ইরানের তেল বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি বিশাল নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেন শামখানির সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কটিকে সহায়তার অভিযোগে পঞ্চাশের অধিক ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার (১৫ জুলাই) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শামখানির এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর নেটওয়ার্কটি ইরানের তেল রপ্তানির পেছনে একটি প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ আমরা ৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তি, সংস্থা এবং জাহাজকে চিহ্নিত করেছি, সাধারণ ইরানি জনগণ যখন দুর্ভোগ পোহায়, তারা তখন শামখানি এবং ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে মুনাফা অর্জন অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে।’
মার্কিন প্রশাসন জানায়, শামখানি নেটওয়ার্কটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে চালানোর জন্য ইরানি ও বিদেশি নাগরিক এবং বেশ কিছু ফ্রন্ট বা শেল কোম্পানির একটি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে অফশোর শেল কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্য বাণিজ্য এবং সেই বাণিজ্যের লভ্যাংশ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে তার এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে এবং তাদের অর্থনৈতিক আয়ের উৎসগুলো বন্ধ করতে মার্কিন প্রশাসনের হাতে থাকা সমস্ত হাতিয়ার ব্যবহার করা হবে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল রপ্তানি এবং দেশটির অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
থিওটোনিয়াস/