ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বেঙ্গল ব্রিটিশ আইকন পুরস্কার লাভ করায় লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতাকে সংবর্ধনা মেসিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক মাস্কের মহাকাশ পরিকল্পনা নিয়ে অল্টম্যানের উপহাস অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ১০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াল আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ঢাকাকে গড়তে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল জাবির বায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে ত্রাণসহায়তা বৃদ্ধি ও টেকসই পদক্ষেপ নিন ইরানের তেল বাণিজ্যে ৫০ ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের মেসিকে আটকাতে যে পরিকল্পনা করেছেন টমাস টুখেল ম্যারাডোনা থেকে মেসি-হ্যারি কেইন: আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ৬০ বছরের ইতিহাস অতীত ভুলে ফাইনালে চোখ ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ওপরই বেশি চাপ: গেহি মানুষ যতটা খারাপ বলছে আর্জেন্টিনা ততটা খারাপ খেলছে না: স্কালোনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুন্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব: উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন চরভদ্রাসনে মেছো বিড়াল আটক, দেখতে জনতার ভিড় হারের পর কৌশলগত ও টেকনিক্যাল ভুলকে দায়ী করলেন এমবাপ্পে মার্কিন হামলার পঞ্চম দিনে ইরানে নিহত ২, আহত ২৬০ সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের অংশগ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঈশ্বরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ ব্যবসায়ীর জরিমানা চাকরি দেবে প্রাইম ব্যাংক চবি রেলস্টেশনে ছাত্রীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বিচারপতিকে গালিগালাজ মামলার বাদীর, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিশৃঙ্খলা ক্রিয়াভেঞ্চার ৪.০ এর গ্র্যান্ড ফিনালে: চ্যাম্পিয়ন ‘স্টার্টআপ গ্রিড’ এই মাসেই দুই লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা নাচোলে এআই দিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার শান্তিচুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল ইরান, হরমুজ নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দুর্ঘটনায় শুঁটকি ব্যবসায়ীর মৃত্যু পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ব্যাখ্যা দিলেন জয়সওয়াল পড়ে পাওয়া গল্পের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা

হারের পর কৌশলগত ও টেকনিক্যাল ভুলকে দায়ী করলেন এমবাপ্পে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
হারের পর কৌশলগত ও টেকনিক্যাল ভুলকে দায়ী করলেন এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে দলের কৌশলগত ও টেকনিক্যাল ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার মতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারাই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

ডালাসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের বিপক্ষে ছন্দ খুঁজে পায়নি ফ্রান্স। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও হতাশাজনক পারফরম্যান্সে বিদায় নিতে হয় 'লে ব্লুজ'দের।

ম্যাচ শেষে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম এমসিক্সকে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা যেমনটা চেয়েছিলাম, তেমন খেলতে পেরেছি। কৌশলগত, টেকনিক্যাল কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স—কোনো দিক থেকেই আমরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষকে উঁচু অঞ্চল থেকেই চাপে রাখা, যাতে তারা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন এমবাপ্পে। তার আট গোল ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে শেষ চারে স্পেনের সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে কার্যকর হতে পারেনি ফরাসি আক্রমণভাগ।

দলের মূল দুর্বলতা ছিল মধ্যমাঠে-এমনটাই মনে করেন এমবাপ্পে। তার মতে, আদ্রিয়েন রাবিও ও অরেলিয়েন চুয়ামেনি স্পেনের রদ্রি, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইসের বিপক্ষে সংখ্যাগত ও কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়েন।

এমবাপ্পে বলেন, ‘মধ্যমাঠে আমরা বারবার তিনজনের বিপক্ষে দুজন হয়ে যাচ্ছিলাম। স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এটি বড় সমস্যা। শেষ পর্যন্ত এই ভুলগুলোর মূল্যই আমাদের দিতে হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।’

পাপ্পু/অন্তরা/

মেসিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মেসিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বে একটি কথা প্রচলিত আছে লিওনেল মেসিকে উসকে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ অনেক সময় তার জবাব আসে মাঠের পারফরম্যান্সে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘারের মন্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার সামনে এনেছে।

ফুটবল বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা ক্যারাঘার প্রথমে মেসির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে মেসি একই মানের পারফরম্যান্স দিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাকে থামানোর কার্যকর উপায় এখনো কেউ খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে মেসিকে আটকানোর কৌশল নিয়ে তার মন্তব্যই তৈরি করেছে আলোচনা।

ক্যারাঘারের মতে, প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে মেসি অনেক সময় মাঠে হেঁটে বেড়ান। এই জায়গাটিকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তার দাবি, আর্জেন্টিনা রক্ষণে অনেকটা নয়জন আউটফিল্ড খেলোয়াড় নিয়ে খেলায়, যা ইংল্যান্ডের জন্য আক্রমণের সুযোগ এনে দিতে পারে।

ক্যারাঘারের এই বক্তব্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নেদারল্যান্ডসের কোচ লুই ফন গালের মন্তব্য। তিনিও বলেছিলেন, মেসি প্রতিপক্ষের কাছে বল থাকলে খুব বেশি ভূমিকা রাখেন না এবং সেখানেই তাদের সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সেই ম্যাচে মেসি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ম্যাচ শেষে ফন গালের মন্তব্যের জবাবও দেন নিজের ভঙ্গিতে। গোল উদযাপনের সময় ডাচ ডাগআউটের সামনে গিয়ে দুই কানের পেছনে হাত দিয়ে ‘তোপো জিজিও’ উদযাপন করেন তিনি।

এখন ক্যারাঘারের মন্তব্যের পর ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা-ইতিহাস কি আবারও ফিরে আসবে? মেসি কি আবারও সমালোচনার জবাব দেবেন মাঠের পারফরম্যান্সে? আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মহারণেই মিলবে সেই উত্তর।

পাপ্পু/অন্তরা/

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াল আর্জেন্টিনা সমর্থকরা

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়াল আর্জেন্টিনা সমর্থকরা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নিজেদের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার একদল সমর্থক। এতে উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আয়োজিত একটি পতাকা শোভাযাত্রায় বুয়েনস আইরেসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব সান লরেঞ্জো ও হুরাকানের উগ্র সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সান লরেঞ্জোর ‘লা বুটেলার’ এবং হুরাকানের ‘প্লাজা হোসে সি পাজ’-এর সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ সমর্থকেরা নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষে জড়িতরা একে অপরের দিকে কাঁচের বোতল, ডাস্টবিন, বেঞ্চ ও টেবিল ছুড়ে মারছেন। পরে আটলান্টা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অন্তত একজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার সাধারণ সমর্থকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল বৈরিতার কারণে ম্যাচটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। বরং শহরের বিভিন্ন স্থানে উভয় দেশের সমর্থকদের একসঙ্গে আড্ডা দিতে ও গান গাইতে দেখা গেছে।

প্রায় ৬৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ঘিরে প্রায় এক লাখ ফুটবলপ্রেমী আটলান্টায় জড়ো হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাপ্পু/অন্তরা

মেসিকে আটকাতে যে পরিকল্পনা করেছেন টমাস টুখেল

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
মেসিকে আটকাতে যে পরিকল্পনা করেছেন টমাস টুখেল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের রণকৌশল নিয়ে এক বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। এই ম্যাচে লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দী করতে ‘ম্যান-মার্কিং’  করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তিনি।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম-আমরা মেসিকে আটকানোর জন্য একদম পুরোনো ঘরানার ‘ম্যান-মার্কিং’ করতে পারি কিনা। তবে আমরা এই পরিকল্পনাটি মাঠে বাস্তবায়ন করব কিনা তা এখনও নিশ্চিত নই, তবে ভাবনাটি আমার মাথায় এসেছে। সবাই জানে মাঠের কোন জায়গাগুলোতে সে মূলত বল নিয়ে হাজির হতে পছন্দ করে। আপনি যখন তাদের খেলা বিশ্লেষণ করবেন, তখন আপনার মনে হবে সে মাঠের বাকি সবার চেয়ে অনেক আগেই পরিস্থিতি বুঝতে পারে।’

মেসির প্রশংসা করে টুখেল আরও বলেন, ‘বলটা যেন নিজে থেকেই তার কাছে চলে আসে, সে ঠিকই ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয় এবং বাঁ পায়ের শট নেওয়ার জন্য জায়গা তৈরি করে নেয়। এরপর সর্বোচ্চ নিখুঁতভাবে ফিনিশিং দেয়। আমরা অবশ্যই তাদের খেলার কিছু ধরন চিহ্নিত করেছি, তবে আমরা যদি সেই পথগুলো বন্ধও করে দিই, সে নতুন কোনো পথ খুঁজে নেবে বা তৈরি করবে। এটাই তার মূল শক্তি, সে এমনই অনন্য।’ 

চলমান বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন মেসি। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

পাপ্পু/অন্তরা/

ম্যারাডোনা থেকে মেসি-হ্যারি কেইন: আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ৬০ বছরের ইতিহাস

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ম্যারাডোনা থেকে মেসি-হ্যারি কেইন: আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ৬০ বছরের ইতিহাস
ছবি: এআই

ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই কখনোই শুধু ৯০ মিনিটের ম্যাচ ছিল না। এই দ্বৈরথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধ, রাজনীতি, ইতিহাস, জাতীয়তাবোধ এবং প্রতিশোধের গল্প। তাই দুই দলের মুখোমুখি লড়াই মানেই আবেগের পারদ চড়ে যাওয়া।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় নিঃসন্দেহে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। সেই গোলের জন্য কোনো দিন অনুতপ্ত ছিলেন না ম্যারাডোনা। বরং আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, শতাব্দীর সেরা গোলের চেয়েও ‘হ্যান্ড অব গড’ তার বেশি প্রিয়। কারণ, তার ভাষায়, ইংরেজদের চোখের সামনে গোলটি করেছিলেন, আর তারা কিছুই করতে পারেনি।

এই ঘটনার পেছনে ছিল আরও গভীর এক প্রেক্ষাপট। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যেখানে আর্জেন্টিনার পরাজয় জাতির মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। ম্যারাডোনা পরে বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচ ছিল যুদ্ধের প্রতীকী প্রতিশোধ। তার মতে, ফুটবল ও যুদ্ধকে পুরোপুরি আলাদা করে দেখার সুযোগ ছিল না।

দুই দেশের বৈরিতার শুরু আরও আগে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিন বিতর্কিত লাল কার্ড দেখেন। সেই ম্যাচে উত্তেজনা এতটাই চরমে ওঠে যে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি, কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ- সব মিলিয়ে তা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচে পরিণত হয়।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে নতুন নাটক যোগ করেন ডিয়েগো সিমিওনে ও ডেভিড বেকহাম। সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন বেকহাম, আর টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। চার বছর পর ২০০২ বিশ্বকাপে সেই হারের প্রতিশোধ নেন বেকহ্যাম। তার একমাত্র গোলে জিতে ইংল্যান্ড।

এরপর বিশ্বকাপে দুই দল আর মুখোমুখি না হলেও সমর্থকদের বৈরিতা থেমে থাকেনি। কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাস, আবার আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি বহন করা ‘মুচাচোস’ গান- সবই প্রমাণ করে, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের বাইরেও সমান তীব্র।

এই প্রজন্মে লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের নতুন মুখ। ম্যারাডোনার মতো ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ না হলেও, আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের ঐতিহ্য ও আবেগ তাদের কাঁধেও সমানভাবে বর্তায়।

তাই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই শুধু সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ওঠার হিসাব নয়- এটি এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা ছয় দশকের ইতিহাস, অসংখ্য বিতর্ক, কিংবদন্তি এবং জাতীয় গর্বকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে। ফুটবল এখানে শুধুই একটি খেলা নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের আবেগ ও ইতিহাসের প্রতিফলন। সূত্র: আনন্দবাজার

অতীত ভুলে ফাইনালে চোখ ইংল্যান্ডের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
অতীত ভুলে ফাইনালে চোখ ইংল্যান্ডের
ছবি: সংগৃহীত

মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও যেন বেশি কিছু! ফুটবল ইতিহাসের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার দ্বৈরথ নিয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের এই মহারণকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে বইছে টানটান উত্তেজনা। অতীতের অম্লমধুর স্মৃতি আর মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বৈরিতা ছাপিয়ে মাঠের ফুটবলকেই এবার প্রাধান্য দিচ্ছে থ্রি-লায়ন্সরা।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই বরাবরই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল কিংবা ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড-দুই দেশের লড়াইয়ে এমন বহু বিতর্কিত মুহূর্ত ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। এছাড়া ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের কারণে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়।

তবে এসব প্রসঙ্গকে মাঠের বাইরে রাখতে চান ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরিল কনসা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে হবে। অতীতের ইতিহাস নিয়ে বাড়তি আবেগ বা উত্তেজনায় ভেসে গেলে চলবে না। মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’

কোচ টমাস টুখেলকে ঘিরে হওয়া সমালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ। টুর্নামেন্টে মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের বাইরের আলোচনা থাকবে, কিন্তু সেগুলো সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’

আজকের ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে, তবে ১৯৬৬ সালের পর ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে তারা।

পাপ্পু/অন্তরা