকদিন পাঠদান বন্ধ থাকার পর পুনরায় তা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
এসব বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় এখন বিদ্যালয় জুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। আবার অনেক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে পাঠদান শুরু হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তেমুহানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কাঞ্চনা, ইছামতি, ছমদারপাড়া, উত্তর রামপুর, ফকিরখীল, করাইয়ানগর, জনার কেঁওচিয়া, দক্ষিণ পুরানগড়, উত্তর জনার কেঁওচিয়া, দুরদুরি, দক্ষিণ কাঞ্চনা গুরগুরি, দক্ষিণ তুলাতলী, দক্ষিণ কেশুয়া নুরুল হোসাইন, চরতি, উত্তর ব্রাহ্মণডেঙ্গা, পশ্চিম আমিলাইশ, মধ্য চরতি, মরফলা, কাঠগড়, পূর্ব ছদাহা, বড়দুয়ারা, গারাংগিয়া আহমদিয়া, পূর্ব হোছননগর, মির্জাখীল, সোনাকানিয়া বণিকপাড়া, সোনাকানিয়া, আলীনগর শহীদ জামাল, দক্ষিণ গাটিয়াডেঙ্গা, উত্তর এওচিয়া, গারাংগিয়া সোনাকানিয়া, চৌধুরীপাড়া, রামপুর, পূর্ব ডলু, উত্তর গাটিয়াডেঙ্গা, মধ্য এওচিয়া, মধ্যম রামপুর, ওয়াহেদের পাড়া, উত্তর পূর্ব এওচিয়া, বাবুনগর, জনকল্যাণ আদর্শ, হিলিমিলি, ছদাহা, খোর্দ কেঁওচিয়া, দেওদীঘি, কেরানীহাট, মাদারবাড়ি নয়াপাড়া, চরখাগরিয়া, উত্তর কালিয়াইশ আদর্শ, পশ্চিম কাঠগড়, ছদাহা আবুল হোসেন মিয়া, বৈতরণি শহীদ সোলাইমান, মাহালিয়া পাড়া, পশ্চিম ধর্মপুর, ধর্মপুর কালাগাজী সিকদার, পূর্ব নলুয়া, খাগরিয়া গণিপাড়া, দক্ষিণ ধর্মপুর, মধ্য নলুয়া, খাগরিয়া মজিদেরপাড়া, পশ্চিম নলুয়া, উত্তর ধর্মপুর, কালিয়াইশ, পশ্চিম ডলু, কাঞ্চনা বালিকা, রুপনগর সুইপুরা, চরতি দিঘীরপাড়, মধ্য কাঞ্চনা, বকশীরখীল আদর্শ, সাতকানিয়া, তালগাও আল হেলাল, ইছামতিরকুল, আজিমপুর, রূপকানিয়া মডেল, পশ্চিম ঢেমশা, সাতকানিয়া টাউন, দক্ষিণ ঢেমশা খলিফাপাড়া, ঢেমশা, দক্ষিণ ছমদরপাড়া, গরিবারঝীল, ছিটুয়াপাড়া হাজী ঠান্ডা মিয়া, ঢেমশা বড়ুয়াপাড়া, ছৈয়দাবাদ, আশেকর পাড়া, ঢেমশা আলমগীর ও মধ্য রূপকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া পাড়া ও বড়দুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমে থাকা কাদা, আবর্জনা ও পলিমাটি অপসারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বেঞ্চ, শিক্ষাসামগ্রী, অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। বন্যার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বড়দুয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমা মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদানের অনুপযোগী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এখন পানি নেমে যাওয়ায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে শীঘ্রই পাঠদান শুরু করা হবে।
তেমুহানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলী লতা বড়ুয়া বলেন, আমাদের বিদ্যালয় থেকে এখনও পানি নামেনি। সেজন্য আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলার ১৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৬টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩টি বিদ্যালয় ব্যতিত অন্যান্যগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার করা হয়নি। আমরা এসব ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি।
আরিফুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/