ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানী কিয়েভ ও সমুদ্রবন্দরে রাশিয়ার হামলা উত্তরায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখে ফেরার পথে বাসচাপায় দুই সাংবাদিক নিহত ময়মনসিংহে অগ্রণী ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ প্রচারণায় মতবিনিময় সভা ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন স্কালোনি মার্কিন সামরিক অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখবে ইরান টুখেলের সমালোচনায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র মাগুরায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জাককানইবিতে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘একশ বস্তা চাল’ টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘অপারেশন লাইটনিং’ ইরানের কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করলেন স্পিকার বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের
ছবি: সংগৃৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস যেন বারবার একই নির্মম গল্প শোনায় ইংল্যান্ডকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় থ্রি লায়ন্সদের। আর এই পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোচ টমাস টুচেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল কৌশলনির্ভর এবং রক্ষণাত্মক। দুই দলই খুব কম সুযোগ তৈরি করতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ৪৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ০.০৫, আর আর্জেন্টিনার ০.০৩। মাঝমাঠের লড়াই ও শারীরিক দ্বৈরথই ছিল ম্যাচের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কিছু সময় আর্জেন্টিনাকে ছন্দহীন মনে হচ্ছিল। ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের শঙ্কায় তারা খুব বেশি খেলোয়াড় তুলে আক্রমণে যেতে পারছিল না। তাছাড়া দুই সেন্টার-ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হলুদ কার্ড নিয়ে খেলায় বাড়তি সতর্ক ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার পরিবর্তে ইংল্যান্ড নিজেদেরই রক্ষণাত্মক খোলসে বন্দি করে ফেলে।

টুচেলের সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র 

৭২তম মিনিটে টমাস টুখেল ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত নেন। গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে ডিফেন্ডার এজরি কনসাকে নামিয়ে ইংল্যান্ডকে পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগে সাজান। এর ফলে ইংল্যান্ড কার্যত নিজেদের অর্ধেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

৮২তম মিনিটে টুখেল আরও রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আনেন। রিশ জেমস ও ডেক্লান রাইসের জায়গায় ড্যান বার্ন ও নিকো ও'রাইলিকে নামিয়ে তিনি যেন স্পষ্ট করে দেন, দলের লক্ষ্য আর আক্রমণ নয়, কেবল লিড ধরে রাখা।

কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এমন কৌশল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটাই প্রমাণিত হয় শেষ কয়েক মিনিটে।
মেসির জাদু, আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন

৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া শর্ট কর্নার থেকেই সমতার গোলটি আসে। বক্সের বাইরে সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকা এনজো ফার্নান্দেসকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়ে এনজো দুর্দান্ত শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত। ডান প্রান্তে বল পেয়ে মেসি তার স্বভাবসুলভ নিখুঁত ক্রসে লাউতারো মার্তিনেসকে খুঁজে নেন। জন স্টোনসের নজর এড়িয়ে মার্তিনেস শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ২–১ গোলে এগিয়ে দেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

পরিসংখ্যানও বলছে একই গল্প

ওপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রাখতে পেরেছিল। অর্থাৎ গোল করার পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আর্জেন্টিনার হাতেই তুলে দেয় তারা।

ম্যাচ শেষে হতাশ অধিনায়ক হ্যারি কেনও দলের মানসিকতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১–০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা শুধু ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু লিড রক্ষা করার মানসিকতা কখনোই যথেষ্ট নয়।’

ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় এখন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সামনে রয়ে গেল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্ন এবং প্রশ্ন-রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কি তাদের আরেকটি সম্ভাব্য শিরোপা থেকে বঞ্চিত করল?

পাপ্পু/অন্তরা/

ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন স্কালোনি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন স্কালোনি
ছবি: সংগৃৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে নাটকীয়ভাবে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দলের অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, প্রতিপক্ষ যখনই দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই আর্জেন্টিনা সুযোগটি লুফে নিয়েছে।

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দলকে রক্ষণে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্কালোনির মতে, সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার হাতে চলে আসে।

২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার পর স্কালোনি বলেন, ‘এই দলটির সেরা রূপ তখনই দেখা যায়, যখন তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। প্রতিপক্ষ যখনই কিছুটা ইতস্তত করে, আমরা রক্তের স্বাদ পাই এবং তাদের ওপর চড়াও হই। আজও ঠিক সেটাই হয়েছে।’

ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে শেষদিকে ঘুরে দাঁড়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৮৫তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর ইনজুরি সময়ে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল পায় আলবিসেলেস্তেরা।

দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্কালোনি বলেন, ‘এটি আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য দারুণ আনন্দের মুহূর্ত। এই দলটি আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে। তারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না।’

ফাইনাল সম্পর্কে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘আমরা ফাইনালে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেব। এই ম্যাচের পর কাজ সহজ হবে না। তবে আমাদের এই দলটি সত্যিই বিশেষ।’

দলের প্রশংসা করে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা হেরে গেলেও আমি সন্তুষ্ট থাকতাম, কারণ খেলোয়াড়রা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা ছয়-সাতটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। ফুটবল শুধু সুন্দর খেলা নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করাও ফুটবলেরই অংশ।’

পাপ্পু/অন্তরা/

টুখেলের সমালোচনায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
টুখেলের সমালোচনায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তিরা
ছবি: সংগৃৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের।

অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করায় দলের কোচ থমাস টুখেল এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।

সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার এবং জো হার্ট ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে টুখেলের সিদ্ধান্তকেই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনির মতে, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবলারদের তুলে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এমন পরিবর্তন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে এবং পুরো দলকে রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য করে। রুনির ভাষ্যে, বড় দলের বিপক্ষে শুধু রক্ষণ সামলে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও টুখেলের কৌশলের সঙ্গে সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক দর্শনের মিল খুঁজে পান। তার মতে, বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার কারণে অতীতেও ইংল্যান্ডকে মূল্য দিতে হয়েছে, আর সেমিফাইনালেও সেই একই চিত্র দেখা গেছে। হার্টের দাবি, টুখেলের দ্রুত রক্ষণাত্মক পরিবর্তন প্রমাণ করে যে তিনি নিজের দলের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি।

এদিকে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারও টুখেলের ম্যাচ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ চলাকালেই বোঝা যাচ্ছিল ইংল্যান্ড অতি-রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছে।’ তার মতে, তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে এমন কৌশল কার্যকর হতে পারে, কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী ও বল দখলে দক্ষ দলের বিপক্ষে তা কখনোই সফল হওয়ার কথা নয়।

শিয়েরার আরও বলেন, ‘টুখেল খুব দ্রুত ম্যাচ ধরে রাখার মানসিকতায় চলে যান। আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার পর ইংল্যান্ড মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে।’ তার মতে, সেই সময় রক্ষণে গুটিয়ে না থেকে আক্রমণের গতি বাড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

পাপ্পু/অন্তরা/

টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
টমাস টুচেলের কৌশলগত ভুলে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের
ছবি: সংগৃৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস যেন বারবার একই নির্মম গল্প শোনায় ইংল্যান্ডকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় থ্রি লায়ন্সদের। আর এই পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোচ টমাস টুচেলের অতিরক্ষণাত্মক কৌশল।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল কৌশলনির্ভর এবং রক্ষণাত্মক। দুই দলই খুব কম সুযোগ তৈরি করতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ৪৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ০.০৫, আর আর্জেন্টিনার ০.০৩। মাঝমাঠের লড়াই ও শারীরিক দ্বৈরথই ছিল ম্যাচের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কিছু সময় আর্জেন্টিনাকে ছন্দহীন মনে হচ্ছিল। ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের শঙ্কায় তারা খুব বেশি খেলোয়াড় তুলে আক্রমণে যেতে পারছিল না। তাছাড়া দুই সেন্টার-ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হলুদ কার্ড নিয়ে খেলায় বাড়তি সতর্ক ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার পরিবর্তে ইংল্যান্ড নিজেদেরই রক্ষণাত্মক খোলসে বন্দি করে ফেলে।

টুচেলের সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র 

৭২তম মিনিটে টমাস টুখেল ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত নেন। গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে ডিফেন্ডার এজরি কনসাকে নামিয়ে ইংল্যান্ডকে পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগে সাজান। এর ফলে ইংল্যান্ড কার্যত নিজেদের অর্ধেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

৮২তম মিনিটে টুখেল আরও রক্ষণাত্মক পরিবর্তন আনেন। রিশ জেমস ও ডেক্লান রাইসের জায়গায় ড্যান বার্ন ও নিকো ও'রাইলিকে নামিয়ে তিনি যেন স্পষ্ট করে দেন, দলের লক্ষ্য আর আক্রমণ নয়, কেবল লিড ধরে রাখা।

কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে এমন কৌশল কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটাই প্রমাণিত হয় শেষ কয়েক মিনিটে।
মেসির জাদু, আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তন

৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া শর্ট কর্নার থেকেই সমতার গোলটি আসে। বক্সের বাইরে সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকা এনজো ফার্নান্দেসকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়ে এনজো দুর্দান্ত শটে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্ত। ডান প্রান্তে বল পেয়ে মেসি তার স্বভাবসুলভ নিখুঁত ক্রসে লাউতারো মার্তিনেসকে খুঁজে নেন। জন স্টোনসের নজর এড়িয়ে মার্তিনেস শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ২–১ গোলে এগিয়ে দেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

পরিসংখ্যানও বলছে একই গল্প

ওপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রাখতে পেরেছিল। অর্থাৎ গোল করার পর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আর্জেন্টিনার হাতেই তুলে দেয় তারা।

ম্যাচ শেষে হতাশ অধিনায়ক হ্যারি কেনও দলের মানসিকতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘১–০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা শুধু ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। এই পর্যায়ের ফুটবলে শুধু লিড রক্ষা করার মানসিকতা কখনোই যথেষ্ট নয়।’

ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় এখন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সামনে রয়ে গেল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্ন এবং প্রশ্ন-রক্ষণাত্মক কৌশলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কি তাদের আরেকটি সম্ভাব্য শিরোপা থেকে বঞ্চিত করল?

পাপ্পু/অন্তরা/

এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস
লাউতারো মার্তিনেস। ছবি: সংগৃৃহীত

ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। রুদ্ধশ্বাস এই সেমিফাইনালে জয়সূচক গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মার্তিনেস জানান, এমন একটি গোলের স্বপ্ন তিনি শৈশব থেকেই দেখে এসেছেন।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টি ওয়াইসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মার্তিনেস বলেন, ‘আমি সত্যিই জানি না কী বলব। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। বাবা যেদিন আমাকে প্রথম জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, সেদিন থেকেই আমি এমন একটি গোলের স্বপ্ন দেখে আসছি।’

নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানের কথাও তুলে ধরেন এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এই গোলটি আমার মায়ের জন্য। আমি রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়ার পরও তিনি আজ পর্যন্ত প্রতিদিন আমার বিছানা গুছিয়ে রাখেন। আমার কাছে এই ভালোবাসার মূল্য যেকোনো গোল বা ফাইনালের চেয়েও বেশি।’

চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন মার্তিনেস। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েও গোল করেছিলেন তিনি। এর আগে গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করেন আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার।

কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হলেও ব্যক্তিগতভাবে গোলের দেখা পাননি মার্তিনেস। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নেমেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই এই গোলের স্বপ্ন দেখেছিলাম। ম্যাচের আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে বলেছিলাম, আজ আমি গোল করব। মেদিনাকেও বলেছিলাম, মাঠে নেমে দলকে জিতিয়ে ফিরব।’

পাপ্পু/অন্তরা/

সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ এএম
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন আর্জেন্টিনার সোনালী অধ্যায়ের হয়তো এখানেই সমাপ্তি। কিন্তু সব সমালোচনা আর সংশয়কে উড়িয়ে দিয়ে আলবিসেলেস্তেরা আবারও টুর্নামেন্টের ফাইনালে। আর এই গৌরবময় অর্জনের পর সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তার মতে, আর্জেন্টিনার এই ধারাবাহিক সাফল্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা বা ভাগ্যের জোর নয়, বরং এটি তাদের কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতারই প্রমাণ।

মেসি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মানুষ পছন্দ করুক বা না-ই করুক, গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। কেউ আমাদের কিছু উপহার দেয়নি; সম্পূর্ণ নিজেদের যোগ্যতাতেই আমরা আজ এখানে এসেছি।’ 

ম্যাচ জয়ের পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজ যদি আমরা হেরে যেতাম, তাহলে অনেকে বাইরে এসে উল্টোপাল্টা কথা বলার সুযোগ পেত। আমরা তাদের সেই সুযোগ দিইনি। আমরা জানতাম ফুটবলীয় দিক থেকে আমরা ভালো দল, আর এই ম্যাচটি আমাদের জিততেই হতো।’

নিজের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে মেসি জানান, এবারের টুর্নামেন্টের জন্য তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে প্রায় এক বছর ধরে বিশেষ অনুশীলন করেছেন তিনি। গত কোপা আমেরিকায় চোটের কারণে শতভাগ ফিট না থাকলেও, এবার সর্বোচ্চ ফিটনেস নিয়েই মাঠে নেমেছেন বলে নিশ্চিত করেন এই ফুটবল জাদুকর।

সবশেষে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের তাৎপর্য তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এই জয় আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। দেশের বর্তমান কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মাঝে এই ফুটবলই মানুষকে কিছুটা হলেও আনন্দ ও স্বস্তি দেয়। আর সেই হাসিমুখগুলো দেখাই দলের অন্যতম বড় সার্থকতা।’

পাপ্পু/অন্তরা/