ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন বরিশালে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার মাগুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দেশে ফিরলেন ১৭১ বাংলাদেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য শ্রীমঙ্গলে ওয়ালটন ক্যাবলসের বার্ষিক ডিলার কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য নয়: মির্জা ফখরুল স্পিডবোট রক্ষণাবেক্ষণের সময় নদীতে পড়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিখোঁজ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক চেক প্রতারণার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে হাঁটু পানিতে নিঝুমদ্বীপবাসী ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব: মাহাদী আমীন বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত নতুন উপজেলা ও পৌরসভার দাবিতে শৈলকুপায় মানববন্ধন

রক্ষক যখন ভক্ষক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
রক্ষক যখন ভক্ষক
ছবি এআই

আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম হলো আমাদের পরম বন্ধু, যা বাইরের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থেকে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু কেমন হবে যদি এই পরম বন্ধুই হঠাৎ শত্রুর মতো আচরণ শুরু করে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি জটিল অবস্থার নাম লুপাস। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে বসে। এর ফলে শরীরের ত্বক, জয়েন্ট, রক্ত এবং কিডনি, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি হয়।

লুপাসের প্রকারভেদ

চিকিৎসকরা লুপাসকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে থাকেন:

সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস: এটি লুপাসের সবচেয়ে সাধারণ রূপ। এর অর্থ হলো রোগটি কোনো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কিউটেনিয়াস লুপাস: এই ধরনে লুপাস কেবল মানুষের ত্বকে প্রভাব ফেলে, ভেতরের অন্য কোনো অঙ্গের ক্ষতি করে না।
ওষুধজনিত লুপাস: নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সাময়িকভাবে লুপাসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে ওই ওষুধ বন্ধ করে দিলে এটি সেরে যায়।
নবজাতকের লুপাস: এটি অত্যন্ত বিরল। লুপাস আক্রান্ত মায়ের গর্ভজাত সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মাতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না।

সাধারণ লক্ষণসমূহ

লুপাসের লক্ষণ একেক জনের শরীরে একেক রকম এবং ভিন্ন মাত্রায় দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলো সাধারণত স্থায়ী হয় না, বরং তরঙ্গের মতো আসে ও যায়। যখন রোগটি তীব্র আকার ধারণ করে তাকে ‘ফ্লেয়ার-আপ’ বলে, আর যখন লক্ষণ কমে যায় বা থাকে না, তাকে বলা হয় ‘রেমিশন’। 

সাধারণ লক্ষণগুলো হলো
জয়েন্ট, পেশি বা বুকে তীব্র ব্যথা (বিশেষ করে গভীর শ্বাস নেওয়ার সময়)।
গালে ও নাকে প্রজাপতির ডানার মতো লালচে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি।
অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথাব্যথা, জ্বর এবং চুল পড়া।
মুখের ভেতর ক্ষত বা ঘা, হাত-পা বা মুখ ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
রক্ত জমাট বাঁধা বা মানসিক বিভ্রান্তি।

সতর্কতা

দীর্ঘদিন এই রোগ শরীরে বাসা বেঁধে থাকলে চোখের শুষ্কতা, বিষন্নতা, অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা), অস্টিওপোরোসিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কেন হয় এবং কারা ঝুঁকিতে আছেন?

বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন যে ঠিক কী কারণে লুপাস হয়। তবে কিছু বিষয়কে এর জন্য দায়ী করা হয়, যেমন- জিনগত কারণ, হরমোনের তারতম্য (বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন), অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং অতিরিক্ত সূর্যালোক বা দূষণের মতো পরিবেশগত উপাদান। যেকোনো মানুষের লুপাস হতে পারে, তবে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারী এবং আফ্রিকান, হিস্পানিক ও এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে এর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

লুপাস নির্ণয় করা বেশ কঠিন। কারণ এর লক্ষণগুলো অন্য সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়। চিকিৎসকরা মূলত শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের বিশেষ এএনএ টেস্ট, ইউরিন টেস্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে ত্বক বা কিডনির বায়োপসি করার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করেন।

আপনার শরীরে যদি নতুন কোনো ব্যথা, ত্বকে র‌্যাশ বা কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করেন, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ আপনিই আপনার শরীরকে সবচেয়ে ভালো চেনেন। সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধের মাধ্যমে লুপাসের লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি সুন্দর ও সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

লেখক: চিকিৎসক ও গবেষক

জ্বর রোগ নয়, রোগের লক্ষণ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
জ্বর রোগ নয়, রোগের লক্ষণ
ছবি এআই

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে জ্বর বলা হয়। জ্বর আসলে কোনো রোগ নয়, বরং এটি রোগের একটি লক্ষণ বা উপসর্গ। ফলে জ্বর হওয়াকে শরীরের ভেতরের কোনো রোগের সতর্কবার্তা বলা যেতে পারে।
একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় তখন তাকে জ্বর বলা হয়। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলে সেটি অল্প জ্বর, এর চেয়ে বেশি হলে তীব্র জ্বর।
শরীরের ভেতরে যখন কোনো জীবাণু আক্রমণ করে, সেটা ঠেকাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন কোষ থেকে পাইরোজেন নামক এক ধরনের পদার্থ নিঃসরণ করে। এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। তাই এ সময় তাপমাত্রা বেড়ে জ্বরের অনুভূতি হয়।

জ্বর কেন হয়?

অনেকগুলো কারণে জ্বর হতে পারে। 
সংক্রমণ: যেমন ভাইরাস ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ব্যাকটেরিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি।
প্রোটোজোয়া: ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর।
অটো ইমিউন ডিজিজ যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এসএলই।
যেকোনো ধরনের ক্যানসারের কারণেও জ্বর হতে পারে। যেমন–লিম্ফোমা, লিউকেমিয়া, লিভার ক্যানসার।
আকস্মিক ভয় বা মানসিক আঘাত পেলে জ্বর হতে পারে।

কিছু পরামর্শ

যে কারণেই জ্বর হোক, চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিরাপদ রাখতে কিছু পরামর্শ–
ঘুম বা বিশ্রামে থাকা।
প্রচুর তরল পানীয় পান করা।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
উষ্ণ পরিবেশে থাকা।
জ্বর ১০১ ডিগ্রির বেশি হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। সঙ্গে ভেজা কাপড় দিয়ে মাথা ও সব শরীর মুছে দিতে হবে। 

জ্বর হলে কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

উল্লেখযোগ্য কিছু কিছু লক্ষণ দেখামাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যেমন–
জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট কিংবা ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা তার বেশি যা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং জ্বর কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল খাওয়ানোর পর কমে না।
তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে।
শ্বাসকষ্ট ও বুক ব্যথা। 
মানসিক বিভ্রান্তি, অদ্ভুত আচরণ কিংবা প্রলাপ বকা।
খিঁচুনি হলে।
ক্রমাগত বমি করা।
পেট ব্যথা।
ত্বকে ফুসকুড়ি বের হওয়া।
প্রস্রাব করার সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া।
উজ্জ্বল আলোতে সংবেদনশীলতা।
পানিশূন্যতা।
রাতে ঘাম হওয়া, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
কাশির সঙ্গে হলুদ, সবুজ কিংবা রক্তযুক্ত কফ।
অতি সম্প্রতি বিদেশ সফর থেকে এসে জ্বরে আক্রান্ত হওয়া।
দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার, লিভারের সমস্যা। 
সর্বোপরি ডেঙ্গু মৌসুমে যদি গা ব্যথা, মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর হয় তাহলে অবশ্যই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ডেঙ্গু টেস্ট করতে হবে। 
উচ্চমাত্রার জ্বর বা হাইপারপাইরেক্সিয়া শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে ওঠে যায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসক কী করবেন?

রোগীর ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর রোগ সম্পর্কে ধারণা করবেন। কিছু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। কিছু রোগী বহির্বিভাগে/চেম্বারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগ নির্ণয় সাপেক্ষে যথাযথ চিকিৎসা দেবেন।

জ্বর হলে যা করা উচিত নয়

জ্বর কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ যেমন ন্যাপরোক্স, ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার করা যাবে না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না।

পরামর্শ: জ্বর একটি লক্ষণ মাত্র, রোগ নয়। জ্বরের মূল কারণ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা খুবই জরুরি।

লেখকের চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয়

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয়
পরীক্ষার জন্য রক্ত নেয়া হচ্ছে।

শরীরের নানা ধরনের সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা প্রায়ই রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু অনেক মানুষ আছেন, যারা রক্ত নেওয়ার কথা শুনলেই ভয় পেয়ে যান। কেউ সুচ দেখে আতঙ্কিত হন, কেউ আবার মনে করেন এতে অনেক ব্যথা হবে বা শরীরের ক্ষতি হতে পারে। বাস্তবে এসব ধারণার বেশির ভাগই ভুল। একটু সাহস আর সঠিক তথ্য জানলে এই ভয় সহজেই দূর করা সম্ভব। 
রক্ত পরীক্ষা হলো শরীরের ভেতরের অবস্থা জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শরীরে রক্তের পরিমাণ অনেক বেশি। পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়, তা খুবই সামান্য। এত অল্প রক্ত নেওয়ায় শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। শরীর খুব দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ করে নেয়।
রক্ত নেওয়ার সময় সাধারণত হাতে একটি শিরা বেছে নেওয়া হয়। এরপর একটি জীবাণুমুক্ত সুচের সাহায্যে অল্প পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পুরো কাজটি শেষ হতে সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি সময় লাগে না। সুচ ঢোকানোর সময় হালকা চিমটি লাগার মতো অনুভূতি হতে পারে। তবে এই অস্বস্তি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে এবং বেশির ভাগ মানুষই সহজে তা সহ্য করতে পারেন।
অনেকের ভয় হয়, রক্ত নেওয়ার সময় প্রচুর ব্যথা লাগবে। কিন্তু বাস্তবে ব্যথা খুবই সামান্য। আবার অনেকের ধারণা, রক্ত নেওয়ার পর শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। এটিও সঠিক নয়। কারণ, পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়, তা শরীরের মোট রক্তের তুলনায় খুবই কম। তাই সাধারণভাবে সুস্থ একজন মানুষের দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে না।


কিছু মানুষের রক্ত নেওয়ার সময় মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি লাগতে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো ভয়, দুশ্চিন্তা বা খালি পেটে থাকা। তাই পরীক্ষা করানোর আগে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার খাওয়া বা না খাওয়ার নিয়ম মেনে চলা উচিত। রক্ত দেওয়ার সময় গভীর ও ধীরে ধীরে শ্বাস নিলে মন শান্ত থাকে। সুচের দিকে না তাকিয়ে অন্যদিকে মনোযোগ রাখলেও ভয় অনেকটাই কমে যায়। প্রয়োজনে আগে থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীকে নিজের ভয় বা অস্বস্তির কথা জানাতে পারেন। তারা আপনাকে স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
শিশুদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। অনেক সময় বড়দের ভয় দেখেই শিশুরাও ভয় পেয়ে যায়। তাই শিশুদের সামনে আতঙ্কিত না হয়ে তাদের সহজ ভাষায় বোঝানো উচিত যে, এটি তাদের সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ছোট পরীক্ষা। অভিভাবকের শান্ত আচরণ শিশুর মনেও সাহস জোগায়।
মনে রাখতে হবে, অনেক রোগের শুরুতে শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেসব সমস্যা আগেভাগেই ধরা পড়ে। ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় এবং জটিলতা কমে। তাই অযথা ভয় পেয়ে পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া নিজের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
রক্ত নেওয়ার পর যে জায়গা থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, সেখানে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রাখতে হয়। এতে রক্তপাত দ্রুত বন্ধ হয় এবং কালচে দাগ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। এরপর স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কাজ করা যায়। তবে যদি কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা, ফোলা বা দীর্ঘ সময় রক্তপাত হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিজের সুস্থতা রক্ষা করার জন্য রক্ত পরীক্ষা একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কয়েক মুহূর্তের সামান্য অস্বস্তির বিনিময়ে শরীরের মূল্যবান তথ্য জানা যায়, যা সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তাই ভয়কে নয়, গুরুত্ব দিন নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি। মনে সাহস রাখুন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর আস্থা রাখুন। আজকের ছোট্ট এই পদক্ষেপই আগামী দিনের সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের ভিত্তি হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধারণা দিচ্ছে ডক্টরস২৪
ডক্টরস২৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যতথ্য ও চিকিৎসক খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং তথ্যনির্ভর করতে এআই-সমর্থিত নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য ও ডাক্তার খোঁজার প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস২৪

‘সুস্বাস্থ্যের সহযাত্রী’ স্লোগানে নতুনভাবে চালু হওয়া প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডক্টরস২৪-এ ৫ হাজারের বেশি চিকিৎসকের প্রোফাইল এবং ৩৫০টির বেশি হাসপাতালের তথ্য রয়েছে। ব্যবহারকারীরা চিকিৎসকের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, চেম্বারের সময়সূচি, হাসপাতালের তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা- বিষয়ক নিবন্ধ এবং ভিডিও এই প্ল্যাটফর্মে দেখতে পারেন।

তথ্য অনুসন্ধান আরও সহজ করতে প্ল্যাটফর্মটির প্রতিটি চিকিৎসক প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়েছে এআই ডক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট। এই সুবিধা চিকিৎসক, হাসপাতাল এবং সাধারণ স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সহায়তা করে। তবে এটি কোনো রোগ নির্ণয়, প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসা পরামর্শ দেয় না; বরং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

ডক্টরস২৪-এর চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির লক্ষ্য চিকিৎসকের বিকল্প হওয়া নয়; বরং মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। আমরা প্রযুক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করছি, যাতে মানুষ সহজে সঠিক চিকিৎসক, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য খুঁজে পেতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তথ্যের সহজপ্রাপ্যতার ওপর। সেই লক্ষ্যেই আমরা চিকিৎসক, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যতথ্যকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই-সমর্থিত সুবিধা, নতুন চিকিৎসকের প্রোফাইল, হাসপাতালের তথ্য এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্ট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

ডক্টরস২৪ সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে প্ল্যাটফর্মটির তথ্যভান্ডার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা যুক্ত করা হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা আরও দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য খুঁজে পেতে পারেন।

ডক্টরস২৪ বাংলাদেশের একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্যতথ্য ও ডাক্তার খোঁজার প্ল্যাটফর্ম। চিকিৎসক, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে তথ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করাই প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://doctors24.bd/

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কার্যকারিতা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কার্যকারিতা
যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

ফ্যাটি লিভার (মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ–এমএএসএলডি) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা একটি নীরব রোগ। বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। অনেকেই জানতে চান, ‘ফ্যাটি লিভারের কি কোনো কার্যকর ওষুধ আছে?’ বাস্তবতা হলো, ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় জীবনযাত্রার পরিবর্তনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর ওষুধের ভূমিকা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভার কী?

যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। আগে একে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) বলা হলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে এমএএসএলডি নামে উল্লেখ করা হয়। এ রোগের কিছু রোগীর লিভারে শুধু চর্বি জমে থাকে, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, এমনকি সিরোসিসও হতে পারে।

কেন ফ্যাটি লিভার হয়?

ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণগুলো হলো অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা। এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও জাংকফুড, কিছু ওষুধ এবং অ্যালকোহল সেবনের কারণে হয়ে থাকে।

চিকিৎসার মূল ভিত্তি

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলো হলো ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালকোহল পরিহার।
গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের চর্বি, প্রদাহ ও ফাইব্রোসিস উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রে ‘ওজন কমানো’ নিজেই সবচেয়ে শক্তিশালী চিকিৎসা।

তাহলে ওষুধের ভূমিকা কোথায়?

বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের জন্য সব রোগীর ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর ও সর্বজনস্বীকৃত কোনো ম্যাজিক ওষুধ নেই। তবে নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ উপকারী হতে পারে।


১. ভিটামিন-ই
কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে ভিটামিন-ই লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যাদের নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো-হেপাটাইটিস (এনএএসএইচ) রয়েছে এবং ডায়াবেটিস নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিছু ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

 

২. পায়োগ্লিটাজোন
ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকা রোগীদের কিছু ক্ষেত্রে এ ওষুধ উপকার দিতে পারে। এটি লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে ওজন বৃদ্ধি, শরীরে পানি জমা বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে সবার জন্য উপযুক্ত নয়।

৩. জিএলপি ওয়ান রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট
ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু আধুনিক ওষুধ, যেমন–সেমাগ্লুটাইড, ওজন কমানোর মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারে উপকার দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এদের সম্ভাবনা দেখা গেলেও এখনো সব রোগীর জন্য রুটিন চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

৪. এসজিএলটি২ ইনহিবিটর
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা চলছে।

৫. আর্সোডিঅক্সিকোলিক অ্যাসিড
অনেক রোগী ফ্যাটি লিভারের জন্য আর্সোডিঅক্সিকোলিক অ্যাসিড গ্রহণ করেন। কিন্তু সাধারণ ফ্যাটি লিভারে এর কার্যকারিতা সীমিত এবং এটি মূল চিকিৎসা নয়।

৬. রেসমেটিরম
রেসমেটিরম সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত একটি নতুন ওষুধ। এটি বিশেষভাবে থাইরয়েড হরমোন রিসেপ্টর বিটা (THR-β) অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে এবং লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়তা করে।
রেসমেটিরম মূলত লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে, ফাইব্রোসিসের অগ্রগতি ধীর করতে পারে এবং লিপিড প্রোফাইলেরও কিছু উন্নতি করতে পারে।
সাধারণ ফ্যাটি লিভারের সব রোগীর জন্য এ ওষুধ প্রয়োজন হয় না। সাধারণত বায়োপসি পরীক্ষায় এমএএসএইচ/এনএএসএইচ নিশ্চিত হলে অথবা ফাইব্রোসিস থাকলে কিংবা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরও ঝুঁকি বেশি থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এটি বিবেচনা করা হয়।
যদিও রেসমেটিরম নতুন আশার সৃষ্টি করেছে, তবু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। অন্যদিকে এটি একটি ব্যয়বহুল ওষুধ। এটির ব্যবহারে নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন হয় এবং এটি জীবনযাত্রার পরিবর্তনের বিকল্প নয়। অর্থাৎ, রেসমেটিরম ব্যবহার করলেও রোগীকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, ফ্যাটি লিভারের মূল চিকিৎসা এখনো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই।

লিভার টনিক ও হারবাল ওষুধ কতটা নিরাপদ?

বাজারে প্রচলিত অনেক হারবাল বা লিভার পরিষ্কার জাতীয় ওষুধের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দুর্বল। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো উল্টো লিভারের ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভেষজ বা অপ্রমাণিত ওষুধ গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ।

কেন শুধু ওষুধ যথেষ্ট নয়?

ফ্যাটি লিভারের মূল সমস্যা হলো মেটাবোলিক ডিসফাংশন বা বিপাকীয় অসামঞ্জস্য। তাই কেবল একটি ট্যাবলেট দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। রোগী যদি অতিরিক্ত ওজন বহন করেন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ করেন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করেন, তাহলে শুধু ওষুধে দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফল পাওয়া কঠিন।

কোন রোগীদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে?

উল্লেখিত রোগীদের দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন–ডায়াবেটিস রোগী, স্থূল ব্যক্তি, লিভার এনজাইম দীর্ঘদিন বেশি, ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের ঝুঁকি, ফাইব্রোস্ক্যানে অগ্রসর রোগের ইঙ্গিত এবং পরিবারে লিভার রোগের ইতিহাস।

ভবিষ্যৎ চিকিৎসা

বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের জন্য নতুন নতুন ওষুধ নিয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে আরও কার্যকর চিকিৎসা আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রমাণভিত্তিক ও কার্যকর চিকিৎসা হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ।

উপসংহার

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কিছু ভূমিকা থাকলেও এটি কোনো ‘শুধু ওষুধে ভালো হয়ে যাওয়ার’ রোগ নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এ রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। 

লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগ, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু
ছবি:এআই

জন্মগতভাবে বহিঃকর্ণ ও কর্ণনালী ছাড়াই জন্ম নেওয়া ৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কন্যাশিশুর সফল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট সম্পন্ন হয়েছে কলকাতার সিএমআরআই সিকে বিড়লা হাসপাতালে। আধুনিক এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি প্রথমবারের মতো স্বাভাবিকভাবে শুনতে পারার ক্ষমতা পাচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অন্তঃকর্ণ স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও বহিঃকর্ণ, কর্ণনালী এবং কানের পর্দা না থাকায় শব্দ অন্তঃকর্ণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছিল না। ফলে সে সম্পূর্ণরূপে শ্রবণ শক্তিহীন ছিল। গত সপ্তাহে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির হাড়ের নিচে একটি চৌম্বকীয় অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্ট বসানো হয়। ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে উঠলে প্রায় তিন সপ্তাহ পর একটি বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে, যা চারপাশের শব্দ সংগ্রহ করে অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্টে পাঠাবে এবং সেখান থেকে শব্দের কম্পন সরাসরি অন্তঃকর্ণে পৌঁছে যাবে।

অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন, হাসপাতালের ওটোলজিস্ট ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন ডা. এনভিকে মোহন।

তিনি জানান, এটি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট নয়, বরং এমন রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের অন্তঃকর্ণ সুস্থ থাকলেও শব্দ পরিবহনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত থাকে।

তিনি আরও জানান, শিশুটির কর্ণনালী পুনর্গঠন সম্ভব হলেও তাতে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো এবং সফলতার নিশ্চয়তা কম ছিল। তাই চিকিৎসক দল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্টকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বেছে নেন।

চিকিৎসকদের মতে, বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসরটি একটি ছোট চৌম্বকীয় ডিভাইসের মতো, যা সহজেই খুলে রাখা যায়। গোসল, ঘুম বা প্রয়োজন অনুযায়ী এটি খুলে রাখা সম্ভব। শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবিষ্যতে শিশুটির বহিঃকর্ণ পুনর্গঠন বা কৃত্রিম কান প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর পুনরায় হাসপাতালে এনে বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তার শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

রবিউল/নাঈম