বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের।
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করায় দলের কোচ থমাস টুখেল এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।
সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার এবং জো হার্ট ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে টুখেলের সিদ্ধান্তকেই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনির মতে, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক ফুটবলারদের তুলে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এমন পরিবর্তন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে এবং পুরো দলকে রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য করে। রুনির ভাষ্যে, বড় দলের বিপক্ষে শুধু রক্ষণ সামলে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।
সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও টুখেলের কৌশলের সঙ্গে সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক দর্শনের মিল খুঁজে পান। তার মতে, বড় ম্যাচে এগিয়ে থাকার পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার কারণে অতীতেও ইংল্যান্ডকে মূল্য দিতে হয়েছে, আর সেমিফাইনালেও সেই একই চিত্র দেখা গেছে। হার্টের দাবি, টুখেলের দ্রুত রক্ষণাত্মক পরিবর্তন প্রমাণ করে যে তিনি নিজের দলের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি।
এদিকে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারও টুখেলের ম্যাচ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচ চলাকালেই বোঝা যাচ্ছিল ইংল্যান্ড অতি-রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছে।’ তার মতে, তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে এমন কৌশল কার্যকর হতে পারে, কিন্তু আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী ও বল দখলে দক্ষ দলের বিপক্ষে তা কখনোই সফল হওয়ার কথা নয়।
শিয়েরার আরও বলেন, ‘টুখেল খুব দ্রুত ম্যাচ ধরে রাখার মানসিকতায় চলে যান। আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার পর ইংল্যান্ড মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে।’ তার মতে, সেই সময় রক্ষণে গুটিয়ে না থেকে আক্রমণের গতি বাড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
পাপ্পু/অন্তরা/